করোনা কালে যাদের সাহসী ও মানবতাবাদী কার্যক্রম প্রশংসার দাবী রাখেঃ ০৫(পাঁচ)

আমরা যদি না জাগি মা , কেমনে সকাল হবে………. অরণি সেমন্তি খান শুধু একটি নাম নয়, একটি উদাহরণ। একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। কড়া প্রতিবাদ, আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নিজেকে আবিষ্কার করেছেন অরণী। মাথা ভারী করে রাখা দলগুলোর বাহিরে এসে তিনি নিজেকে ও সমাজকে আলোকিত করার কাজ করছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জীব প্রযুক্তি বিভাগের ছাত্রী ছিলেন অরণি সেমন্তী খান। ডিনস অ্যাওয়ার্ডসহ পেয়েছেন নানা পুরস্কার। স্বতন্ত্র জোট থেকে ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদেও লড়েছেন তিনি। ৮ এপ্রিল ২০১৮। কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। পুলিশ বেদম পেটায় তাঁদের। একই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনেও ভাঙচুর চালানো হয়েছিল। কে বা কারা উপাচার্যের বাসভবনে হামলা চালিয়েছে তখনো তার হদিস না মিললেও একদিন পর দেখা গেল, বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক উপাচার্যের বাসভবনে হামলাকারীদের বিচার চেয়ে অপরাজেয় বাংলার সামনে মানববন্ধন করলেন। অরণি তখনো কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হননি। বলছিলেন, ‘তখনো এই আন্দোলন নিয়ে ততটা জানতাম না, তাই যুক্ত হইনি। কিন্তু আগের রাতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলা আর একদিন পর স্যারদের এই মানববন্ধন দেখে খুব খারাপ লেগেছিল। তাই ওই সময় তিনটা প্লাকার্ড বানাই, তাতে ক্যাম্পাসে পুলিশি হামলার ব্যাপারে শিক্ষকদের নীরবতাকে মনে করিয়ে দেওয়া বক্তব্য ছিল। প্লাকার্ডগুলো নিয়ে আমি আর আমার তিন বন্ধু সেদিন স্যারদের মানববন্ধনের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম।’ তাঁর এক শিক্ষক সেদিনের এই ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে লিখেছিলেন, ‘আমি আমার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত শিখছি।’

সেদিন ছোটখাটো গড়নের অরণির আকাশসমান সাহস মুগ্ধ করেছিল ক্যাম্পাসের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। কোটা সংস্কার আন্দোলনের পর এলো নিরাপদ সড়ক আন্দোলন। সেখানেও অরণির মাথা ফেটে যাওয়ার ছবি ফেসবুকে বেশ সাড়া জাগিয়েছিল। ১০টা সেলাই লেগেছিল তাঁর মাথায়। চুল কেটে ফেলতে হয়েছিল। তারপর এলো ডাকসু নির্বাচন। তখন ‘স্বতন্ত্র জোট’ গঠন করে সেই জোটের ব্যানারে ভিপি পদে দাঁড়িয়ে আবারও আলোচনায় এসেছিলেন অরণি। নির্বাচনে প্রচারণার সময় তিনি সবাইকে বলে বলে জড়ো করেছেন। সবার ভেতরে ডাকসুর জন্য উদ্দীপনা জুগিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন ২০১৩ সালে। ভূগোলে। কয়েক দিন ক্লাস করার পর আর ইচ্ছা করেনি। কারণ তাঁর পছন্দের বিষয় জিন প্রকৌশল।স্কুলে থাকতে জীববিজ্ঞান বইয়ের শেষ দিকে ভাইরাসের ছবি দেখে আকৃষ্ট হয়েছিলেন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে। ভূগোলে তাই আনন্দ পাচ্ছিলেন না। সে বছর গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনেও অংশ নিয়েছিলেন। পাশাপাশি ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিলেন বেশ। পরের বছর আবার ভর্তি পরীক্ষা দিলেন। ‘এ’ ইউনিটে ১৭৪তম হয়ে নিজের পছন্দের বিভাগে ভর্তি হলেন।

প্রথম বর্ষ বেশ ভালো কাটালেন। নিয়মিত ক্লাস, ঘুরে বেড়ানো, বন্ধু-আড্ডা—সব করেও পড়াশোনায় ফাঁকি দেননি। ফলাফল বছর শেষে সিজিপিএ চারের মধ্যে ৩.৮৫। দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় ক্যাম্পাসে মেট্রো রেলের রুট বদলের আন্দোলনে অংশ নিলেন। তবে এবার সিজিপিএ একটু কম ছিল। তৃতীয় বর্ষে এসে নানা কারণে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন। ক্লাস শেষ করেই বাসায় চলে যেতেন। অনার্সের চূড়ান্ত ফলে দেখা গেল সিজিপিএ চারের মধ্যে ৩.৭৫ পেয়েছেন তিনি। ক্লাসের উপস্থিতি ৯৫ শতাংশ। বিভাগে তৃতীয় হলেন। ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন ডিনস অ্যাওয়ার্ডও। অরণি বললেন, ‘আমি ক্লাসে নোট নিতাম না। কোনো কোনো ক্লাসে বসে বই পড়তাম। আমার বন্ধু সোতি রাহিল নাসের হুবহু নোট করত। সেটা নিয়ে নিজের মতো করে নোট বানাতাম পরীক্ষার আগে। তাতেই হয়ে যেত।’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘ক্লাসের পড়ার বাইরেও অন্য বই পড়তে হবে খুব। তাহলে ক্লাসের পড়াটাই খাতায় বুঝিয়ে লেখার মতো যোগ্যতা হয়ে যাবে।’

ডাকসুর নির্বাচনে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গে বললেন, ‘নির্বাচনের আগে ক্যাম্পাসের অবস্থা দেখে আমরা বেশ আশাহত হচ্ছিলাম। কিছু জুনিয়র মিলে তাই ‘চায়ের কাপে ডাকসু’ নামে একটা আড্ডার আয়োজন শুরু করেছিল তখন। একটা সময়ে তাঁরা আমাকেই নির্বাচনে দাঁড়িয়ে যেতে বললেন। আমরা আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি করতে এসেছি। আমাদের মাথায় কোনো দলীয় লেজুড়বৃত্তির চাপ নেই। অতীতেও শিক্ষার্থীদের হয়ে কথা বলেছি। সামনেও বলব।’ অনেকেই তাঁকে জিজ্ঞেস করে, চাইলেই একটা সুন্দর একাডেমিক জীবন পেতে পারতেন, তা না করে রাজনীতিতে কেন? বললেন, ‘আমার মা-বাবা বাম রাজনীতি করতেন। মায়ের নানা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নানিরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। আমি এসব গল্প শুনেই বড় হয়েছি। তাই রাজনীতি আমার রক্তেই আছে।’

আলাপচারিতায় অরণি বলেন, একটি কথা আছে, আই হেইট পলিটিক্স। মেধাবীরা রাজনীতিতে আসতে চায় না। আমরা স্বতন্ত্র জোট গঠন করে মেধাবীদের জড়ো করার চেষ্টা করছিলাম। ভালো ফল আর আন্দোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই অরণির জীবন। অনেক অর্জন আছে তাঁর। অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ছাত্রী ছিলেন। সেখানেও বেশ নাম করেছেন। ভালো ফলাফলের জন্য পেয়েছিলেন ডেইলি স্টার অ্যাওয়ার্ড। স্পেনিশ ভাষা, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কোর্স করতে একবার স্পেনেও গিয়েছিলেন। মাসখানেক ছিলেন সেখানে। ২০১৭ সালে নিজের বিভাগ আয়োজিত ‘ডিএনএ ডে’-তে আইডিয়া কম্পিটিশনে হয়েছেন চ্যাম্পিয়ন। ছায়ানটে লোকসংগীতে এক বছরের সূচনা কোর্স করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞান সমিতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ভ্রমণ বেশ পছন্দের অরণির। সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়েন। পাহাড় টানে তাঁকে। বান্দরবানে তাই যাওয়া হয়েছে অনেকবার।সিলেটেও আসা হয়েছে। সময় পেলেই বই পড়েন। লেখালেখিও করেন। সেলিনা হোসেন, জহির রায়হান আর অরুন্ধতি রায় তাঁর পছন্দের লেখক। অরণি মাস্টার্স শেষ করে কর্মজীবনের পাশাপাশি আপাতত থিসিস করছেন ডায়াবেটিসের ওষুধ নিয়ে।ভাইরাস নিয়েও গবেষণা করছেন। অরণি সেমন্তি খান অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলেন।কথাগুলো খুবই গুরুত্বপুর্ণ।বিভিন্ন টকশো’তে, লাইভ প্রোগ্রামগুলোতে তাঁর বক্তব্য মন জুড়ায়।মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনতে ইচ্ছে হয়।

অরণি সেমন্তি খান বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতিতে অন্যতম কিংবদন্তী মেধাবী ও প্রতিভাধর ছাত্রনেতা ।এ সময়ের সবচাইতে আলোচিত ছাত্রনেতা। অরণি সেমন্তি খান এর ভাষায়, “আমরা জিডিপি’র গান গাই। প্রবৃদ্ধির গান গাই। জীবনের গান গাইতে পারি না। “গতবছর করোনাকালে অরণি তাঁর ফেসবুক পোস্টে এ মূল্যবান কথাটি লিখেছিলেন। সত্যিই আমরা অনেক কিছুর গান গাই। আমরা জিডিপির গান গাই, প্রবৃদ্ধির গান গাই, উন্নয়নের গান গাই। গান গাই সমুদ্র জয়ের। কিন্তু জীবনের গান গাইতে পারি না।

অরণি বলেছিলেন, ভাইরাল হও,তবে বিচার পাবে।এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন সোস্যাল মিডিয়া তে প্রচার না হলে বিচার পাওয়া যায় না। অরণি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, শিক্ষা মানে কাঁধে করে বইয়ের ব্যগ ঝুলিয়ে নিয়ে যাওয়া কিংবা পরীক্ষার খাতায় কিছু লিখে দেয়ার নাম নয়। বরঞ্চ পূর্ণাঙ্গ মানুষ হওয়ার জার্নিটাই হলো শিক্ষা। অপর একটি লাইভ প্রোগ্রাম এ ডাকসু কিংবা ছাত্র নেতাদের দায়িত্ব বলতে গিয়ে বলেন, অফ দ্যা স্টুডেন্টস,ফর দ্যা স্টুডেন্টস, বাই দ্যা স্টুডেন্টস ।চমৎকার সংজ্ঞা।আব্রাহাম লিংকন এর গণতন্ত্রের সংজ্ঞা কিংবা মহাকবি মিল্টনের শিক্ষার সংজ্ঞা স্মরণ করিয়ে দেয় অরণির ভাষণে। তিনি অনলাইন হ্যরাসমেন্ট যারা করে তাদেরকে বললেন, প্রভু এদের তাও তুমি জ্ঞান দাও, ক্ষমা করো। চক্ষু দাও, লজ্জা দাও। নাইলে আমাকে তুলে নাও। চমৎকার কথা। তায়েফের ময়দানে মহানবীর সেই কথাই স্মরণ করে দেয় এখানে। এভাবে অনেক অনেক ইম্পোরটেন্ট স্পীচ আছে অরণির।

এদেশের প্রকৃত দেশপ্রেমিক ও সাহসী সূর্য সন্তান অরণিরা।অরণি করোনা সংকট মোকাবেলায় প্রথম দিকে সরকারের গড়িমসির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, হ্যাঁ এটা প্রশাসনের গরজ।আমজনতা ভাইরলজি পড়ে আসে নি।এবং এটা একটা পাবলিক হেলথ ক্রাইসিস। এটা মেডিসিনের কিছু না। অরণিই প্রথমে লোকাল ট্রান্সমিশন, কমিউনিটি ট্রান্সমিশন এর ব্যাখ্যা জনগণকে জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি যা বলব সত্যটাই বলব। এটা নিয়ে মানে ভাইরাস নিয়ে আমি পড়েছি। ইতিহাসে যত মানবতাবাদী রাজনৈতিক নেতাদের কথা পাওয়া যায় কিংবা যুগে যুগে যে সকল চৌকষ নারীরা সমাজে সংকটকালে অসামান্য অবদান রেখেছেন অরণি সেমন্তী খানের চরিত্রের মাঝে আমরা তা ই দেখতে পাই।

অরণি সেমন্তি খান সম্পর্কে তাঁর মা বলেন, আমার শুভ্র সুনীল আকাশ, ব্রর্জশিখা, আমার জগৎ। যদিও স্বভাবে ভিন্নতা রয়েছে, তবুও আমরা এক। সে আমার ভিতরে ঘুমিয়ে থাকা মানবী! কান্ত আলাপচারিতায় কথা হয়েছিল সারা দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীদের হাতে গড়া সম্পুর্ন দলীয় লেজুড়বৃত্তি মুক্ত তৃতীয় ধারার স্বাধীন রাজনৈতিক সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক নির্দলীয় ছাত্র রাজনীতির অন্যতম ইউনিক প্লাটফর্ম ‘স্বতন্ত্র জোট’র অন্যতম নেতা হাল আমলের দুঃসাহসী ও প্রভাবশালী ছাত্রনেতা সুনিপুন সংগঠক, সুবক্তা অরণি সেমন্তি খানের সাথে।

স্বতন্ত্র জোটের জানা-অজানা,আশা-নিরাশার কথা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতি, তাদের সম্পর্ক, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও শিক্ষার কথা,দেশের সামগ্রিক রাজনীতি ও সামাজিক সমস্যার বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা এবং রাজনীতিতে মেধাবীদের অনাগ্রহ সহ বিভিন্ন বিষয়ে গল্পে গল্পে পারস্পরিক আলাপ আলোচনা হয়।সেই সাথে স্বতন্ত্র জোটের বিভিন্ন কর্মসূচি ও পরিকল্পনার কথা অবহিত হই।এই জোটের কোন পিতৃ পরিচয় নাই।পিতৃ সংগঠন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়।ছাত্রদের অধিকার আদায়, সমস্যা সমাধান ইত্যাদি বিষয়সহ ন্যায্য দাবী দাওয়া আন্দোলনে কাজ করছে তারা।
অরণি নিজেই এক বিশেষণ। কোনটা রেখে কোনটা উপাধি তাকে দেয়া যায়।সব কটিই তার জন্য প্রযোজ্য। আগামী দিনের এক অনন্য সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক কিংবা একজন বিজ্ঞানী কিংবা একজন গবেষক অথবা একজন শিক্ষক হিসেবে ।অরণিরা এ জাতির আশার আলোকবর্তিকা।পুতিগন্ধময় রাজনীতির বিপরীতে আলোর ঝলকানী। তারকাখচিত নেতৃত্ব ও ন্যায়ভিত্তিক তাদের আন্দোলনে ভোর আসবেই।সোনালী সকালের অপেক্ষায় এ সমাজ।

মুক্ত করো ভয়
আপনা মাঝে শক্তি ধরো
নিজেরে করো জয়।

ভয় দূর হোক।কেটে যাক অমানিশা।মেঘের আড়ালে ঢাকা সোনার রবি আবার হেসে হেসে আলো দিবে। অরণি অসাধারণ লেখেন। নির্মোহ ভাবে বাস্তব সত্য তুলে ধরেন। কিংবদন্তিতুল্য সাহসী কন্ঠস্বর।সহযোদ্ধা গণ তাঁকে নিয়ে গান ও তৈরী করেছেন। অরণীর গান সবাইকে প্রেরণা যোগায়।

তারা বলে, এ শহর নাকি প্রাণহীনদের আস্তানা
যেদিকে যাই, তারা দেয়াল তুলে বলে, এ শহর তোমার রাস্তা না
অরণী তুমি এ শহরটাকে তোমার ডাকে গান বানাও, মান ভাঙাও
যারা গান গাইতে জানে না তাদের তুমি জাগাও
সুরে তার, বোধ সবার মুক্ত হাওয়া
অন্ধকার শহরটার এই তো চাওয়া
তোমাকে নিয়ে আমি গাড় লালে বানাবো স্তম্ভ,
তুষারসিক্ত মাঠের কোণায়, তোমার রক্ত আমায় বোনায়
স্বপ্নসাদা আকাশটাতে নতুন গল্পলোক
অরণী তুমি এ শহরটাকে তোমার ডাকে গান বানাও, মান ভাঙাও
যারা গান গাইতে জানে না তাদের তুমি জাগাও
সুরে তার বোধ সবার মুক্ত হাওয়া
অন্ধকার শহরটার এই তো চাওয়া।

অরণির মা লাবণি শবনম মুক্তি বলেন, আমরা গত বছরের জুলাই এর শেষ দিন থেকে অনেক বড় ধরনের দুঃসময় পার করছি। এই করোনা পরিস্থিতির কারণে সবাইকে পাশেও পাচ্ছি না। যদিও সবাই নিয়মিত যোগাযোগ করেছেন। আবার অনেকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন এবং করছেন। আমাদের মেয়ে তার বাবার উন্নত চিকিৎসার জন্য যাকে দরকার, যার সাথে কথা বলা দরকার, বাসায় কে কিভাবে কাজ করবে, সেবা দিবে আরো অনেক কিছু সে খুব সুন্দর ভাবে ব্যবস্থা করছে। সংসার সামলাচ্ছে পুরোপুরি, বাবার অফিসে যোগাযোগ, বাইরের কাজও করছে। প্রায় সবকিছুই সে একাই সামলাচ্ছে ও তদারকি করছে। যা আমাদের সমাজে আমরা একজন ছেলে সন্তানের কাছ থেকে আশা করি।আমাদের একমাত্র মেয়ে সবকিছুই নিজ দায়িত্বে করেছে। শুধু সিদ্ধান্তে আমরা কয়েকজন সহযোগিতা করেছি। তাই আজ মনে হয় আমরা আমাদের মেয়েকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পেরেছি। আমরা গর্বিত!তাই যাদের ছেলে সন্তান নেই তারা হতাশ হবেন না।যদি কন্যা শিশুকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলি সব ই সম্ভব।

অরণির বাবা বলেন, আমার মেয়ে আমার সবকিছু। আমার পৃথিবী। আমার একমাত্র সন্তান। মেয়ের কাজে তিনি খুশি । অরণি’ মেধাবী, প্রতিভাধর,সাহসী ও জিনিয়াস এক নারী।সরকারের উদাসীনতা লক্ষ্য করে ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মহামারি মোকাবেলা করার পদক্ষেপ দেখে সময়মত সম্মিলিত কার্যক্রম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, গণজমায়েত এড়িয়ে চলা, পাবলিক প্লেসে বিচরণ না করা, করোনার সময় ক্লাস নয় বহুবিধ দাবীতে গতবছর আন্দোলনে নেমেছিল স্বতন্ত্র জোট। অরণি নিজেই এক প্রতিষ্ঠান,এক আন্দোলন। একজন প্রতিবাদী, সত্যবাদী ও সাহসী নারী।অত্যন্ত ভদ্র,অমায়িক ও প্রাণোচ্ছল চরিত্রের এক অভুতপুর্ব সংমিশ্রণ অরণি সেমন্তি খান।

মেধা ও সৃজনশীল-সৃষ্টিশীল প্রতিভাগুলো সংগঠিত হয় স্বতন্ত্র জোটে।আর এর নেতৃতবে অসাধারণ প্রতিভা ও প্রখর মেধার অধিকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীন্স এওয়ার্ড প্রাপ্ত শিক্ষার্থী অরণি সেমন্তি খান। তিনি নতুন পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রতিরোধ ও প্রতিকারমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে রাষ্ট্রের প্রতি আহবান জানান।

সদাশয় সরকার ছাত্রদের দাবী যৌক্তিক ভেবে দেরীতে হলেও সেসময়ে সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্টানসমুহ বন্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। অরণি’ একজন জনপ্রিয়, নির্লোভ, উদার ও মুক্তমনা মানুষ।তারকা মেধাবী নেতা ও নয়া প্রজন্মের প্রিয়পাত্র সুযোগ্য এক মহীয়সী নারী। তিনি ভয়কে জয় করতে চান।

ডাকসু নির্বাচন-২০১৯ এ তিনি স্বতন্ত্র জোটের প্যানেল থেকে কেন্দ্রীয় সংসদ নির্বাচনে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে Ranking এর দিক থেকে প্রথম জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের কৃতি শিক্ষার্থী অরণি সেমন্তি খান। এ ধরনের নারী ও নারী চরিত্র বার বার জন্মায় না পৃথিবীতে।হাজার হাজার ছাত্রের নেতৃতবদানকারী প্রতিভাধর এ তরুণী আগামীর বাংলাদেশের এক অনন্য সম্ভাবনা।

অরণি ও তার জোট অতি বিজ্ঞজনোচিত ভাবে ও সাইন্টিফিকেলী করোনা মোকাবেলায় স্কুল,কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের যে দাবী তুলেছিলেন তা অনেক রাজনীতিবিদ কল্পনাও করেন নি।সমাজবিজ্ঞানীরা ভাবতেও পারে নি। আমরা আশাবাদী, বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে লেজুড়বৃত্তি মুক্ত স্বাধীন রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন স্বতন্ত্র জোট। মেধা ও মেধাবীদের চিন্তার লালন ও বিকাশে সন্ত্রাসমুক্ত, ইতিবাচক ও গঠনমূলক ছাত্র রাজনীতির যে ধারা সুচনা করেছে মেধাবীদের গড়া সংগঠন স্বতন্ত্র জোট তা একদিন জনমন ও জনসমাজে প্রভাব ফেলবেই।ছাত্রদের অধিকার ও সমস্যা সমাধান নির্ভর এ আন্দোলন এগিয়ে যাক লক্ষপানে।

গত ডাকসু নির্বাচনে প্রথাগত রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলোর বাইরে এসে নির্বাচনে অংশ নেয় নির্দলীয় ছাত্রদের একাধিক প্যানেল। ছাত্র সংগঠনগুলোর বাইরে থেকে ভিপি নির্বাচিত হন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নূর। সেই সময় নজর কাড়েন স্বতন্ত্র ছাত্র জোটের ভিপি প্রার্থী অরণি সেমন্তি খান। তাঁর সাহসী বক্তব্য, দৃঢ় অবস্থান আলোচনার জন্ম দেয়। অরণি এবং তাঁদের সংগঠন ‘স্বতন্ত্র ছাত্র জোট’এখনও এক্টিভিজম চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রথাগত ছাত্র রাজনীতিতে গত দুই দশকে অনেক পরিবর্তন এসেছে। গত দশকের আলোচিত ভ্যাট বিরোধী আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন কিংবা কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে সাধারন ছাত্ররা।

সাধারন ছাত্রছাত্রীরা এখন আর আগের মতো রাজনীতিতে জড়াচ্ছেন না। সব মিলিয়ে এই অঙ্গনে বেশ একটা নীরব পরিবর্তন এসেছে, যা যে কোনো পর্যবেক্ষককেই কৌতুহলী করে তুলবে।

অরণির মা বলেন, বাংলাদেশের কোভিড ১৯ এর দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রথম সারির যোদ্ধা হিসেবে আমাদের একমাত্র মেয়েও সামিল হলো। বাসায় থাকাকালীন সময়ে সে আর তার বন্ধুরা মিলে, স্বতন্ত্র জোটের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জেলায় প্রায় ৬০০টি পরিবারে খাবার পৌঁছিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। অরণি সেমন্তি খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবটোরিতে কোভিড ১৯ পরীক্ষার কাজে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে ৭১ সালের মায়েদের কথা। তারাও তাদের প্রিয় সন্তানকে যুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন কত কষ্ট নিয়ে। সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন।আশা না হারাইয়ো বন্ধু ,সামনে তোমার দিন।তুমি যেন থাকো বন্ধু, চিরকাল নবীন। অরণির বন্ধুরা এভাবেই তাঁকে আশীর্বাদ করছে।

 

ডেইলিরুপান্তর/আবির

  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ