রাণীশংকৈল ও হরিপুরে নৌকা প্রতীকের ২ প্রার্থীসহ ২২ জন জামানত হারিয়েছেন

চলমান ইউপি নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর ও রানীশংকৈল উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে গত বৃহস্পতিবার ভোট গ্রহণ হয়েছে। নির্বাচনে দুটি উপজেলায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের ২ প্রার্থীসহ ২২ জন জামানত হারিয়েছেন।

এর মধ্যে হরিপুরের তিনটি ইউনিয়নে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী, আ’লীগের প্রার্থী দুটিতে ও একটিতে আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জয় পেয়েছেন। আর রানীশংকৈলের চারটিতে আ’লীগের প্রার্থী ও একটিতে আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জয়লাভ করেছেন।

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশ অপেক্ষা কম ভোট পেলে প্রার্থীর জামানতের টাকা সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে। হরিপুরের ৩০ চেয়ারম্যান প্রার্থীর ১৩ জন, রানীশংকৈলের ২২ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনসহ মোট ২২ জনই এক-অষ্টমাংশ ভোট পাননি।

হরিপুরের ৩০ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ১৩ জন, রানীশংকৈলের ২২ প্রার্থীর মধ্যে  ৯ জনসহ মোট ২২ জনই এক-অষ্টমাংশ ভোট পাননি। তাই জামানত হারাচ্ছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, নেকমরদ ইউনিয়নে আ’লীগের প্রার্থী ছিলেন ইউনিয়ন  আ’লীগের সহ-সভাপতি ডা. হামিদুর রহমান। কিন্তু নেতা-কর্মীরা তাঁর মনোনয়ন মেনে নিতে পারেননি। নির্দেশনা অমান্য করে তাঁরা ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি আবুল হোসেন মাস্টারের পক্ষে কাজ করেন। নির্বাচনে আবুল হোসেন মাস্টার ৮ হাজার ৪১৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী এনামুল হক পেয়েছেন ৪ হাজার ৮২৫ ভোট। আর নৌকা প্রতীকের হামিদুর রহমান পেয়েছেন মাত্র ২৪৭ ভোট।

নেকমরদ ইউনিয়নে মোট ভোটার ২০ হাজার ১২৮টি। ভোট পড়েছে ১৬ হাজার ৫৪২টি। আওয়ামী লীগের হামিদুর রহমান পেয়েছেন ২৪৭ ভোট, যা প্রদত্ত ভোটের ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ। জামানত ফেরত পেতে তাঁর ভোটের প্রয়োজন ছিল ২ হাজার ৬৭টি।

এ বিষয়ে ডা.হামিদুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন দেওয়ার পরও উপজেলা ও জেলা আ’লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হস্তক্ষেপে দলের নেতা-কর্মীরা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। দলের মধ্যে বিরোধিতার কারণে ঠিকমতো গণসংযোগ করাও সম্ভব হয়নি। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হবে।

সাংসদের লোকজন বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে এমনকি বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। এই ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী গোলাম রব্বানী ও জাকের পার্টির প্রার্থী জব্বার হোসেনও জামানত খুইয়েছেন।

ধর্মগড় ইউনিয়নে আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুর রাজ্জাক, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু হানিফ ও নুরেই আলম, লেহেম্বা ইউনিয়নে জাকের পার্টির প্রার্থী আনারুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম রব্বানী, তাহের আলী মাস্টার জামানত হারাচ্ছেন।

হরিপুর উপজেলায় বৃহস্পতিবার ছয়টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ হয়েছে। ৩০ জন প্রার্থীর মধ্যে আ’লীগের ১ প্রার্থীসহ ১৩ জন জামানত হারিয়েছেন।

হরিপুর ইউনিয়নে ভোট পড়েছে ১৪ হাজার ৭৫৭টি। উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রফিকুল চশমা প্রতীক নিয়ে জয়ী হয়েছেন। এখানে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম মোস্তফা পেয়েছেন ১ হাজার ১৬৪ ভোট, যা প্রদত্ত ভোটের ৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ। জামানত ফেরত পেতে তাঁর ভোটের প্রয়োজন ছিল ১ হাজার ৮৪৪টি। বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সদস্য আতাউর রহমান ২০৬ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।

এ ছাড়া ভাতুরিয়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন, আবদুর রাজ্জাক, মোহেববুল হক, রফিকুল ইসলাম, গেদুড়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক ইমরান আলী, তোফাজ্জল হোসেন, বোরহান উদ্দিনও জামানত হারিয়েছেন। আর ডাঙ্গীপাড়া ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির প্রার্থী খুরশীদ আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফইজুর রহমান, মনতাজ আলী জামানত খুইয়েছেন।

হরিপুর ইউনিয়নের আ’লীগের প্রার্থী গোলাম মোস্তফার মুঠোফোনে বার বার কল করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাফফর আহমেদ বলেন, হরিপুর উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নে স্থানীয় সাংসদ বিরোধীমনা ব্যক্তিরা মনোনয়ন পেয়েছিলেন। এই সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণ করতে সাংসদের লোকজন বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে এমনকি বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। এতে নির্বাচনে প্রভাব পড়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মু.সাদেক কুরাইশী বলেন, দলের নেতা-কর্মী পক্ষে না থাকায় নেকমরদ ইউনিয়নের দলের প্রার্থী খারাপ ফল করবেন, এটা জানা ছিল। তবে হরিপুরে এমন ফলাফল প্রত্যাশিত ছিল না। এর কারণ খুঁজে বের করে দেখা হবে।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/এ.

  • 54
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ