দক্ষিণ সুরমার হকিয়ারচর জামে মসজিদের জমি দখলের পাঁয়তারা করছে একটি চক্র

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা গ্রামবাসীর

দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার ইউনিয়নের হকিয়ারচর গ্রামের প্রাচীন একটি মসজিদের প্রায় দেড় কেদার ভূমি আত্মসাতের চেষ্টা করছে একটি চক্র। চক্রটি রাস্তা দখল করে নিরীহ মুসল্লি ও স্কুল শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। গ্রামবাসী এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন হকিয়ারচর পঞ্চায়েত কমিটি ও হকিয়ারচর জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যরা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মসজিদের মোতাওয়াল্লি নূর মিয়া। তিনি বলেন, ‘লালাবাজার ইউনিয়নের হকিয়ারচর জামে মসজিদটি প্রায় ৮২ বছর পূর্বে প্রতিষ্ঠিত। গ্রামের মরহুম মোহাম্মদ হায়দরের পুত্র মো. হাশিম ও তার পরিবারের সদস্যরা ১৯৩৯ সালে মসজিদের জন্য ভূমি দান করেন। প্রায় ১৫ শতক জায়গার উপর এ মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।’

নূর মিয়া আরও বলেন, ‘মসজিদ ঘরের পাশে সাবেক সিলেট সদর (বর্তমান দক্ষিণ সুরমা) উপজেলাধীন লালাবাজার ইউনিয়নের রসুলনগর মৌজার ১৫৭ নং জে.এল স্থিত ২৩১ নং খতিয়ান ও ৮২/১ ডিপি খতিয়ানের অর্ন্তগত ২১৬৬, ২১৬৮, ২১৬৯, ২১৭০, ২১৭১,২১৭২, ২১৭৩,২১৭৪, ২১৭৮, ২১৭৯,২১৮০ ও ২১৮১ নং দাগের ভূমি রায়তি সূত্রে মালিকানা দাবি করে হকিয়ারচর গ্রামের রকিব আলী উরফে রফিক মিয়াসহ কয়েকজন নিজেদের নামে ১৯৫৬ সালে রেকর্ড করিয়ে নেন।’

‘এই ভুল রেকর্ডের বিরুদ্ধে প্রকৃত মালিক মোহাম্মদ হাশিমের উত্তরাধিকারীগণ ১৯৫৮ সালে স্বত্ব মোকদ্দমা (নম্বর- ৩৮৬/১৯৫৮) দাখিল করলে আদালত মোহাম্মদ হাশিমের উত্তরাধীকারীগণের পক্ষে রায় প্রদান করেন। পরবর্তীতে রকিব আলী উরফে রফিক মিয়া ও আব্দুল মনাফরা আপিল করলে তা খারিজ হয় এবং তারা রিভিউ আবেদন করেন। কিন্তু বিজ্ঞ আদালত তা খারিজ করে মো. হাশিমের উত্তরাধিকারীগণের মালিকানা বহাল রেখে নিম্ন আদালতের প্রদত্ত রায় বহাল রাখেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘মামলায় পরাজিত হয়ে রকিব আলী উরফে রফিক মিয়া ও আব্দুল মনাফরা দেড় কেদার ভূমি হকিয়ারচর জামে মসজিদে দান করে দিতে চান। কিন্তু, গ্রামবাসী তাদের দান গ্রহণ করেননি। বরং, দক্ষিণ সুরমা বিশিষ্ট মুুরুব্বিদের মধ্যস্ততায় প্রকৃত মালিক মো. হাশিমের উত্তরাধিকারীগণ ও পরাজিত পক্ষ রকিব আলী উরফে রফিক মিয়াগণ উভয় পক্ষের সমন্বয়ে মসজিদের অনুকূলে একটি দানপত্র দলিল সম্পাদন করে নেন।’

‘দানকৃত ভূমিতে মসজিদের পুকুর অবস্থিত এবং মসজিদের মালিকাধীন দাগসমূহের উপর দিয়ে আনুমানিক ৮ ফুট প্রশস্থ একটি রাস্তা নির্মাণ করা হয়। এই রাস্তা দিয়ে হকিয়ারচর গ্রামের পশ্চিম অংশের লোকজন ঈদগায় যাতায়াত করেন এবং গ্রামের ছোট ছোট ছেলে মেয়ে স্কুলে যাতায়াত করে। চলমান জরিপেও রাস্তাটি জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা হিসেবে জেলা প্রশাসনের ১ নম্বর খতিয়ানে রেকর্ডভূক্ত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি রকিব আলী উরফে রফিক মিয়ার ছেলে শাহেল আহমদ মসজিদের মালিকানাধীন এ রাস্তাটি তাদের বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা দাবি করে এবং তার চাচাতো ভাই আব্দুল হান্নান গ্রামবাসীকে বিবাদী করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। এর আগে শাহেল আহমদের ভাই শাহীন আহমদ বাদী অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করলেও তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।’

‘সবশেষ, গত ২২ অক্টোবর শাহেল আহমদ মসজিদের ইমামকে মারধর করে জোরপূর্বক মসজিদ থেকে বের করে দেয় এবং মসজিদে তালা ঝুলিয়ে দেয় উক্ত শাহেল আহমদ।’ এ ঘটনায় গ্রামবাসীর পক্ষে দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে শাহেল আহমদ, আব্দুল হান্নান, শাহিন আহমদ, আব্দুল কাদির, রবিন, আব্দুল আহাদ, আব্দুল কালাম, সামাদ, শিপলু, দেলোয়ার হোসেন, সুজন আহমদ  ও অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রামবাসী শাহেল ও তার সহযোগীদের আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাজী সইদুল্লাহ, আফিদ আলী, আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা আব্দুল হান্নান, হাজী আব্দুল সেলিম, হাজী সাইস্তা মিয়া, গোলাম আম্বিয়া ফজলু, আব্দুল কাইয়ুম, ফয়েজ হোসেন, আমিনুল ইসলাম, আব্দুল হক, খালেদ হোসেন, মুক্তার আহমদ, সাহেদ আহমদ প্রমুখ।

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/ডি.

  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ