লোকবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা

মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক-নার্সসহ বিভিন্ন পদে লোকবল সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা। উপজেলার ছয় ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ২০১৮ সালে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হলেও জনবলও সংকটে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভবন নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করেন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। উদ্বোধনের পর থেকে হাসপাতালটি উপজেলার সকল মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে। কিন্তু লোকবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্য সেবা ব্যাহত হওয়ার ফলে বারবার সংবাদের শিরোনাম হচ্ছে এ হাসপাতালটি। বর্তমানে উপজেলায় প্রায় এক লাখেরও বেশি মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসকের পদ আছে মাত্র ৯ টি।

নয়জন মেডিকেল অফিসার পদের মধ্যে বর্তমানে পাঁচজন কর্মরত আছেন। হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবা সবচেয়ে বেশি ব্যাহত হচ্ছে সিনিয়র স্টাফ নার্স সঙ্কটের কারণে‌। ২৫ জন সিনিয়র স্টাফ নার্সের বিপরীতে আছেন মাত্র তিনজন।

উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ছয়জন থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ২ জন। ফার্মাসিস্ট পদে একজন কর্মরত থাকার কথা থাকলেও পদটি এখনো রয়েছে শুন্য। অফিস সহায়ক দু’জন কর্মরত থাকার কথা থাকলেও আছেন একজন, ওয়ার্ড বয় দুজন কর্মরত থাকার কথা কিন্তু কর্মরত আছেন একজন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী পাঁচজনের স্থলে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। এছাড়াও জুনিয়র মেকানিক, আয়া ও বাবুর্চি পদটি শূন্য রয়েছে।

স্বল্পসংখ্যক চিকিৎসকের পক্ষে প্রতিদিন ২০০-৩০০ রোগীর স্বাভাবিক চিকিৎসা দেয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। ভোগান্তি পোহাতে হয় রোগী ও অভিভাবকদের। লোকবল সঙ্কট এভাবে চলতে থাকলে সাধারণ মানুষ সরকারি স্বাস্থ্য সেবার প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলবে বলে অনেকে মনে করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে রোগী নিয়ে গেলে লোকবল সংকটে তাদের জেলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে।লোকবল সংকটের ফলে হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগে ঠিকমতো চিকিৎসা সেবা দিতে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা হিমশিম খাচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে রোগী নিয়ে অনেকে সদর হাসপাতালে চলে যান।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগী  জানান, লোকবল সংকটে হাসপাতালের সেবার মান মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। লোকবল সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্য সেবা পেতে আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। এ সময় তিনি আরোও বলেন, এখানে সরকারি ওষুধ বিনামূল্যে পেলেও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাও না হওয়ায় অনেকে বাধ্য হয়ে অন্য হাসপাতালে রোগী নিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, আগের চেয়ে স্বাস্থ্যসেবার মান বেড়েছে। যেসব রোগীকে সেবার আওতায় আনা যায় না, শুধু তাদের রেফার্ড করা হচ্ছে। ইমারজেন্সিতে যে সাপোর্ট আছে তা দিয়ে যাদের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব, তাদের দেয়া হচ্ছে। তবে চিকিৎসক সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: সমরজিৎ সিংহ বলেন, হাসপাতালে প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৩০০ রোগী দেখা হচ্ছে। অন্তঃবিভাগে ২০-২৫ জনের মতো রোগী ভর্তি থাকে। লোকবল যা আছে তা দিয়েই আমরা স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে যাচ্ছি।

মৌলভীবাজার জেলা সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ বলেন, জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের লোকবল সংকটের তথ্য বিভাগীয় অফিসে প্রেরণ করা হয়েছে। ‌স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পর্যাপ্ত লোকবল থাকলে আমরা জনসাধারণকে উপযুক্ত সেবা প্রদান করতে পারব।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/এম.

  • 14
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ