সেন্টমার্টিন জেটি ঘাটে পর্যটক হয়রানী : টোলের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, দেখার কেউ নাই!

কক্সবাজারের প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন জেটি ঘাটে মালামাল ও ব্যক্তিগত লাগেজসহ যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টোল আদায় অব্যহত রয়েছে। কক্সবাজার  জেলা পরিষদ কতৃক নির্ধারিত টোলের তালিকা সিটিজেন চার্টার আকারে টাঙিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও তা না করে পর্যটকদের হয়রানী থামছেনা। হরহামেশা টোলের নামে আদায় করা হচ্ছে ১৫ গুন অতিরিক্ত টাকা।

অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটন ব্যবসায় জড়িতরা জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ইউএনওসহ সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরেও ইজারাদারের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা না নেওয়ায় সর্বত্র চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র জানায়, সেন্টমার্টিন জেটি ঘাটের সেন্টমার্টিন অংশের জেটি ঘাটে পর্যটক যাত্রী ও যাত্রী সাধারনের সাথে বহনকৃত মালামালের টোল আদায়ের জন্য জেলা পরিষদ কতৃক সংশ্লিষ্ট নিলাম ডাককারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাহান এন্টারপ্রাইজকে নির্ধারিত একটি তালিকা সরবরাহ করা হয়েছে। তা জেটি ঘাটে সাইনবোর্ড আকারে টাঙ্গীয়ে দেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশনাও রয়েছে। কিন্তু টোল আদায়ের সরকারী নির্ধারিত তালিকা না টাঙ্গিয়ে নির্ধারিত জনপ্রতি ৪ টাকা টোল আদায়ের বিপরীতে জনপ্রতি ৫০ টাকা হারে টোলের নামে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে।

জানা গেছে, টেকনাফ সেন্টমার্টিন জেটি ঘাটটি কক্সবাজার জেলা পরিষদ থেকে ১৪২৮ বাংলা সনের জন্য (এক বছর) সর্ব্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ১ কোটি ৫০ হাজার টাকায় ইজারা নেন মেসার্স জাহান এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক রফিকুল ইসলাম ( পিতা-আব্দুর রশিদ, ঠিকানা- উত্তর মাইজপাড়া, ঈদগাঁও বাজার,কক্সবাজার)।

গত ১৪ মার্চ ২০২১ কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল বিশ্বাস এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেন। সরকারিভাবে জনপ্রতি টোল ৪ টাকা নির্ধারণ করা হলেও ইজারাদার সেটি বাড়িয়ে জন প্রতি ৫০ টাকা করেছে। তবে ইজারাদার ফাঁকা রসিদ দিয়ে জনপ্রতি ৫০ টাকা করে আদায় করছে। এছাড়াও মালামাল উঠা নামায়ও বিনা রশিদ টোল আদায় করে যাচ্ছে।

সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, জেলা পরিষদ কর্তৃক সেন্টমার্টিন জেটিঘাট ইজারাদার মেসার্স জাহান এন্টারপ্রাইজ কর্তৃক প্রতিনিয়ত যাত্রী /পর্যটক পারাপারে টোলসহ মালামাল উঠা নামায় জেলা পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত টোলের চেয়ে ১৩ থেকে ১৫ গুন অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে। এতে করে প্রতি নিয়ত সেন্টমার্টিনে আগত দেশী বলেন দেশী পর্যটকসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে আসছে।

এছাড়া মালামালে অতিরিক্ত টোল আদায়ের কারণে দ্রব্যমুল্যের উর্ধ্বগতির ফলে স্থানীয় জনগণকে চড়াদামে দ্রব্য কিনে জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে। সেন্টমার্টিনে আগত দেশী বিদেশী যাত্রী/ পর্যটক পারাপারে ও মালামাল পরিবহণে হয়রানী বন্ধে জেলা পরিষদ কতৃক নির্ধারিত টোলের সাইনবোর্ড নিদিষ্ট স্থানে স্থাপন করার দাবী জানান। বিভিন্ন জাহাজের ব্যবসায়ীরা তাদের নিজস্ব অর্থায়নে জেটি মেরামত করে যাত্রী উঠা নামায় সহযোগিতা করে আসছে। জনপ্রতি ৪ টাকা হারে টোল আদায়ের নিয়ম থাকলেও সেখানে আদায় করা হচ্ছে জনপ্রতি ৫০ টাকা।

এদিকে, টেকনাফ সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটন ব্যবসায়ী রূপসী বাংলা রিসোর্ট পরিচালক সোয়াইব শরীফ গত ২২ আগষ্ট জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, টেকনাফ ইউএনওসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিলেও এ পর্যন্ত কোন ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

সরকার নির্ধারিত টোলের চেয়ে অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ইজারাদার রফিকুল ইসলাম বলেন, করোনাকালিন এবং বৃষ্টিতে সাগর উত্তাল থাকায় পর্যটক কমেছে। তাই টোল আদায়ের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। পর্যটক বাড়লে আবার টোল কমিয়ে দেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল বিশ্বাস বলেন, ‘টোল আদায়ের বিষয়টি আমি শুনেছি। লিখিত একটি অভিযোগও পেয়েছি। এ নিয়ে একটি বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি। সেখানে একটি বাজে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই টোল আদায়ের বিষয়টি আমাকে না জানিয়েই সেখানকার ইজারাদার অতিরিক্ত ৫০ টাকা করে টোল আদায় করছেন। খুব দ্রুতই এ বিষয়ে একটি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/এস.

  • 16
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ