সারাজীবন বাংলা গানের ক্রীতদাস হয়ে থাকতে চায় স্বপ্নচারী নাঈম

আব্দুল্লাহ আল নাঈম।সংক্ষিপ্ত ছোট নাম নাঈম বলে সবার কাছে পরিচিত।একজন উদ্যমী কিশোর বয়সের তরুণ।অজপাঁড়া গাঁয়ে থেকেও সে নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্ঠা করছে।চঞ্চল,মেধাবী ও মিশুক চরিত্রের এ তরুণ জীবনে অনেক বড় হতে চায়।জীবনে অনেক বড় সে হতে চায়।উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা সামনে তার।কিন্তু গানের প্রতি প্রবল আকর্ষণ থাকায় গানের ক্লাস নিয়মিত চলছে তার।পারিবারিক অনেক বাঁধা প্রতিবন্ধকতার মাঝেও সে বড় শিল্পী হওয়ার সাধনা করে যাচ্ছে নাঈম।একান্ত আলাপ চারিতায় এ কথা জানিয়ে মিডিয়া ও সংবাদপত্রের সহায়তা চাইল সে।সে বলল মিডিয়া অনেক শিল্পীকে এগিয়ে দেয়।ক্যারিয়ার উন্নয়নে পৃষ্ঠপোষকতা করে।গণমাধ্যমের কাছে আমারও প্রত্যাশা তাই।

আব্দুল্লাহ আল নাঈম সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারা বাজার উপজেলার সন্তান। ভারতের আসাম এবং মেঘালয় রাজ্যের পার্শ্ববর্তী এলাকা বাংলাবাজার ইউনিয়নের পালইছড়া গ্রামে ২০০২ সালে একটি মুসলিম ধার্মিক পরিবারে সে জন্মগ্রহণ করে। তার শৈশবকাল এবং কৈশোর কাল কেটেছে এই এলাকায়ই। সে ছোটবেলা থেকেই অনেকটা মেধাবী প্রকৃতির ছিলো।

২০১৬ সালে তার বাবা মারা যান।মায়ের স্নেহে লালিত নাঈম বাবা যাওয়ার পর পড়াশোনার পাশাপাশি ২০১৭ সাল থেকে গান নিয়ে ভাবনা শুরু করেন। তখন থেকে সে পড়াশোনার পাশাপাশি গান নিয়ে ব্যাস্ত থাকতো। ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কামরুজ্জামান রাব্বি,কাজী শুভ,আরফিন রুমিসহ মিডিয়ার নতুন, পুরাতন প্রায় অধিকাংশ মিউজিসিয়ানদের সাথে সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সে পরিচিত হয়। ২০১৯ সাল থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন রিয়েলিটি শো থেকে শুরু করে বিভিন্ন গানের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে থাকে নাঈম।

নাঈম ২০১৯ সালে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রিয়েলিটিশো সান ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত মাছরাঙা টেলিভিশনের পরিচালনায় ম্যাজিক বাউলিয়ানাতে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কামরুজ্জামান রাব্বির মাধ্যমে অংশগ্রহণ করে।২০২০ সালে আর টিভি কর্তৃক আয়োজিত বাংলার গায়েন রিয়েলিটি শো সহ বিভিন্ন শোগুলোতে এখনো অংশগ্রহণ করে আসছে।

সে জানিয়েছে তার গানের পিছনে আসার একমাত্র কারণ তার বন্ধুদের কাছ থেকে পাওয়া উৎসাহ উদ্দীপনা । তবে সে খুব উৎসাহিত হতো যখন আরফিন রুমি গুরু এবং কাজী শুভ ভাইয়ের গান শুনত এবং ছোট বড় সকল মিউজিসিয়ানদের উৎসাহ পেতো।ফলে তখন থেকে বাংলা গানের প্রতি তার আরও বেশি উৎসাহ বেড়ে যায়। যখন গান নিয়ে ভাবনা শুরু করে নাঈম তখন থেকেই বাংলাদেশের দুই জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আরফিন রুমি এবং কাজী শুভ কে অনুসরণ করত সে। এখনো অনুসরণ করে আসছে।নাঈম বলেন, ইনশাআল্লাহ গানের জীবনে তাদেরকে অনুসরণ করেই বাংলা গানকে নিয়ে অনেক দূর এগিয়ে যেতে চাই। সে বলে,আমি সারাজীবন বাংলা গানের ক্রীতদাস হয়ে থাকতে চাই।তবে হাতে খড়ির জন্য এখনো কোন শিক্ষকের কাছ থেকে বাংলা গানের ক্লাস নিতে পারে নাই। সেটা নিয়ে অনেক দুঃখ প্রকাশ করেছে নাঈম।কারণটা হলো সে একজন মুসলিম এবং ধার্মিক পরিবারের সন্তান হওয়ায় পরিবার তাকে গানের প্রতি অগ্রাধিকার দেয়নি এবং কখনো গানের প্রতি তাকে পরিবারের কেউ উৎসাহ দেয়নি।তবে সে কোন বাঁধা না মেনে নিজ থেকেই বাংলা গান নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এবং যেতে চায়।

নাঈম ইতোমধ্যে অনেকগুলো মৌলিক গান নিজেই লিখেছে, সুর করেছে এবং গেয়েছে। তবে গানগুলো এখনো কোন কোম্পানিতে প্রকাশ করেনি। তার ইচ্ছে সবগুলো গান এক সাথে প্রকাশ করবে।তার স্বপ্ন বাংলা গান কে নিয়ে সবার ভালোবাসা, সাপোর্ট নিয়ে অনেক দূর এগিয়ে যেতে ।তার খুব ইচ্ছে একদিন বাংলা গান তার হাত ধরে অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

ডেইলিরুপান্তর/আবির

  • 505
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ