ত্যাগী নেতাদের পরিবার পরিজনদের খবর নেয়ার অনুরোধ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চেয়ারম্যান মফুরের খোলা চিঠি

সিলেটের বৃহত্তর বালাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ গনি মিয়ার ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী ছিলো গতকাল বুধবার (১৭ নভেম্বর)। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে উপজেলায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল করা হয়েছে।

মাননীয় নেত্রী গনি চাচাকে আপনি চিনতেন। আপনার বেশ কয়েকটি জনসভায় পথসভায় তিনি সভাপতিত্ব করেছিলেন। গনি চাচার মত মানুষদের পরিবার পরিজন কেমন আছেন ? একটু খবর নেয়ার বিনীত অনুরোধ করছি। তাদের পরিবার উপকৃত হলে গনি চাচার মত ত্যাগী নেতাদের আত্মা শান্তি পাবে। অন্য ত্যাগী নেতা কর্মীরা ও উৎসাহিত হবেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এম এ গনি মিয়ার ১৬তম মৃত্যু বার্ষিকীতে খোলা চিঠি লিখেন বৃহত্তর বালাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বালাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. মোস্তাকুর রহমান মফুর।

পাঠকের স্বার্থে খোলা চিঠিটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম বৃহত্তর বালাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তৃণমূল থেকে ধীরে ধীরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসাবে দায়িত্বরত অবস্থায় শেষ বিদায় নেন পৃথিবী থেকে। মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশ পূর্ণগঠনে রয়েছে তার অবদান।

৭৫’এর পর বঙ্গবন্ধু বিহীন বাংলাদেশে অস্থিত্ব সংকটে পড়ে আওয়ামী লীগ দলের তৃণমূলের নেতা কর্মী সমর্থকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। গণি চাচা সেই সময় অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে তাজপুরে তার নিজ ব্যবসায়, অফিসে জাতীয় ও দলের পতাকা তুলে মুজিব কোট গায়ে দিয়ে বসে থাকতেন৷ এই অফিসটি ছিল আওয়ামীলীগের নেতা কর্মী সমর্থকদের মিলন কেন্দ্র। সীমাহীন ত্যাগ কষ্ট ঝরানো শ্রম ও ঘামের বিনিময়ে আওয়ামীলীগ স্বমহিমায় ফিরে আসে৷

আমার বাবার সাথে গণি চাচা ছিলেন থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। আমি সৌভাগ্যবশত তার সাথে উপজেলা আওয়ামীলীগের বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলাম। শেষ পর্যায়ে তিনি সভাপতি আর আমি সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছি।

কয়েকটি সংসদ নির্বাচন সহ দলীয় কাজে একসাথে পথ চলেছি। দলের দুঃসময়ে বহুদিন পিতার স্নেহে তিনি আমাকে কাছে টেনে নিয়েছিলেন। তার উৎসাহ, অনুপ্রেরণা, সহযোগীতা সর্বোপরি গভীর আস্থা আমার পথ চলার পাথেয় আজ অবধি। গনি চাচার মত দলের নিবেদিত সব কিছু উজাড় করে দেওয়া মানুষ গুলো স্মৃতির অতল গহীনে চলে যাচ্ছেন দিন দিন। আজীবন দলকে দিয়েছেন অকাতরে। দল থেকে কিছু নেয়ার সুযোগ তার মত অনেকের হয়নি। গনি চাচারা আমাদের প্রিয় দলের ভিত্তির মূল রচনাকারী, তাদের নিজ নিজ অঞ্চলে। যার সুবাধে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দল হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ স্ব-গৌরবে মাথা উঁচু করে আছে।

তাদের অবদান স্মরণ করে গনি চাচার মত মানুষের পরিবারের প্রতি নজর দেয়া আমাদের কর্তব্য আমাদের দায়িত্ব। মাননীয় নেত্রী গনি চাচাকে আপনি চিনতেন। আপনার বেশ কয়েকটি জনসভায় পথসভায় তিনি সভাপতিত্ব করেছিলেন। গনি চাচার মত মানুষদের পরিবার পরিজন কেমন আছেন? একটু খবর নেয়ার বিনীত অনুরোধ করছি।

তাদের পরিবার উপকৃত হলে গনি চাচার মত ত্যাগী নেতাদের আত্মা শান্তি পাবে। অন্য ত্যাগী নেতা কর্মীরা ও উৎসাহিত হবেন৷ গনি চাচার আত্মার মাগফেরাত কামনা করি৷ মহান আল্লাহ তা’লা তাকে জান্নাত নসিব করুন।
আমীন।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/জে.

  • 175
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ