ডা: মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী: সততা,দেশপ্রেম ও উন্নয়ন সমৃদ্ধির বাতিঘর

অধ্যাপক ডা: মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী একাধারে একজন প্রখ্যাত চিকিৎসক, সুদক্ষ প্রশাসক ও সমাজসেবক। জননেত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ও মিশন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে চলছেন তিনি। সিলেটের চিকিৎসাসেবায় যুগান্তকারী উন্নয়ন ও পরিবর্তন সাধনের অন্যতম অগ্রসৈনিক হলেন ডা: মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী। দেশের চিকিৎসাক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও সেবার মান এবং সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে জাতীয় সংসদে ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর অনুমোদন হয় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১৮। ওই বছরের ২০ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী। উপাচার্য নিয়োগের পর সিলেট নগরীর চৌহাট্টায় স্থাপিত অস্থায়ী কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম। দ্বায়িত্ব নেওয়ার পর অতি অল্প সময়ের মধ্যে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোকে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে সক্ষম হন ডা: মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী। তার সুদক্ষ নেতৃত্বে স্বচ্ছ নিয়োগ কার্যক্রম থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের উদ্যোগ ত্বরান্বিত হচ্ছে বলে জানায় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুত্র।ব্যক্তিজীবনে সৎ,পরিশ্রমী, নির্লোভ ও নির্মোহ এ চিকিৎসক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কোনো অপশক্তির সাথে আপস করতে রাজী নন। তাই অদৃশ্য অপশক্তি পরিচ্ছন্ন এ ব্যক্তিত্বের গায়ে কালিমা লেপনের চেষ্টাও কম করেনি। তবে তারা সফল হয়নি। হতে পারবেও না কোনোদিন। কারন সিলেটের আপামর মানুষের দোয়া ও ভালোবাসা রয়েছে একজন মোর্শেদ চৌধুরীর উপর। সিলেটের মানুষ বিশ্বাস করেন ডা: মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরীর মতো একজন প্রেস্টিজিয়াস মানুষকেই -প্রেস্টিজিয়াস প্রতিস্টান সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হিসেবে বারংবার প্রয়োজন। কেননা তারা জানেন একজন দক্ষ সংগঠকই পারেন নতুন এ প্রতিষ্ঠানটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে। এ বিষয়ে ডা: মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী বলেন দীর্ঘদিন ধরেই সিলেটবাসীর দাবি ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের। প্রথম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার সব রকম চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। যতদিন দ্বায়িত্বে থাকবো চেস্টা করবো সিলেটবাসীর আশা আকাঙ্ক্ষার এ প্রতিষ্ঠানটিকে উচ্চতার শিখরে নিয়ে যেতে। সেজন্যে সকলের সহযোগিতা পাবো বলে প্রত্যাশা করি।

উল্লেখ্য ডা: মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরীর শ্বশুর দেওয়ান ফরিদ গাজী সাহেব ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক,সাবেক মন্ত্রী এবং সর্বজন শ্রদ্ধেয় একজন কিংবদন্তী জাতীয় নেতা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর। তার সহধর্মিণী জেলা পরিষদ সদস্য রুবা জেবিনও মানবসেবার মহান ব্রতে নিজেকে সমর্পণ করেছেন।

পরিচিতি: মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী ১৯৬০ সালের ২০ নভেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক ছাকিবুর রাজা চৌধুরী তার বাবা এবং মা রাবেয়া খানম চৌধুরী।

তিনি ১৯৭৫ সালে সিলেটের জকিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৭৭ সালে রাজধানী ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। তিনি ১৯৮৩ সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি মেডিকেল কলেজটির ১৬তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন।

চৌধুরী ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস এন্ড সার্জনস (বিসিপিএস) থেকে এমসিপিএস (গাইনী) এবং ১৯৯৭ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিজিও ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ড থেকে গাইনীতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ লাভ করেন।

মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী ১৯৮৩ সালের নভেম্বর মাসে মেডিকেল অফিসার হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে চিকিৎসা ও শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য এবং মেডিসিন ফ্যাকাল্টির ডিন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি), ঢাকা এর নির্বাহী সদস্য ও শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি), ঢাকা এর নির্বাহী সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ও প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়াও তিনি সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক, গাইনী ও অবস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং কলেজটির অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী ২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর পরবর্তী চার বছরের জন্য সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন (বিএমএ), স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ), অবস্টেট্রিকাল এন্ড গাইনোকোলজিকাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ, সিলেট ডায়াবেটিক এসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। এসকল সংগঠনের নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

আশীষ দে, লেখকঃ কলামিষ্ট।

ডেইলিরুপান্তর/আবির 

  • 18
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ