সিলেটে ছাত্র ইউনিয়ন দ্বিধাবিভক্ত, আভ্যন্তরীণ কোন্দল তুঙ্গে ওরা ছাত্র ইউনিয়নের কেউ নাঃ মনীষা

আহবায়ক কমিটি ভূয়া: নাবিল এইচ

সিলেটে প্রাচীনতম ও প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে। এক গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন মনীষা ওয়াহিদ,অপর গ্রুপে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সরোজ কান্তি ও নাবিল এইচ।বেশ কিছু দিন থেকে সিলেটে ছাত্র ইউনিয়নের কমিটি গঠন নিয়ে বিভ্রান্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

জানা যায়, কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক দীপক শীলের নিষ্ক্রিয়তা, স্বৈরাচারী আচরণ ও আদর্শহীন বিভিন্ন কর্মকান্ডের অভিযোগে ছাত্র ইউনিয়ন বিভক্ত হয়ে পড়ে। প্রতিবাদী গ্রুপ প্রথমে ফয়েজ উল্লা কে সভাপতি রেখেই কমিটি গঠন করলেও পরবর্তীতে নজির আমিন চৌধুরী জয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন।এ অংশের কমিটির সাধারণ সম্পাদক হন রাগীব নাঈম।সোস্যাল মিডিয়ায় ছাত্র ইউনিয়নের নেতা কর্মীরা একে অপরকে দোষারোপ করে অনেক কিছু লিখছেন।কেন্দ্রীয় সংসদের এ টালমাটাল অবস্থা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।কার্যত প্রভাবশালী প্রগতিশীল নীল পতাকার শ্লোগানধারী এ ছাত্র সংগঠনটি উপদলীয় কোন্দল ও আভ্যন্তরীণ বিবাদে জড়িয়ে পড়ে।

জানা যায়, আগামী ১৮ ডিসেম্বর শনিবার বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলার ৩৬তম জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। লাকি রানী দাসকে চেয়ারম্যান ও রনি সেনাপতিকে আহ্বায়ক করে ইতোমধ্যে ৩৬তম সম্মেলন প্রস্তুতি পরিষদ গঠন করা হয়েছে।এ তথ্যটি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের (একাংশের) সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ ও সাংগঠনিক সম্পাদক সুমাইয়া সেতু। এ নিয়ে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি কাজ করে যাচ্ছে।

অপরদিকে গত ৫ নভেম্বর শুক্রবার জেলা ছাত্র ইউনিয়নের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মনীষা ওয়াহিদকে আহবায়ক এবং পাপ্পু সরকার ও সৈকত দাসকে যুগ্ম আহবায়ক করে মোট ১৯ সদস্য বিশিষ্ট সিলেট জেলা আহবায়ক কমিটি গঠন করেন ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশের )ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয়।

জানা যায়, দীর্ঘদিন পূর্বেই বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলা কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সাংগঠনিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং নিষ্ক্রিয়তা নিরসন করে আগামীদিনের লড়াই-সংগ্রামে নিজেদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে অংশগ্রহণের প্রত্যয় নিয়ে গত ৫ নভেম্বর শুক্রবার কর্মিসভায় এ আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়।দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অচলাবস্থা নিরসনে আগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে কর্মীসভার মাধ্যমে মনীষা ওয়াহিদকে আহবায়ক এবং পাপ্পু সরকার এবং সৈকত দাসকে যুগ্ম আহবায়ক করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সিলেট জেলা সংসদের ১৯ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়। ৩ মাসের মধ্যে সম্মেলন করার শর্তে কমিটির অনুমোদন দেন কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয়।নবনির্বাচিত কমিটিকে শপথবাক্য পাঠ করান হবিগঞ্জ জেলার সংগ্রামী সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রণব কুমার দেব।

এদিকে এ কমিটি গঠনের পর ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। নীল পতাকাতলে সমবেত হওয়া কিছু সংখ্যক কর্মী ও সমর্থক কে ভূল বুঝিয়ে ঐদিন প্রোগ্রামে নিয়ে আসা হয়। এতে তারা বিষয়টি বুঝতে পেরে সভায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। পরে তারা প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ মাধ্যমে বিবৃতি প্রদান করে। ফলে স্পষ্টত ছাত্র ইউনিয়নের কোন্দল বুঝা গেল। এবং সারাদেশে প্রগতিশীল মেধা ও বুদ্ধিবৃত্তিক ছাত্র রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের গ্রুপি়ং, বিরোধ ও আভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে রূপদান করলো।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলা শাখার কমিটি গঠন নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। মনীষা ওয়াহিদকে আহ্বায়ক, পাপ্পু সরকার ও সৈকত দাসকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ছাত্র ইউনিয়নের ১৯ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিকে বর্তমান জেলা নেতারা গ্রহণ করছেন না । উক্ত আহ্বায়ক কমিটি গঠন মিথ্যে ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সরোজ কান্তি এবং জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. নাবিল এইচ। তারা জানান, ৩৫তম জেলা সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচিত কমিটি দিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলার কার্যক্রম চলছে। আন্দোলনে ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলা তার বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে আসছে। তারা সিলেট জেলা ছাত্র ইউনিয়ন থেকে মনীষা ওয়াহিদকে বহিষ্কার করেছেন।

গত ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত জেলা সভা থেকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে তারা জানান। এছাড়া উক্ত সভা থেকে আগামী ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ৩৬ তম জেলা সম্মেলনের জন্য গঠিত ৫১ সদস্য বিশিষ্ট সম্মেলন প্রস্তুতি পরিষদের ৬টি পূর্ণাঙ্গ উপপরিষদ গঠন করা হয়।ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি সরোজ কান্তি ও জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. নাবিল এইচের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মনীষা ওয়াহিদ জেলা সংসদের সিদ্ধান্ত অমান্য করে একের পর এক গঠনতন্ত্র বিরোধী কাজে লিপ্ত ছিলেন। তিনি সংগঠনের মধ্যে উপদলীয় তৎপরতা ও ছাত্র ইউনিয়নে ঐক্য বিনষ্ট কাজে জড়িত ছিলেন। সর্বশেষ ছাত্র ইউনিয়নের নামে একটি ভূয়া কমিটি করে তিনি ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলা সংসদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়েছেন। এসব কারণে সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ৫৬ এর ‘ক’ ধারা মোতাবেক তাকে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলা সংসদ থেকে বহিষ্কার করা হলো। এছাড়া ছাত্র ইউনিয়নের নামে ভূয়া কমিটির কোনো কার্যকলাপের দায়ভার বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলার নয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জেলা সভা থেকে ৩৬তম জেলা সম্মেলন সফল করার লক্ষ্যে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট সম্মেলন প্রস্তুতি পরিষদের পূর্ণাঙ্গ ৬টি উপপরিষদে গঠন করা হয়েছে। সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে উক্ত দুই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলার ৩৬তম জেলা সম্মেলনের সম্মেলন প্রস্তুতি পরিষদের চেয়ারম্যান লাকি রানী দাস ও আহ্বায়ক রনি সেনাপতি। সাংগঠনিক উপপরিষদের আহ্বায়ক মোহাইমিনুল ইসলাম মাহিন, সদস্য সচিব পংকজ চক্রবর্তী জয়। এই উপপরিষদের সদস্যরা হলেন, দীপংকর সরকার, অটল ঋষি, নিটু রঞ্জন তালুকদার, মিসবাউর রহমান, আরমান মুন্না, আমিনুল ইসলাম।অর্থ উপপরিষদের আহ্বায়ক নাহিদ হাসান প্রান্তিক ও সদস্য সচিব সজল মিয়া। উপপরিষদের সদস্যরা হলেন, মিজু আহমদ, প্রদ্যুত তালুকদার, রবিন দে, ইশান রহমান, দুর্জয় দেব জয়, মাহবুব হোসেন।দপ্তর উপপরিষদের আহ্বায়ক হাছান বক্ত চৌধুরী কাওছার ও সদস্য সচিব সৈকত ভৌমিক। সদস্যরা হলেন, সুমন দাস, নরোত্তম দাস, রাজীব তালুকদার, আহমেদ কাওসার, বিরাজময় ইমন, রাজ দেবনাথ।সাংস্কৃতিক উপপরিষদের আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান আসাদ ও সদস্য সচিব অলক দাস। এই উপপরিষদের সদস্য হলেন, তন্ময় পাল, সন্দীপ কুমার দাস, প্রদ্যুত দাস, মণীষা দাস তালুকদার, স্বর্ণা গোয়ালা, জয়া গোয়ালা ও কাকলী রানী দাস।আপ্যায়ন উপপরিষদের আহ্বায়ক সুজন দাস ও সদস্য সচিব শ্রাবণ দাস। সদস্য হলেন, বিশাল দেব, রুদ্র চক্রবর্তী, সুমতী রায়, জীবন দাস, সাঈফ আহমদ।র‌্যালী ও সাজসজ্জা উপপরিষদের আহ্বায়ক সন্দীপ দাস ও সদস্য সচিব ইশতিয়াক হিমেল। এই উপপরিষদের সদস্যরা হলেন, ধ্রুব দাস, আমিনা বেগম, তাহমিনা বেগম, রুহি আরাফাত, জাফর আহমেদ, নিশাত নিশি ও অমিত বীরপতি।

এ ব্যাপারে সম্মেলন প্রস্তুতি পরিষদের চেয়ারম্যান লাকি রানী দাসের সাথে যোগাযোগ করে ফোনে পাওয়া যায় নি। সম্মেলন প্রস্তুতি পরিষদের আহবায়ক রনি সেনাপতি ব্যস্ত থাকায় কথা বলতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন।

অপরদিকে নবগঠিত কমিটির আহবায়ক মনীষা ওয়াহিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমরা কমিনিউস্ট মুল আন্দোলনে আছি।আমরা সিপিবির রোডম্যাপ ফলো করছি।তিনি বলেন,যাদেরকে নিয়ে ৩৬ তম জেলা সম্মেলনের কমিটি করা হয়েছে তারা ছাত্র ইউনিয়নের কেউ না।উনারা অছাত্র,বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করছেন। মনীষা বলেন,অনেকেই ইউনিয়ন করে ,আবার বিচ্যুত হয়।যারা অছাত্র ,চাকুরী জীবি ও কমিনিউনিস্ট শৃংখলার পরিপন্থি কাজ করে তাদের ব্যাপারে কিছু বলতে পারব না।জেলার অধিকাংশ নেতাকর্মী আমাদের সাথেই আছেন। ঐ অংশের সাথে কর্মী সমর্থক খুব কম।তিনি বলেন,প্রকৃত পক্ষে সংগঠন তো ভাঙছে,এটা সত্য।কিন্তু,মিডিয়াতে ভাঙ্গার সংবাদটা না আসাটাই বেশী ভালো।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,অনেকেই(প্রাক্তন ছাত্র ইউনিয়ন নেতা) সংগঠনের সংকটের সময়ে অসৎ, অসাংগঠনিক নেতৃত্বকে প্রমোট করছেন। সমাধানের দিকে আনার চেষ্টা করেন নাই। আর কেন্দ্রীয় ভাবে সৃষ্ট একটা সংকটের দায় জেলা পর্যায়ের কারো উপর চাপিয়ে দেয়া ঠিক না বলে মন্তব্য করেছেন মনীষা ওয়াহিদ।মনীষা ছাত্র ইউনিয়নের অপর অংশের সহকর্মীদের ইঙ্গিত করে বলেন, অন্ধ আবেগের বশে কাজ না করে কিছু করার আগে একটু ভাবা উচিত।

জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নাবিল এইচ বলেন, আমরা ছাত্র ইউনিয়নের ৩৬তম জেলা সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এ লক্ষে আমাদের বিভিন্ন উপ কমিটি সম্মেলন বাস্তবায়নে ব্যাপক কাজ করছে। জেলা ছাত্র ইউনিয়নের ইতোমধ্যে গঠিত কমিটির কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এ কমিটি ভূয়া।ঐ কমিটির সাথে জড়িতরা নিজেদের ভুল সংশোধন করে ফিরে আসলে আমরা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে সুযোগ দেব। নাবিল এইচ বলেন, ছাত্র ইউনিয়নের কোন ইউনিট ঐ কমিটিকে সমর্থন করেনি। মহানগর, উপজেলা ও কলেজ কমিটি কেউই তাদের সাথে সম্পৃক্ত হয়নি।

এ ব্যাপারে সিলেট জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক জেলা সভাপতি এডভোকেট আনোয়ার হোসেন সুমনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সম্মেলন নিয়ে অধিকাংশ নেতা কর্মীদের প্রশ্ন ছিল। পরে তলবী সম্মেলন করা হলে প্রথম সম্মেলনে গঠিত কমিটি তা মেনে নেয়নি। এ নিয়ে ছাত্র ইউনিয়নে কেন্দ্রীয় ভাবে সমস্যার সৃষ্টি হয়। কেন্দ্রে এটি সমাধান হয়নি। এর প্রতিফলন সিলেট ছাত্র ইউনিয়নের মধ্যে পড়েছে। আমরা চেষ্টা করছি বিরোধ মীমাংসা মিটিয়ে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

জানা যায় ,ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদ সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক দীপক শীলের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি সাংগঠনিক শৃঙ্খলার ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন। তারা নেতা হতে চায়, সাংগঠনিক নিয়ম শৃঙ্খলা এগুলোর কোন তোয়াক্কা করেন না। কমিউনিষ্ট আর্দশের বিচ্যুতি ঘটিয়ে তারা কাজ করছেন বলে অনেকের অভিযোগ ।তাই মুল ধারার ছাত্র ইউনিয়নের নেতা কর্মীরা কাউন্সিলের মাধ্যমে তাদেরকে অব্যাহতি দিয়ছেন বলে জানা যায় । প্রথম দিকে ঐক্যের স্বার্থে ফয়েজ উল্লাহ কে সভাপতি রাখা হলেও পরবর্তীতে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় ছাত্র ইউনিয়ন নেতা কর্মীরা তলবী সম্মেলন করে নজির আমিন চৌধুরী জয়কে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও রাগিব নাঈম কে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করে। ফলে দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্যবাহী ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠন ছাত্র ইউনিয়ন বিভক্ত হয়ে পড়ল।

সোস্যাল মিডিয়ায় দু:খ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে অনেকেই এ সংগঠনের কথা লিখছেন। জনৈক সাবেক ছাত্র ইউনিয়ন নেতার ফেসবুক থেকে-শ্রমিকের উপর ছাত্র ইউনিয়নের হামলার চেষ্টা আজ কোনো নিউজের শিরোনামটা এমনও হতে পারতো। রিক্সা ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের প্রোগ্রাম ছিলো আজ বিকেলে পল্টন মোড়ে। প্রোগ্রাম চলাকালীন হঠাৎ করেই ছাত্র ইউনিয়নের একটি অংশের সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল এবং তার নেতৃত্বে অন্যান্য কর্মীরা রিক্সা ভ্যানের প্রোগ্রামে হামলার চেষ্টা করে প্রোগ্রাম বানচাল করতে চায়। কী দুঃখজনক ঘটনা!

ছাত্র ইউনিয়ন আজীবন শ্রমিকের অধিকার রক্ষায় তাদের পাশে থেকেছে এবং সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রাম এগিয়ে নিয়ে গেছে। আর আজকে এসে দেখতে হচ্ছে ছাত্র ইউনিয়নের নামে কিছু ব্যক্তি শ্রমিকদের কর্মসূচি নস্যাৎ করার চেষ্টা করে! ছাত্র ইউনিয়নের নূন্যতম আদর্শ যদি কেউ ধারণ করে থাকে, তবে তার পক্ষে শ্রমিকদের ঐ কর্মসূচি নিয়ে দ্বিমত বা অভিযোগ থাকলেও কর্মসূচি বানচালের জন্য বাধা প্রদান ও হামলার চেষ্টা তো করতেই পারে না। আর যদি কেউ এহেন কাজ করে তবে তারা কোনোভাবেই ছাত্র ইউনিয়ন হতে পারে না। বরং এরা যে ছাত্র ইউনিয়ন নামধারী একটা সুবিধাবাদী অংশ সেটা কোনো সন্দেহ ব্যাতিরেকেই বলা যায়।

দুঃখ এই যে আমিও একসময় ছাত্র ইউনিয়ন করতাম এবং একটি ইউনিট ও কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলাম। আর সেই সংগঠন এখন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়! তবে কী সারাজীবনের আক্ষেপ হয়ে থাকবে শ্রমিক তথা সমাজ পরিবর্তনের আশায় যে সংগঠনকে বেছে নিয়েছিলাম সেই সংগঠনের নামে আজ শ্রমিকের কর্মসূচি নস্যাৎ করার চেষ্টা করে!!! তবে কী অপচয় হলো সংগঠনে দেওয়া আমার শ্রম আর মেধা! নিশ্চয়ই তা হবে না। কারণ এখনো আমি বিশ্বাস করি ছাত্র ইউনিয়ন নামে যেই সংগঠনই হোক সেই সংগঠনে সমাজ পরিবর্তনের আকাঙখা আছে, এমন কর্মী এখনও আছে। তারা নিশ্চয়ই এই অধঃপতনের ধারা ও এই অধঃপতিত ব্যক্তিদের রুখে দিয়ে বিপ্লবী ধারার সংগঠন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে শোষনহীন সমাজ গঠনের লড়াই শ্রমিক শ্রেণির পাশে থেকে এগিয়ে নেবে।

অনেকটা মনঃকষ্ট নিয়েই ছবিগুলো ফেসবুকে পোস্ট করতে হলো। এর আগে দীপক শীলের নেতৃত্বে রিক্সা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সমাবেশে হামলার চেষ্টা সম্পর্কিত একটি পোস্ট দিয়েছিলাম। তখন অনেকেই সেটা মানতে চান নি; একজন প্রত্যক্ষদর্শীর কথাও অনেকেই গ্রাহ্য করেননি শুধু ছবির অভাবে! সম্ভবত, বাংলাদেশে ফরমাল বা ইনফরমাল কোনো বিচার ব্যবস্থাতেই প্রত্যক্ষদর্শী থাকার পরেও এভাবে প্রমাণ হিসেবে ছবি হাজির করতে হয় না। কিন্ত সে সব তো থোড়াই কেয়ার এখন! অপরাধীদের রক্ষা করার কী তুমুল আকাঙ্ক্ষা! তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও, এই ছবিগুলো পোস্ট করতে হচ্ছে। জানি না, এরপরেও আপনারা নতুন কোনো বাহানা নিয়ে হাজির হবেন কিনা! আশা করছি, আর নতুন কোনো বাহানা হাজির করবেন না।

যারা ছবি নেই, ছবি নেই বলে সেই অন্যায়কে প্রশ্রয় এবং বৈধতা দিচ্ছিলেন তাদেরকে বলবো, শুধু পছন্দের লোক হলে যেকোনো অপরাধ, অন্যায় ঢাকা দিয়ে রাখতে হবে কিংবা আমি একসময় এই সংগঠন করেছি তাই অন্যায়কারীকে ও সংগঠিত অন্যায় প্রশ্রয় দিতে হবে- আপনাদের এই মানসিকতা আজ এই অধঃপতনের জন্য দায়ি এবং তা ছাত্র ইউনিয়নের ভাঙনকেও অনিবার্য করে তুলেছিলো। তাই, এখনো সময় আছে, রুখে দাড়ান এই অধঃপতন।

ডেইলিরুপান্তর/আবির

  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ