আদিতমারী উপজেলার ৮ টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা ৪ টি, স্বতন্ত্র ৪ টি পাল্লায় ভারী

আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনায় রয়েছেন প্রার্থীদের মধ্যে। ০৩ নং কমলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাহমুদ উমর চিশতী নৌকা পেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে তার পিতা মরহুম সামসুল ইসলাম সুরুজ একাধারে পাঁচবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এবং জেলা আওয়ামীলগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছিলেন মৃত্যুর পর  চিশতী চাচা শওকত আলী দুইবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তার বড় ভাই ইমরুল কায়েস ফারুক বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এখানে বর্তমান হাতপাখা চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন তার ইমেজ অনেকটাই কমে গেছে এবং তার বাড়ি সংলগ্ন সাবেক উপজেলা ছাত্রদলের সম্পাদক সাইফুল ইসলাম অপু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অনেকটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

অপরদিকে বিএনপি’র স্বতন্ত্র প্রার্থী মাইদুল ইসলাম জুয়েল দীর্ঘদিন থেকে মাঠে কাজ করে যাচ্ছে গত ইউপি নির্বাচনে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন তার রয়েছে নিজস্ব ভোট ব্যাংক। সারপুকুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম প্রধান কিছুটা জনপ্রিয়তা কমে গেছে তিনি মাঠ গোছানোর চেষ্টা করছে অপর আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হুমায়ুন কবির গত ইউপি নির্বাচনে অল্প ভোটে ব্যবধানে হেরে গিয়েছে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাঠে থাকায় জনগণের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। অপর আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বাদশা আলম নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর অনেকটা ভোটের ক্ষতি হয়েছে। এদিকে বিএনপি’র স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা যুবদলের সভাপতি নাহিদুল ইসলাম মানিক মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তিনি নির্বাচনের নতুন মুখ আর হাতপাখার মনোনীত প্রার্থী কোনো ইমেজ নেই।

ভেলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের মনোনীত আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী তার রয়েছে নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক দীর্ঘদিন থেকে চেয়ারম্যান থাকায় সাধারণ ভোটারদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে ।বিএনপি’র স্বতন্ত্র প্রার্থী রিপন গত নির্বাচনে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন দীর্ঘ দিন ধরে মাঠে থাকায় ভোটারদের মনে আস্থা অর্জন করতে পেরেছে অনেকটাই দাবি করছেন সাধারণ ভোটারগণ। হাতপাখা মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আজারুল ইসলাম মাঠে থাকা আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিজয় হতে অনেকটা সহজ হবে বললেন সাধারন ভোটারগণ।

দুর্গাপুর ইউনিয়নের বিএনপি’র স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান সালেকুজ্জামান প্রামানিক অনেকটাই বিতর্ক হয়ে পড়েছেন সাধারণ ভোটারদের কাছে এবং তার গ্রামের অপর প্রার্থী ইসরাইল হোসেন নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বর্তমান চেয়ারম্যানের ছালেকুর জামান প্রমানিকের অনেক ভোট ইসরাইলের বাক্স চলে যাবে জানালেন ভোটারগণ। অপর প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান ফিরোজার রহমান নান্নু  ব্যাপক জনপ্রিয় নেতা সাধারণ ভোটারগণ বলেন পুরান চাউলে ভাতে বাড়ে। এই সুযোগে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ভুট্টা নান্নু সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন গত ইউপি নির্বাচনে তিনি দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন।

সাপটিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সোহরাব হোসেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী তার রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এবং ব্যাপক অর্থ-সম্পদের মালিক ভোটারগণ বলছেন ব্যাপক ভোটে বিজয় হতে পারে। এই ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি অনন্ত কুমার দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন তিনি সাধারণ ভোটারের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হলেও অর্থ না থাকায় অনেকটাই দুর্বল তিনি। জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন তার নেই ব্যক্তিগত ইমেজ এই ইউনিয়নের নৌকার পাল্লা অনেক ভারী।

উপজেলার সদর ভাদাই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান কৃষ্ণকান্ত রায় বিদুর ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে অপর প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান রোকনুজ্জামান রোকন বিজয় ছিনিয়ে আনতে রাতদিন মাঠে অক্লান্ত পরিশ্রম করে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তার দাবি তিনি বিজয়ী হবেন। অপর জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী নতুন মুখ হিসেবে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা করছেন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রবিউল ইসলাম বাবুল দীর্ঘদিন ধরে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। এই ইউনিয়নের নৌকা এবং আনারস মার্কা  হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বললেন সাধারন ভোটারগণ। পলাশী ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান শওকত আলী বিভিন্ন কার্যকলাপ বিতর্কিত চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত এই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পাভেল সরকার তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন সাধারণ ভোটারগণ বললেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী এবং জামাতি ইসলামের স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। ৮ নং মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন ২ জন প্রভাবশালী হেভিওয়েট প্রার্থী। সেই সাথে চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন তরুণ এক স্কুল শিক্ষক। মুলত এই ৩ প্রার্থীকে নিয়েই চলছে ভোটারদের মাঝে চুল ছেড়া বিশ্লেষণ। হ্যাট্টিকের দ্বারপ্রান্তে নৌকার প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী।

সরেজমিন মহিষখোচা ইউনিয়ন ঘুরে সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানাগছে, আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী গত ২ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। তিনি তৃতীয় বারের মত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। ইতিমধ্যেই তিনি সাধারন ভোটারদের মন জয় করে প্রচার-প্রচারনায় এগিয়ে রয়েছেন। প্রতিদিন ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় উঠান বৈঠক ও সভা সমাবেশ অব্যাহত রেখেছেন। নৌকা মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরীর সভা সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন আদিতমারী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলমসহ দলীয় নেতাকর্মীরা। তারা সভা সমাবেশে মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরীর গত ১০ বছরের উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরছেন। সেই সাথে মহিষখোচা ইউনিয়নের অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করতে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে সরকারের হাতকে শক্তিশালী করার দাবী করছেন। তিনি রয়েছেন হ্যাট্রিকের দ্বারপ্রান্তে।

এদিকে ২০১১ সালে ১ম বারের মত ৮ নং মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী একজন সম্ভান্ত পরিবারের সন্তান। ১ম বারের মত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড সাধিত হয়। এরপর ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে নৌকা মার্কা নিয়ে সাধারন ভোটাররা বিপুল ভোটের ব্যবধানে আবারও মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১০ বছরে মহিষখোচা ইউনিয়নে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখেন তিনি। বারঘড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মহির উদ্দিন বলেন, মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এমপি’র একজন আস্থাভাজন। আর এ কারণেই একের পর এক এলাকায় উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছেন।

তিনি আরো বলেন, ইনশাআল্লাহ ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জনগন বিপুল ভোটের মাধ্যমে নৌকা মার্কার প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন। আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বঞ্চিত সাবেক ইউপি সদস্য মমতাজ উদ্দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে ৮ নং মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন। তিনিও প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সাধারন ভোটারদের মন জয়ে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতিও। কিন্তু সাধারন ভোটাররা তার কথায় ভুলতে পারছেন না। তবে সাধারণ ভোটাররা দাবী করছেন মহিষখোচা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ত্রিমুখী লড়াই হবে।

সাধারণ লোকজনের সাথে কথা বলে জানাগছে, মমতাজ উদ্দিন দল বদলে সেরা। সর্বশেষ বিএনপি ছেড়ে প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এমপির হাতে পিতলের নৌকা উপহার দিয়ে আলীগে যোগদান করেন। এর আগে তিনি জাতীয় পার্টি থেকে সাবেক উপমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর হাত ধরে বিএনপিতে যোগদান করেন। এলাকাবাসী মমতাজ উদ্দিনকে পাল্টিবাজ নেতা হিসেবে চিনেন। আর এ কারণেই সাধারন ভোটাররা তার প্রতি অনেকটা বিমুখ।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/জি.

  • 31
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ