মাদারীপুরের কালকিনি ও ডাসার উপজেলার ইউপি নির্বাচনে নৌকার ভরাডুবি

আওয়ামীলীগের শক্ত ঘাঁটি বলে বিবেচিত মাদারীপুরের কালকিনি ও ডাসার উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৯ টি ইউনিয়নেই স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। মাত্র ৪ টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দীপক বিশ্বাস বেসরকারিভাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, কালকিনি ও ডাসার উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ৯টি তে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন- কয়ারিয়া ইউনিয়নে কামরুল হাসান নূর মোহাম্মদ, সাহেবরামপুরে মাহবুবুর রহিম মুরাদ সর্দার, শিকারমঙ্গলে সিরাজুল আলম, লক্ষ্মীপুরে মৌসুমী হক সুলতানা, বাঁশগাড়ীতে মোস্তফিজুর রহমান সুমন, গোপালপুরে ফরহাদ মাতুব্বর, কাজীবাকাই ইউনিয়নে নূর মোহাম্মদ হাওলাদার, নবগ্রামে দুলাল তালকুদার ও বালিগ্রামে মজিবুর রহমান খান। আর বাকি চারটি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন।তারা হলেন আলীনগর ইউনিয়নে সাহীদ পারভেজ, সিডিখানে মো. চাঁন মিয়া শিকদার ও ডাসারে রেজাউল করিম ভাসাই শিকদার। এদিকে আগেই রমজানপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী বি.এম মিল্টন ইব্রাহিম কোন প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন হন।

মাদারীপুরের কালকিনি ও ডাসার উপজেলা আওয়ামীলীগের শক্ত ঘাঁটি বলে বিবেচিত হলেও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনীত প্রার্থীদের ভরাডুবিতে হতাশ স্থানীয়রা।আওয়ামীলীগের শক্তি ঘাঁটিতে নৌকার ভরাডুবিতে বিভিন্ন মহলে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে গুঞ্জুন উঠেছে।অনেকেই দাবি করছেন, মনোনয়ন বাণিজ্যের মাধ্যমে অযোগ্য লোককে নৌকার মাঝি করা হয়েছিল। যার কারণে এমন ভরাডুবি।

সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও কালকিনি উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি তাহমিনা বেগম নৌকার প্রার্থীদের এই পরাজয় দলের জন্য অশুভ সংকেত হিসেবে দেখছেন। এখানে তিনি আওয়ামীলীগের শত্রু হিসেবে কিছু আওয়ামীলীগ নেতা রয়েছে বলে মনে করছেন।

এ ব্যাপারে মাদারীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা বলেন, আওয়ামীলীগের শক্ত ঘাঁটি মাদারীপুরে শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ নৌকার সমর্থক। যারা সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন তারাও আওয়ামীলীগ করতো। এখানে নৌকার মনোনীত প্রার্থী বিজয়ী না হওয়ার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। আমরা পরাজয়ের কারণগুলো খতিয়ে দেখব।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/আর.

  • 9
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ