কানাইঘাট ঝিঙ্গাবাড়ী ইউপি নির্বাচনে লড়তে চান হাফেজ মাসুম

হাফেজ মাসুম আহমদ কবির। একজন তরুণ সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী ও মানবতাবাদী ব্যক্তিত্ব।অনেক দিন থেকে কানাইঘাট উপজেলার তৃণমূলের উন্নয়নে ও নিপীড়িত মানুষের পাশে থেকে কাজ করছেন তিনি। উপজেলার ঝিঙ্গাবাড়ী ইউ/পি নির্বাচনে এবার তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী। আলাপকালে জানা যায়, তিনি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছেন। জনগণের সমর্থন পেলে তিনি শুধু ইউনিয়ন নয় উপজেলার প্রান্তসীমা ছাড়িয়ে দেশের উন্নয়নে কানাইঘাট -জকিগঞ্জের মানুষের পাশে থাকতে চান।

উপজেলার স্বনামধন্য ও গুণী ব্যক্তিত্ব অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক মরহুম মাওলানা গোলাম কিবরিয়া সাহেবের সুযোগ্য ছেলে মাসুম আহমদ। তিনি ১৯৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। গ্রামের মক্তবে প্রথমে লেখাপড়া শুরু হয়।এরপর ঝিঙ্গাবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়াশুনা করেন এবং প্রাথমিকে বৃত্তি লাভ করেন। পিতার ইচ্ছা অনুযায়ী পরবর্তীতে তিনি ঝিঙ্গাবাড়ী হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন। পরবর্তীতে চারখাই মোশাহিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা থেকে প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে হিফজ সমাপ্ত করেন। হিফজ শেষে ঐতিহ্যবাহী ঝিঙ্গাবাড়ী ফাজিল মাদ্রাসায় দাখিল ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হন। সেখানে দাখিল দশম শ্রেণী পর্যন্ত প্রতিটি ক্লাসে প্রতিটি পরীক্ষায় তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেন। দাখিলে সর্বোচ্চ ফলাফলের পর তাঁর পিতা ও নিকটাত্মীয়দের পরামর্শে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল/ এম এ মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সেখান থেকে আলিম, ফাজিল, কামিল/এম এ কৃতিত্বের সহিত পাশ করেন।

ছাত্রজীবনে তিনি ঝিঙ্গাবাড়ী ফাজিল/ডিগ্রী মাদ্রাসার ছাত্র সংসদের জিএস ছিলেন। এছাড়া পাঠানটুলা কামিল মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সময় ছাত্র প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনে তিনি ব্যবসা বাণিজ্যর সাথে জড়িত আছেন। এর পাশাপাশি তিনি শিক্ষা ও সমাজসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। হিফজ সমাপ্তির পর তিনি প্রায় ২০ বছর সালাতুল তারাবীহর ইমামতি করেন। তিনি একাধারে মুখিগঞ্জ বাজার জামে মসজিদ, হরিশিংমাটি জামে মসজিদ,ইসলামগঞ্জ পূর্ব জামে মসজিদ সহ সিলেট শহরের বিভিন্ন মসজিদে নামাজ পড়ান।

হাফেজ মাসুম আহমদ এলাকার মানুষের কাছে এক প্রিয় নাম।তিনি নিজ হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান মুখিগঞ্জ জামেয়া পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি, নিজের প্রতিষ্ঠিত মাওলানা আজিজুর রহমান ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তাঁর পরিবার এলাকায় তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। তাঁর পিতামহ লামা ঝিঙ্গাবাড়ী দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত প্রতি বছর এ মাদ্রাসায় বড় ধরনের অনুদান দিয়ে আসছে তাদের পরিবার। তাছাড়া আজিজুর রহমান মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রতি বছর মেধাবী ছাত্রদের বৃত্তি প্রদান করা হয়। এছাড়া প্রতিবছর লামা ঝিংগাবাড়ী মাদ্রাসা, ঝিংগাবাড়ী ফাজিল মাদ্রাসা, তালবাড়ী মাদ্রাসা ও মুখিগঞ্জ জামেয়ায় নিয়মিত অনুদান দিয়ে থাকেন তিনি ও তাঁর পরিবার।

ছাত্র জীবন সমাপ্তির পর চাকরির পিছনে না ছুটে একজন উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি কাজ করতে থাকেন। তিনি একজন সাবেক এমপি’র বিশেষ সহকারী হিসেবে প্রায় ১১ বছর দায়িত্ব পালন করেন।সমাজসেবা তাঁর নেশা।তাই প্রতিদিন রোগী দেখা এবং রোগীর চিকিৎসা সহ সিলেটে নিজের পকেটের টাকা খরচ করে অসহায় মানুষের সাহায্য করেন।কোভিড ১৯ করোনাকালিন সময় নিজ এলাকা এবং সিলেটের বিভিন্ন এলাকার অসহায় মানুষের জন্য বার বার নগদ অর্থ এবং খাদ্য বিতরণ করেন হাফেজ মাসুম।

মাসুম আহমদ এলাকার আলেম উলামাগনের কাছে অত্যধিক প্রিয়। তিনি এক ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান। তাঁর পিতা মাওলানা গোলাম কিবরিয়া এলাকার একজন শ্রদ্ধাভাজন আলেম ও সালিশ ব্যক্তিত্ব ছিলেন।তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথেও জড়িত ছিলেন। লামা ঝিংগাবাড়ি মাদ্রাসা এবং দুবাগ স্কুল ও কলেজে প্রায় ৪২ বছর শিক্ষকতা করে অবসরে যান এবং গত ১৪ জুলাই তিনি ইন্তেকাল করেন। সমাজে তাঁর ব্যাপক গ্রহনযোগ্যতা ছিল।

মরহুম গোলাম কিবরিয়া তৎকালীন সময়ে সিলেট সরকারী আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল ফাস্ট ক্লাস পান। হাফেজ মাসুমের পিতামহ কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর দাদারা হলেন চার ভাই।ছোট দাদা সিলেটের সর্বজন শ্রদ্ধেয় প্রবীণ আলেম রেংগা মাদ্রাসার প্রধান শায়খুল হাদিস আল্লামা নজির আহমদ (ঝিংগাবাড়ীর হুজুর)। তার মাতামহ ঝিংগাবাড়ী চরিগ্রামের মরহুম ছৈদ আলী চৌধুরী, পন্ডিত সাব নামে মশহুর ।

হাফেজ মাসুম আহমদ ব্যক্তিগত জীবনে এক ছেলে সন্তানের জনক। গাছবাড়ি কামিল এম এ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা তাহির উদ্দিন তাঁর শ্বশুর।ভাই-বোনের মধ্যে দ্বিতীয় মাসুম আহমদের বড় ভাই মওদুদ আহমদ শরীফ (ইকোনমিক্সে অনার্স) বর্তমানে ফ্রান্স প্রবাসী,ছোট ভাই মসরুর আহমেদ জুবায়ের(বোটানী অনার্স মাস্টার্স) বর্তমানে ইতালি প্রবাসী ,মাসুদ আহমদ বুলবুল ফার্মাসিস্ট, ইমরান আহমদ নাঈম (একাউন্টিং অনার্স মাস্টার্স) বর্তমানে সিটি ব্যাংকে অফিসার হিসেবে কর্মরত ।সবার ছোট ভাই নাবিল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সিভিল এন্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পড়া শুনা করছেন।এক বোন (ইকোনমিক্সে অনার্স মাস্টার্স) বিবাহিত ।তাঁর মাতা একজন সম্ভ্রান্ত পরিবারের মহিলা এবং অত্যন্ত পরেহেজগার।

হাফেজ মাসুম আহমদ তাঁর জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য সময় সমাজসেবার পেছনে ব্যয় করছেন।একান্ত আলাপে তিনি বলেন, সমাজ সেবাই তাঁর কর্ম।এর মাধ্যমেই বেঁচে থাকতে চান তিনি।

ডেইলিরুপান্তর/আবির

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ