ইউপি নির্বাচনের জের

কালকিনিতে দুই স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর বসত বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুরের অভিযোগ

দ্বিতীয় ধাপের আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় দুই স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর বসত বাড়িতে রাতের আধারে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে আ.লীগ প্রার্থীদের সমর্থকরা। এতে আহত হয়েছে ৭ জন কর্মী-সমর্থক। পরে খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বৃহস্পতিবার রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী সুত্রে জানাগেছে, উপজেলার আলীনগর ইউপির আ.লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা লাঠি সোঠা নিয়ে হঠাৎ করে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হাফিজুর রহমান মিলন সরদারের বসত বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এসময় তারা কয়েকটি বোমা বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটনায় এবং এবং মিলন সরদারের ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার ও তার কর্মীর ৮-১০টি মোটার সাইকেল ভাংচুর করে। পরে কালকিনি থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। এসময় তাদের বাধা দিলে মিলন সরদারের ৩ কর্মী গুরুতর আহত হন। তাদেরকে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। অপরদিকে বৃহস্পতিবার রাতে একই সময় শিকারমঙ্গল ইউপির স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শিরাজ মাল তার বাড়ির সামনে নির্বাচনী সভা করেন। এসময় তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি আ.লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ শিরাজুল ইসলাম মৃধার সমর্থকরা হামলা চালিয়ে সভা পন্ড করে দেয় এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শিরাজ মালের বসত বাড়িতে ইটপাটকেল ছুড়ে ভাংচুর করেন। এসময় তাদের বাধা দিলে তার ৪ জন কর্মী আহত হন। আহতদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় কালকিনি থানায় অভিযোগ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শিরাজ মাল।

আলীনগর ইউপির স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হাফিজুর রহমান মিলন বলেন, এলাকায় আমার গনজোয়ার দেখে সাহিদ পারভেজ সহ্য করতে না পেরে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। এতে করে আমার দুই কোটি টাকা ক্ষতিসাধান হয়েছে।  আমি প্রশাসনের কাছে একটি সুষ্ট নির্বাচন উপহার চাই এবং জীবনের নিরাপত্তা চাই।

আলীনগর ইউপির আ.লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী সাহিদ পারভেজ বলেন, নির্বাচন বানচাল করার জন্য এবং আমাকে ফাসাঁনোর জন্য মিলন সরদার নিজে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ভাংচুরের নাটক সাজিয়েছে।

শিকারমঙ্গল ইউপির স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শিরাজ মাল কান্না জরিত কন্ঠে বলেন, আমাকে কোন সভা-সমাবেশ বা গনসংযোগ করতে দিতেছেনা আ.লীগ প্রার্থী শিরাজুল মৃধা। আমি নির্বাচনী সভা করলে আমার লোকজনকে বেদম মারধর করেছে শিরাজুল ও তার লোকজন।

শিকারমঙ্গল ইউপির আ.লীগের প্রার্থী মোঃ শিরাজুল ইসলাম মৃধা বলেন, আমার লোকজন কাউকে হামলা করেনি। তার অভিযোগ ভিত্তিহীন।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মস্তফা রাসেল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। তবে বিষয়টি দেখবো।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/আর.

  • 13
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ