শেরপুরে আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু, কৃষকের মুখে হাসি

শেরপুরে শুরু হয়েছে আগাম জাতের আমন ধান কাটা। আর এসব জমিতে অতিরিক্ত ফসল হিসেবে সরিষা, আলো ও শাকসবজির আবাদ করার প্রস্তুতি নেয়া শুরু করছে কৃষক। চলতি মৌসুমে বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় আমন ধানের ভালো ফলন হয়েছে।

দেশের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও উদ্বৃত্ত কয়েকটি জেলার মধ্যে সীামন্তবর্তী শেরপুর জেলা একটি। চলতি বছর শেরপুর জেলায় বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা যায়নি। তাই জেলার আমন ফসল ভালো হয়েছে। কৃষক দেখছে স্বপ্ন। কৃষি অফিস জানায়, জেলায় ৯১ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম জাতের হাইব্রিড ধানিগুল, তেজগুল, এজেড-৭০০৬, উচ্চ ফলনশীল বিনা-৭, বিনা-১১, বিনা-১৬ ও ১৭, ব্রিধান ৬২ কাটা শুরু করে দিয়েছে কৃষক। এসব ধানের ফলনও পাচ্ছে ভালো। প্রতি কাঠায় ৩ মণ করে ফলন হচ্ছে। এতে খুশি কৃষক। আগাম ধান কাটায় দামও পাচ্ছে ভালো। তবে কৃষকদের দাবি আগাম জাতের ধানগুলিও সরকারিভাবে যাতে ক্রয় করা হয়। আগাম জাতের ধান কেটে এসব জমিতে অতিরিক্ত ফসল হিসেবে চাষ করা হবে সরিষা, আলো ও শাক সবজি। আবার সরিষা ও শাক-সবজির আবাদ ঘরে উঠিয়ে একই জমিতে করা হবে ইরি-বোরো ধানের আবাদ।

কে কে চর ইউনিয়নের মাদারপুর গ্রামের কৃষক আজিজ বলেন, সরকার আমগরে ধান নেই না বলে আমরা ব্যবসায়ীগর কাছে ধান বেচি আর এরজন্য আমাগর অনেক লোকসান হয়। আমি ৫ বিগা জমিতে ধান করছি এইবার।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড: মুহিত কুমার দেব জানান, এবার শেরপুর জেলায় আমন ধানের উৎপাদন ভালো হচ্ছে। আগাম জাতের ধান কেটে একই জমিতে সরিষা, আলো ও শাক সবজি চাষ করায় কৃষকদের জন্য আশির্বাদ বয়ে নিয়ে আসবে। শেরপুর জেলার মাটি যে কোন ফসলের জন্য উপযোগী। একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল উৎপাদন করে বাড়তি আয় করছে কৃষক।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/এস.

  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ