চকরিয়া পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নে নারী ভোটারদের মন জয়ে ব্যস্ত নৌকার প্রার্থী মুন্না

কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলা পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এবার পুরুষের চেয়ে নারী ভোটারের সংখ্যা কম হলেও তাদের ভোটেই নির্ভর করছে প্রার্থীদের ভাগ্য। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মুহূর্তে এসে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী শহীদ নাছির উদ্দিন নোবেলের সহধর্মিণী ফারহানা আফরিন মুন্না। এই নারী চেয়ারম্যান প্রার্থী মুন্না এখন নেমেছেন নারী ভোটারদের মন জয়ের মিশনে। পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়ন প্রথম নারী চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ে নারী ভোটারদের মাঝেও উৎসাহ আর উদ্দীপনার কমতি নেই।

তাই আগামী ২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছেন নারী ভোটাররা। এই অবস্থায় নারীরাও ভাবতে শুরু করেছেন কাকে ভোট দিলে এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি নারীরা সহজে তাদের অভাব, অভিযোগের কথা কাকে সহজে বেশি প্রকাশ করতে পারবে, কাকে ভোট দিলে বেশি উপকৃত হবেন নারীরা।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, পুরুষদের পাশাপাশি নারী ভোটারদের দিকেও সমান দৃষ্টি দিয়ে গণসংযোগের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন নারী চেয়ারম্যান প্রার্থী আফরিন মুন্না। নারীদের সমর্থন ও সহানুভূতি আদায়ের লক্ষ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন তিনি।

পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের গরীব দুঃখি মেহনতি মানুষের সর্বসময়ের সাথী, এলাকার মানুষের সুখে দুঃখে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী শহীদ নাছির উদ্দিন নোবেলের সহধর্মিণী ফারহানা আফরিন মুন্না। যিনি ইতিমধ্যে শত শত উঠান বৈঠকের মাধ্যমে জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড ও সাফল্য নারী সমাজের কাছে তুলে ধরে নারীদের সুসংগঠিত করে নারী জাগরণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নারী ভোটাররা নারী চেয়ারম্যান প্রার্থী আফরিন মুন্নাকে নৌকা প্রতিকে অভুতপূর্ব সাড়া দিচ্ছেন।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ হালনাগাদকৃত ভোটার তালিকায় চকরিয়া পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নে মোট ভোটারের সংখ্যা ১৭৮৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ হাজার ৬৩৭ জন ও নারী ভোটার ৭ হাজার ৯৯৬ জন। এই ইউনিয়নে নারী চেয়ে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১৬৪১ জন বেশি।

ফারহানা আফরিন মুন্নার জন্ম, বেড়ে ওঠা, শ্বশুর বাড়ী পূর বড়ভেওলায়। তার শ্বশুড়ী শহীদ নাছির উদ্দিন নোবেলের মাও পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডে বিপুল ভোটে নির্বাচিত নারী ইউপি সদস্যা ছিলেন। মুন্নার শ্বশুরও ছিলেন এই ইউনিয়নের নির্বাচিত ইউপি সদস্য। ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডে আত্বীয়তা, আঞ্চলিকতা, পিতার বাড়ী ও শ্বশুর বাড়ি সবই এখানে হওয়ায় এই তিনটি ওয়ার্ডের নারী ও পুরুষ সব ভোটাররা নৌকা প্রতিকে ফারহানা আফরিন মুন্নাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন বলে জানান ভোটাররা। এই তিনটি ওয়ার্ডের নারী ও পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৬ হাজার ৫৩৬ জন।

আরো ৬টি ওয়ার্ডের সব শ্রেণী পেশার মানুষ মুন্নাকে ভোট দিয়ে এগিয়ে জয়যুক্ত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় হিসেব-নিকেশ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে, চেয়ারম্যান পদে নারী চেয়ারম্যান প্রার্থী আফরিন মুন্না জয়ের বিষয়ে ১০০% আশাবাদী ভোটাররা। ইউনিয়নের বেশির ভাগ নারীর সমর্থন চেয়ারম্যান প্রার্থী মুন্নার দিকে ঝুঁকে পড়েছে, তাই তারই জয়লাভের সম্ভাবনা বেশি। এমন বাস্তবতায় নারী চেয়ারম্যান প্রার্থী আফরিন মুন্না এখন বাড়তি দৃষ্টি দিয়েছেন নারী ভোটারদের দিকে। নারীদের সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে আফরিন মুন্না বাড়িয়ে দিয়েছেন জনসংযোগ।

এদিকে, নারী ভোটার রুমা আকতার, শারমিন সোলতানাসহ অনেক নারী ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে নারীরা স্বামী বা অভিভাবকদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিলেও এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। নারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ায়, আফরিন মুন্না নারী চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় এবার তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে চান কাকে ভোট দেবেন। এক্ষেত্রে নারী চেয়ারম্যান প্রার্থী মুন্নার যোগ্যতা বিচার করেই ভোট দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকে নারী চেয়ারম্যান প্রার্থী ফারহানা আফরিন মুন্না বলেন, পূর্ব বড়ভেওলা একটি অবহেলিত ইউনিয়ন। এখানে অতীতে উন্নয়ন বলতে কিছুই হয়নি। এলাকায় উন্নয়নের জন্য, জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা প্রতিক দিয়ে এলাকার উন্নয়নের জন্য জনগণের কাতারে পাঠিয়েছেন। আগামী ২৮ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইউনিয়নবাসী আমাকেই ভোট দিয়ে জয়ী করবেন বলে আমি আশাবাদী।

তিনি আরও বলেন, নারীরা এখন অনেক সচেতন। তাই তারা উন্নয়নের জন্য সরকার দলীয় প্রার্থীকেই ভোট দেবেন। দিনরাত উঠোন বৈঠক, গণসংযোগসহ প্রচারণায় নারীদের ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন নারী। তিনি মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আমি চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছি। আমি একজন নারী, এই অবহেলিত ইউনিয়নের উন্নয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় নৌকা প্রতীকের প্রতি নারীদের যে আগ্রহ দেখেছেন, তাতে তিনি নিশ্চিত পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নবাসী তাকেই বিপুল ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/এস.

  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ