ঝিনাইগাতীর চাহিদা পূরণ না করে অন্যত্র মহারশির পানি দেয়া যাবেনা- প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক এমপি

ঝিনাইগাতীবাসীর চাহিদা পূরণ না করে বাহিরের কোন উপজেলাকে মহারশি নদী থেকে কোন পানি দেয়া হবেনা। এছাড়া আমার এলাকা থেকে পানি নেয়ার প্রকল্প হবে। আমি জানবো না, উপজেলা চেয়ারম্যান জানবেনা, ইউএনও জানবেনা, এমন প্রকল্প কিভাবে অনুমোদন পেল? তা আমাকে জানতে হবে। নির্বাহী প্রকৌশলী সাহেব আপনি ঢাকায় আসুন, আমি প্রকল্প পরিচালকের সাথে কথা বলবো, প্রয়োজনে অগ্নিকন্না বেগম মতিয়া চৌধুরীর সাথেও কথা বলব। শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদীতে স্থাপিত রাবারডেম থেকে নালিতাবাড়ীতে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি নেয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দ্বন্ধের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক এমপি এসব কথা বলেন। তিনি ঝিনাইগাতী উপজেলার চাহিদা পূরণ না করেই অন্যত্র পানি দেয়ার জন্য  এ প্রকল্পের কাজ শুরু করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

২০ নভেম্বর শনিবার বিকালে নলকুড়া রাবারডেম সংলগ্ন এলাকায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারুক আল মাসুদ এর সভাপতিত্বে ও উপজেলা যুব লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলমের উপস্থাপনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ এসএমএ ওয়ারেজ নাইম, এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর, কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ একেএম বেলায়েত হোসেন, নলকুড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান প্রমুখ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পাস কাটিয়ে এমন প্রকল্প হাতে নেয়ায় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রধান অতিথি পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উক্ত প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ প্রদান করেন।

উক্ত আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার জয়নাল আবেদীন, ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফায়েজুর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক, জেলা পরিষদের সদস্য ও উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক আয়শা সিদ্দিকা রুপালী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লাইলী বেগম, নলকুড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মজনু মিয়া, উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক একেএম ছামেদুল হক, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, রাবারডেম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত কৃষক।

এ বিষয়ে কেন্দ্র করে গত ১৬নভেম্বর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে একটি জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক মোমিনুর রশীদ।

প্রসঙ্গগত উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সালে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন এজেন্সি (জাইকা)’র অর্থায়নে, এলজিইডি শেরপুরের বাস্তবায়নে মহারশি পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির নামে একটি রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হয়। রাবার ড্যামটি আওতায় এ উপজেলার ১ হাজার ২ শত হেক্টর জমি বোর আবাদ হচ্ছে। আসছে বোর মৌসুমে আরো ১ হাজার ২ শত হেক্টর জমি আবাদের আওতায় আনতে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া রাবার ড্যাম থেকে গড়িয়ে পড়া অতিরিক্ত পানি দিয়ে উপজেলার ৪ ইউনিয়নের বনকালী, দিঘীরপাড়, আহম্মদনগর, হলদীবাটা, বনগাও, চতল, হাতীবান্ধা ও তিনানী বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোর চাষ করা হয়।  এছাড়া ঝিনাইগাতী উপজেলার বহু এলাকা এখনও রাবারডেম প্রকল্পের আওতায় অর্ন্তভুক্ত না হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা কষ্ট করে বোর ধানের আবাদ করে আসছেন।

অপরদিকে ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদীর উত্তর হলদীগ্রামের জৈনক আব্দুল্লাহ’র বসত ভিটায় জাপান ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন এজেন্সি (জাইকা)’র অর্থায়নে এবং এলজিইডি শেরপুরের বাস্তবায়নে বৃহৎ পরিসরে নির্মিত হচ্ছে পানির হাউজ। সে হাউজ থেকে  ৪কি:মি: পাইপ লাইন দিয়ে পানি সরবরাহ করে নিয়ে যাওয়া হবে নালিতাবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন অংশে। এতে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে ঝিনাইগাতী উপজেলার রাবারডেম সংলগ্ন ও আশপাশ বিভিন্ন এলাকার চাষীদের মাঝে।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/এস.

  • 13
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ