রাজনগরের কামারচাকে সাবেক শিবির নেতা পেলেন নৌকা

মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে সাবেক ছাত্রশিবির নেতাকে। নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট যুদ্ধে অংশ নেবেন তিনি। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ছাত্র শিবিরের প্রাক্তন নেতা হিসেবে পরিচিত বর্তমান চেয়ারম্যান মো. নজমুল হক সেলিম নিজেকে আওয়ামী লীগের নেতা বলে দাবি করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ থেকে গত ২৩ নভেম্বর মনোনয়ন প্রদান করা হয় বর্তমান চেয়ারম্যান নজমুল হক সেলিমকে। পরবর্তীতে ২৪ নভেম্বর তাকে পরিবর্তন করে দলীয়ভাবে মনোনয়ন প্রদান করা হয় আতাউর রহমানকে। ২৫ নভেম্বর আবারও সে মনোনয়ন পরিবর্তন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষরিত দলীয় মনোনয়ন প্রদান করা হয় নজমুল হক সেলিমকে। এ নিয়ে কামারচাক ইউনিয়নে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, বর্তমান চেয়ারম্যান মো. নাজমুল হক সেলিম ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বাবা সুন্দর আলী ও চাচা ফয়জুর হক সিদ্দিকী জামায়াতে নিয়মিত চাঁদা প্রদান করতে। পুরো পরিবারই জামায়াতের সক্রিয় সমর্থক। এই পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড কাজে লাগিয়ে নজমুল হক সেলিম ২০০১ সালে বিএনপিতে জড়িয়ে পড়েন। এসময় তিনি প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ছেলে সাবেক এমপি এম নাছের রহমানের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশও নেন। এছাড়াও এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় নাসের রহমানও সেলিমকে তার সহযোগী হিসেবে নেন।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সেলিম ভুল পাল্টান। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে একটি পদও বাগিয়ে নেন। বর্তমানে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের মৌলভীবাজার জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে আছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় জামায়াত আয়োজিত বিভিন্ন তাফসির মাহফিল, সরকার বিরোধী আন্দোলনে জামায়াতকে সহযোগিতাও করেন। এমন একাধিক অভিযোগ নানাভাবে আলোচিত হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক জামায়াত নেতা জানান, সেলিম ছোটবেলা থেকে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে জামায়াত ক্যাডার ভিত্তিক সংগঠন হওয়াতে তার ভাগ্যে কোনো পদপদবী জোটেনি। তাই ২০০১ সালে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তবে সবসময় জামায়াতকে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করতেন। ওই জামায়াত নেতা দাবি করেন, সেলিম আওয়ামী লীগ করলেও স্থানীয় জামায়াতের অভিভাবক। রাজনগর থানায়ও তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।

স্থানীয় বিশ্বস্থ একটি সূত্র জানায়, কুমিল্লার একটি মন্দিরে দুর্গা পূজা চলাকালীন কোরআন অবমাননার অভিযোগের প্রেক্ষিতে কামারচাক ইউনিয়নের তারাপাশা বাজারে গত ১৪ অক্টোবর বেলা সোয়া ২টায় উপজেলা ছাত্রসেনার উদ্যোগে এক বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এতে নেতৃত্ব দেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নজমুল হক সেলিম। এঘটনায় গত ১৬ অক্টোবর রাজনগর থানার ওসি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার বরাবরে আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদন প্রেরণ করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনের সত্যতা স্বীকার করে রাজনগর থানার ওসি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, কামারচাক ইউপি চেয়ারম্যান নজমুল হক সেলিমের বিরুদ্ধে একটি মামলা তদন্তাধীন আছে। কামারচাক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি মো. আব্দুল মন্নাফ বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই নজমুল হক সেলিম ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিল। আ’লীগের কতিপয় নেতার ছত্রছায়ায় সে বিগত নির্বাচনে আ’লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। কিন্তু তার জামায়াত প্রীতি এখনো যায়নি। তিনি আরও বলেন, এবারে হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গা উৎসবের সময় কুমিল্লার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছেন নজমুল হক সেলিম।

আ’লীগের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী মৌলভীবাজার জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মো. আব্দুর রব বলেন, ছোট বেলা থেকে আমরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। বর্তমানে আওয়ামী লীগ নামধারী সেলিম সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ছেলে নাসের রহমানের ইশারায় তাকে অনেকবার হুমকিও দিয়েছিল। এ ভয়ে তিনি গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করেন। আল্লাহ বিচারের মালিক। আমার সিভি গোপন করা হয়। তাজুদের নামাজ পড়ে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করেছি ওহ মহান বিচারের মালিক।

এদিকে নজমুল হক সেলিম আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্ত হওয়ায় তৃণমূল নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে অভিযুক্ত নজমুল হক সেলিমের মোবাইল ফোনে বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

প্রসঙ্গত, আগামী ২৬ ডিসেম্বর চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ডেইলিরুপান্তর/আবির

  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ