পীরগঞ্জে ৪৯৫ প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণা ভোটযুদ্ধে মাঠ সরগরম

তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ১০ ইউনিয়নে ২৮ নভেম্বর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে প্রার্থিতা যাচাই বাছাই প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে প্রচারে নেমে পড়েছেন। প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা। পোস্টার, ব্যানারে ছেয়ে গেছে ইউপির অলি-গলি, বাসা-বাড়ি, চায়ের দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনায়।

১০টি ইউনিয়নে ৪৯৫ জন প্রার্থী ভোট যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করছেন।

নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই প্রার্থীরা খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে কোমর বেঁধে নির্বাচনী মাঠে দিন-রাত সময় দিচ্ছেন। তারা ভোটারদের দ্বারেদ্বারে গিয়ে তাদের আদর্শের বয়ানসহ ইউনিয়নে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীরা দলবেঁধে প্রচার প্রচারণায় নির্বাচনী এলাকা সরগরম করে তুলছেন। তারা অটোরিকশা, ইজিবাইক, নসিমন, ভ্যান ও রিকশায় মাইক বেঁধে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। অন্যান্য প্রার্থীরাও বলেন জনগণের ইচ্ছাতেই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। তাই জনগণ নির্বাচনে ভোট দিয়ে জয় করবেন এ কামনা করছেন তারা।

এদিকে সংরক্ষিত নারী সদস্য ১০৯ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৩৩৫ জন প্রার্থীও মাঠে-ঘাটে কোমর বেঁধে অবিরাম প্রচারণা চালাচ্ছেন। নির্বাচনী সময় ঘনিয়ে আসার সাথে ইউপিগুলোর বাজার, অলি-গলি, চায়ের দোকান, হোটেল, বিভিন্ন স্থাপনা ও বসত বাড়ির সামনে পোস্টার, ব্যানারে ছেয়ে গেছে। প্রার্থীরা সবাই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

এদিকে নারী প্রার্থীদের সাথে মাঠে নেমেছেন স্বামী সন্তানরাও। তেমনি পুরুষ প্রার্থীদের সাথেও স্ত্রী সন্তানরা বসে নেই। সবার আশা ভোট যুদ্ধে জিততেই হবে। তবে সাধারণ ভোটাররা ভোট দেয়ার ব্যাপারে কোনও প্রার্থীকেই নিরাস করছেন না। প্রার্থীরা ব্যবসায়ী ভোটারদের দোকানে গিয়েও ভোট প্রার্থনা করছেন। শুধু তাই নয় মাঠে কর্মরত শ্রমিকদের কাছেও যাচ্ছেন ভোটের আশায়। দিচ্ছেন নানা ধরণের প্রতিশ্রুতি।

মনোয়ার হোসেন নামে এক ভোটার জানান, ভোট আসলে প্রার্থীদের আনা-গোনার কমতি থাকে না। ভোট শেষ হলেই তাদের দেখা পাওয়া যায় না। প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচিত হয়ে, সে মোতাবেক কাজ করে না। তারা নির্বাচনের পর সব ভুলে যান।

ভোটার ইকবাল হোসেন জানান, অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। কিন্তু ইউনিয়নের তেমন কোন উন্নয়ন হয় না।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার পীরগঞ্জ উপজেলার ১০টি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ৫১ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ১০ জন, জাতীয় পার্টির ৬ জন, ওয়ার্কার্স পার্টির ৩ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৩ জন ও স্বতন্ত্র ২৯ জন।

উপজেলার ভোমরাদহ ইউপিতে মনোনয়ন করছেন আ’লীগের দলীয় প্রার্থী মো. হিটলার হক (নৌকা), জাতীয় পার্টি মো. হাবিবুল্লাহ বাহার (লাঙল), ওয়ার্কার্স পার্টি মো. লতিফুর রহমান (হাতুড়ি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মো. করিমুল ইসলাম (হাতপাখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. খলিলুর রহমান (আনারস) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সবুজ ইসলাম (ঘোড়া)।

কোষারানীগঞ্জ ইউপিতে আ’লীগের প্রার্থী মো. আজহারুল ইসলাম (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. গোলাম মোস্তফা (আনারস), স্বতন্ত্র প্রার্থী বকুল চন্দ্র রায় (চশমা) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মো. শাহাজাহান (হাতপাখা)।

খনগাঁও ইউপিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আ’লীগের প্রার্থী মো. সহিদ হোসেন (নৌকা), জাতীয় পার্টি মো. রুহুল আমিন (লাঙল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কাউসার আলী (ঘোড়া), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. তোফাজ্জল হোসেন (আনারস), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ফজলুর রহমান (মোটরসাইকেল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রাকিবুল বারী (অটোরিকশা) স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নুরুজ্জামান হক (চশমা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা. আনঞ্জুমান আরা বেগম (টেলিফোন)।

সৈয়দপুর ইউপিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আ’লীগ সমর্থিত বিবেকানন্দ রায় (নৌকা), ওয়ার্কার্স পার্টি ধর্ম নারায়ণ রায় (হাতুড়ি), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জিল্লুর চৌধুরী (আনারস), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. তহিদুল ইসলাম (ঘোড়া), এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রনজিৎ কুমার রায় (মোটরসাইকেল)।

পীরগঞ্জ ইউপিতে আ’লীগের প্রার্থী অরুন কুমার রায় (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহাবুব আলম (আনারস) স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ফজলুল হক (চশমা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোকলেসুর রহমান চৌধুরী (ঘোড়া) এবং ওয়ার্কার্স পার্টি মো. মুর্তুজা আলম (হাতুড়ি)।

হাজীপুর ইউপিতে আ’লীগের প্রার্থী মো. জয়নাল আবেদীন (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সিদ্দীকুর রহমান (মোটরসাইকেল) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সফিউল আলম (আনারস)।

দৌলতপুর ইউপিতে আ’লীগের প্রার্থী সনাতন চন্দ্র রায় (নৌকা), জাতীয় পার্টি কার্তিক চন্দ্র রায় (লাঙল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আফজালুর রহমান (আনারস) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবু রায়হান (মোটরসাইকেল)।

সেনগাঁও ইউপিতে আ’লীগের প্রার্থী মো. মোস্তাফিজার রহমান (নৌকা), জাতীয় পার্টি মো. দবিরুল ইসলাম (লাঙল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাইদুর রহমান (মোটরসাইকেল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মো. মোজাফ্ফর রহমান (হাতপাখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মতিনাল রায় (চশমা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে এম কামরুজ্জামান (আনারস)।

জাবরহাট ইউপিতে আ’লীগের প্রার্থী মো. জিয়াউর রহমান (নৌকা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. খয়রুল আনাম চৌধুরী (লাঙল) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুস সবীর (আনারস)।

বৈরচুনা ইউনিয়নে আ’লীগের প্রার্থী মোছা. টেলিনা সরকার হিমু (নৌকা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আব্দুল রকিব বকুল (লাঙল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আইয়ুব আলী চৌধুরী (চশমা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোকলেসুর রহমান (আনারস), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রেজাউল ইসলাম (ঘোড়া), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আতাউর রহমান (অটোরিকশা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আজিজুর রহমান (মোটরসাইকেল)।

পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার তকদীর আলী জানান ২৮ নভেম্বর পীরগঞ্জ উপজেলার ১০ ইউনিয়নে ৯০টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৭১ হাজার ৯১১ জন।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/এ.

  • 68
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ