তাহিরপুরে ইউপি উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে ভিজিডি কার্ডের চাউল আত্মসাতের অভিযোগ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়দল দক্ষিন ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা সালেহ্ আহমদ (ওরফে) সালে আমিনের বিরুদ্ধে তিন সন্তানের জননীর ভিজিডি কার্ডের চাউল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২২ নভেম্বর) ভিজিডি কার্ডের চাউল আত্মসাতের অভিযোগ এনে, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট ১ নং ওয়ার্ডের নালের বন্ধ গ্রামের তিন সন্তানের জননী তহুরা বেগম নামের এক ভুক্তভুগি মহিলা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

লিখিত অভিযোগ পত্রে তিন সন্তানের জননী তহুরা বেগম উল্লেখ করেন, গত তিন বছর আগে চিকিৎসার অভাবে আমার স্বামী আল-আমিন মারা যান। এমত অবস্থায় সন্তানদের নিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পরে। পরবর্তিতে ইউপি চেয়ারম্যানের লোকের মাধ্যমে একটি ভিজিডি কার্ড তালিকা ভুক্ত করি। সবার ভিজিডি কার্ড হাতে পেলেও আমার ভিজিডি কার্ড পাইনি। পরে ইউপি উদ্যোক্তা সালে আমিনের নিকট ভিজিডি কার্ডের জন্য যোগাযোগ করা হলে তিনি আমাকে বলেন,“আমার ভিজিডি কার্ড হয় নাই”। তখন আমি সালে আমিনকে বলি, ‘আমি স্বামী হারা অসহায় নারী।পেটের ভাত জোগার করবো না আমি আমার ভিজিডি কার্ডের খোঁজ নিব’এ কথা বলে চলে আসি।’

এক পর্যায়ে ওই ভুক্তভুগি মহিলা গোপন সুত্রে জানতে পারেন-তহুরা বেগম নামের চলতি বছরের (৪৩নং) ভিজিডি কার্ডের চাউল উত্তোল করছেন দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা সালে আমিন।

‘ভুক্তভুগি মহিলা বলেন, আমি জানতে পেরেছি চলতি বছরের আমার নামের ভিজিডি কার্ড দিয়ে সালে আমিন চাউল উত্তোলন করছে।আমি গতকাল সোমবার (ইউএনও) স্যারের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ করেছি। আমি অসহায় একজন নারী।আমি আপনাদের  সহযোগিতা চাই।’

এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানাযায়,অভিযোগ কারী মহিলা তহুরা বেগম করোনা কালো  ভৈরব ছিলেন। এমসয় তিনি বাড়িতে না আসতে পারায় চতুর্ভুজ গ্রামের হত দরিদ্র মহিলা রাশেদা বেগমের নিটক অর্থের মাধ্যমে ভিজিডি কার্ডটি হস্তান্তর করেন।

এ বিষয়ে ইউপি উদ্যোক্তা সালে আমিন বলেন, এটি সম্পুর্ন মিথ্যা বানোয়াট আমি যদি এক বছর ধরে ওই মহিলার নামে চাউল উত্তোলন করতাম তাহলে ইউপির সবাই জানতে পারতেন।,

ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আজহার আলী বলেন, আমি এ বিষয়টি পরিষদে এসে জানতে পেরেছি।

ইউপি সচিব মো.লিটন মিয়া বলেন,আমি প্রথম দুই মাস উপকারভোগিদের আইডি কার্ড সহ প্রত্যেকের নিজ হাতে ভিজিডি কার্ডের চাউল পৌঁছে দিয়েছি। কোন রকম দুর্নীতি বা অনিয়ম হতে দেইনি।তবে এই বিষয়টি আমি শুনেছি। (ইউএনও) স্যারের নিটক লিখিত অভিযোগ গেছে তিনিই এর সত্যমিথ্যা যাচাই করবেন।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. রায়হান কবির লিখিত অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমি অভিযোগ পত্র হাতে পেয়েছি। ভুক্তভুগি মহিলা ও ইউপি উদ্যোক্তাকে একত্রে ডেকে এনে এই বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/এম.

  • 53
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ