কক্সবাজার কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহর হত্যাকারী ৪ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার

কক্সবাজার জেলার উখিয়া কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত এমন চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তারের পর শনিবার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান (এবিপিএন) সংবাদ সম্মেলন করে বলেছে, হত্যাকাণ্ডের কারণও উদঘাটন হয়েছে। উখিয়ার-১৪ এপিবিএন এর অধিনায়ক পুলিশ সুপার মো. নাঈমুল জানান, এ বিষয়ে ২৩ অক্টোবর শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানান।

৮ বছর বয়সী মুহিবুল্লাহ আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি পিস ফর হিউম্যান রাইটস নামে একটি সংগঠনের চেয়ারম্যান ছিলেন নিহত মুহিব্বুল্লাহ।

গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা হলেন, ক্যাম্প ১/ইস্টের বাসিন্দা মোহাম্মদ আজিজুল হক, ক্যাম্প ১/ ইস্টের বাসিন্দা আব্দুল মাবুদের পুত্র মোঃ রশিদ প্রকাশ মুরশিদ আমিন, ক্যাম্প ১/ওয়েস্টের বাসিন্দা ফজল হকের ছেলে মোঃ আনাছ ও একই ক্যাম্পের বাসিন্দা নুর সালামের ছেলে নূর মোহাম্মদ।

এবিপিএন এসপি নাইমুল হক জানান, “সরাসরি কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া আজিজুল হককে শনিবার ভোরে (২৩ অক্টোবর) লাম্বাশিয়া পুলিশ ক্যাম্পের অধীন লোহার ব্রীজ এলাকা হতে একটি ওয়ান শুটারগান এবং এক রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ গ্রেফতার করা হয়। পরে আজিজের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়।” ঘটনার দিন রাতে মাত্র দুই মিনিট সময় লাগে সন্ত্রাসীদের হত্যাকান্ড সংঘটিত করতে জানিয়ে এসপি নাঈমুল হক, ধৃতদের ভাষ্যমতে জানান কিলিং মিশিনে অংশ নিয়েছিলো পাঁচ বন্দুকধারী। জিজ্ঞাসাবাদে আজিজ এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে উল্লেখ্য করে নাঈমুল হক বলেন, “মহিবুল্লাহ’কে হত্যার দুই দিন আগে লম্বাশিয়া মরকজ পাহাড়ে দুর্বৃত্তরা বৈঠক করে যেখানে ধৃত আজিজুল হকসহ আরও চার জন উপস্থিত ছিল।”

জিজ্ঞাসাবাদে আজিজ জানায়, “আলোচনায় প্রত্যাবাসন ইস্যুতে মুহিবুল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠায় হত্যার নির্দেশ দিয়েছে তাদের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ মর্মে মুহিবুল্লাহকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়”। ঘটনার দিন পরিকল্পনা অনুযায়ী “এশার নামাজ এর পর মাস্টার মহিবুল্লাহ তার শেডে ফিরে গেলে ধৃত মুরশিদ আমিন তাকে নিজ শেডে ডেকে নিয়ে প্রত্যাবাসন বিষয়ে কথা বলে এবং কিছু লোক তার সাথে অফিসে কথা বলবে মর্মে অফিসে ডেকে নিয়ে যায়” বলে জানায় আজিজ।

আজিজ আরো জানায়, “মুরশিদ আমিন মহিবুল্লাহ’র নিজ অফিসে অবস্থান করছে এমন তথ্য ধৃত অপর দুই আসামী মোঃ আনাছ ও নুর মোহাম্মদকে জানিয়ে ওই এলাকা দ্রুত ত্যাগ করে। পরে আনাছ ও নুর মোহাম্মদ হত্যাকান্ডে অংশ নিতে অপেক্ষায় থাকা সাত সদস্যের মুখোশধারী দুর্বৃত্ত দলকে অফিসে আসতে বলে।” আজিজের ভাষ্যমতে “দুর্বৃত্ত দলটির তিনজন অফিসে প্রবেশ করে,ধৃত আজিজ, আনাস ও নুর মোহাম্মদ এবং অপর এক অস্ত্রধারী সহ চার জন অফিসের দরজায় অবস্থান নেয়। অফিসে প্রবেশ করা এক অস্ত্রধারী “মুহিবুল্লাহ ওঠ” বললে মুহিবুল্লাহ চেয়ার থেকে উঠে দাড়ালে প্রথম দুর্বৃত্ত একটি, দ্বিতীয় জন দুইটি এবং সর্বশেষ দুর্বৃত্ত একটি সহ মোট চারটি গুলি করলে মুহিবুল্লাহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।”

হত্যাকান্ডের পর অফিসের পিছনের দরজা দিয়ে আজিজ, আনাস, নুর মোহাম্মদ সহ বাকিরা পালিয়ে যায় বলে জানায় আজিজ।বিফ্রিংয়ে নাইমুল হক জানান, হত্যাকান্ডের পরপরই এপিবিএন পুলিশ রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় সাড়াশী অভিযান পরিচালনা করে ফলে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত আসামীদেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।”

রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাস্টার মুহিবুল্লাহ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত অন্যান্যদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান এপিবিএন এর এই কর্মকর্তা। গত ২৯ অগাস্ট কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে একদল বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন মুহিবুল্লাহ।

মুখঢাকা ওই হামলাকারী দলে ১৫/২০ জন ছিল বলে জানিয়েছিলেন মুহিবুল্লাহর ছোট ভাই মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ। খুনিরা রোহিঙ্গা বলেই বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। মুহিবুল্লার পরিবারের সন্দেহ, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রিপাবলিকান স্যালভেশন আর্মির (আরসা) বাংলাদেশে থাকা সদস্যরা এই খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে।

মিয়ানমারে নিপীড়নের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই রয়েছে কক্সবাজারের ৩৪টি শরণার্থী শিবিরে।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/এস.

  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ