কক্সবাজার বিমানবন্দরে প্রবাসী ও পর্যটন যাত্রীদের র‍্যাপিং বিড়ম্বনা!

কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকরা সরাসরি ফ্লাইটে আসতে পারবেন কক্সবাজার বিমানবন্দরে। কারণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরিত হবে এটি।

এই কক্সবাজার বিমান বন্দর থেকে বর্তমানে দৈনিক ২০টি ফ্লাইট যাতায়াত করছে। কক্সবাজার হতে প্রবাসী যাত্রীদের বিভিন্ন দেশে যাতায়াত দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি পর্যটন যাত্রীও দিন দিন বেড়ে চলেছে কক্সবাজারে । কিন্তু জনগুরুত্বপূর্ণ এই বিমান বন্দরে অদ্যবদি কোন র‌্যাপিং মেশিন স্থাপন করা হয়নি।

ফলে কক্সবাজার বিমানবন্দরে প্রবাসী ও পর্যটন যাত্রীরা প্রতিনিয়ত লাগেজ এবং মালামাল নিয়ে র‌্যাপিং মেশিন বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। বিমান বন্দর অভ্যন্তরে সকল শ্রেণীর যাত্রীদের জন্য কেন্টিন খোলার দাবীও উঠেছে। এব্যাপারে পর্যটনমন্ত্রী ও প্রবাসী মন্ত্রী এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পর্যটন রাজধানী খ্যাত কক্সবাজার থেকে বিমান যোগে রাজধানী ঢাকায় এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে বিভিন্ন দেশের অন্তত ১০০/১৫০ জন যাত্রী কক্সবাজার আসা যাওয়া করেন। এরমধ্যে বিদেশগামী যাত্রীদের লাগেজ নিরাপত্তা নিয়ে প্রতিনিয়মিত দুঃচিন্তায় থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের। কারণ বিমানবন্দরে বিমানে বিভিন্ন অসৎ কর্মচারী লাগেজ থেকে মালামাল চুরি করে এবং লাগেজ খুঁজে না পাওয়ার ঘটনাও দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।

এছাড়াও কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে আকাশ পথে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বর্তমানে সহজে পাচার করার একটি মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে করে বিদেশগামী যাত্রীদের মধ্যে সবসময় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সদ্য কুয়েতগামী প্রবাসী লুৎফুর রহমান লুতু কক্সবাজার থেকে সরাসরি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান এবং হয়রত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে সরাসরি কুয়েত এয়ারলাইনসের ফ্ল্যাইটে পাড়ি জমান কুয়েতে। কিন্তু সেখানে গিয়ে ফোনে জানান কক্সবাজার বিমান বন্দরের নানা অভিজ্ঞতা ও ভোগান্তির কথা।

প্রবাসী লুৎফুর রহমান লুতু জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ র‌্যাপিং করার কোন মেশিন নেই। নিরাপত্তা মেশিনের মাধ্যমে লাগেজ, মালামাল চেকিং করে ছাড় দেয়া হয়। কিন্তু পুনরায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে কর্মরত নিরাপত্তা কর্মীরা নিরাপত্তা মেশিন থেকে লাগেজ বের করা সাথে সাথে লাগেজ র‌্যাপিং করা জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এতে সময় ও হয়রানীর শিকার হতে হয়েছে।

তিনি মনে করেন, কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে প্রথমেই লাগেজ র‌্যাপিং করা হলে তার মতো বিমান যাত্রীদের লাগেজ ও মালামাল নিরাপদ থাকবে। এই প্রবাসী যাত্রী লুতুর মতো বর্হিগামী অনেক যাত্রীর কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমাদের লাগেজের মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মালামাল থাকে এবং বিমানের লোডিং কর্মচারীরা লাগেজ ব্যাগ টানা হেচড়া করে। এতে অনেক লাগেজ ব্যাগ ছিঁড়ে যায় ও মালামাল নষ্ট হওয়া সম্ভাবনা থাকে। ইতোপর্বে অনেক যাত্রীর লাগেজ ও ব্যাগ এবং মালামাল নষ্ট হয়েছে। তার মতে, কক্সবাজার বিমান বন্দরে শুরুতে যদি লাগেজ র‌্যাপিং করা হয় তাহলে লাগেজ ও মালামাল নিরাপদ থাকবে।

লুতুর মতো অনেক প্রবাসী জানান, বিদেশে এক একটি বিমানবন্দরে চার/পাঁচটি র‌্যাপিং মেশিন রয়েছে। ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরেও রয়েছে। কিন্তু একটি বিমান বন্দরে যেখানে ৪/৫ টি র‌্যাপিং মেশিন দরকার; সেখানে কক্সবাজার বিমান বন্দরে একটিও র‌্যাপিং মেশিন নেই। কক্সবাজার বিমানবন্দরে র‌্যাপিং মেশিন না থাকায় যাত্রীরা অসন্তোষ প্রকাশ করার পাশাপাশি যাত্রী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই পর্যটনমন্ত্রী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ কাছে দ্রুত র‌্যাপিং মেশিন স্থাপনা করা জন্য জোর দাবী জানান কুয়েত প্রবাসী লুৎফুর রহমান লুতু । তা না হলে যে কোন সময় বিদেশগামী যাত্রী ও পর্যটক যাত্রীদের লাগেজ নিয়ে অনাকাঙ্খিত ঘটনা যে কোন সময় ঘটতে পারে।

এছাড়াও যে কোন সময় যাত্রীদের লাগেজে মাদকদ্রব্য (ইয়াবা) ঢুকিয়ে দিয়ে যাত্রীদের হয়রানি করার সম্ভাবনাও রয়ে যাচ্ছে। র‌্যাপিং মেশিন স্থাপন করা হলে,যাত্রীদের লাগেজে থাকা মালামাল চুরি হওয়া সম্ভাবনা থাকবে না বলে মনে করে এই কুয়েত প্রবাসী।

ঢাকা থেকে আগত পর্যটক করিম আহমেদ জানান, কক্সবাজার ভ্রমণ শেষে বিমান যোগে ফেরার সময় পর্যটন যাত্রীরা এখান থেকে  কাচা সামুদ্রিক মাছ, শুটকি মাছ, পান সুপারীসহ অনেক কাঁচা দ্রব্য ও মালামাল নিয়ে যান। উক্ত মালামাল ভর্তি কার্টুনগুলো চেকিং করার সময় হুক লাগিয়ে ছিদ্র করা হয়। এতে কার্টুনের ছিদ্র দিয়ে

পানি বের হয়ে অন্য জনের মালামাল নষ্ট হয় এবং দুর্গন্ধ ছড়ায়। তাই কক্সবাজার বিমান বন্দরে র‌্যাপিং মেশিনের মাধ্যমে সমস্ত কার্টুন ও লাগেজগুলো র‌্যাপিং করা হলে অন্য যাত্রীদের জিনিসপত্র নিরাপদ থাকবে বলে মনে করেন তিনি।

অনেক বিমান যাত্রী জানান, বিমান বন্দর অফিস ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি কেন্টিন রয়েছে। সেখানে খাদ্য দ্রব্যের দামও চড়া। ভিআইপি ছাড়া সাধারণ যাত্রীরা সেটির সুফল পাচ্ছে না।

বিশেষ করে সকালের ফ্ল্যাইটের যাত্রীরা খুব ভোরে গিয়ে বিমানের জন্য বোয়িং পাশ নিয়ে ভেতরে ডুকলে আর বের হতে পারেন না। সকাল থেকে ঘন্টার পর ঘন্টা ফ্ল্যাইটের জন্য অপেক্ষা করে অনেক অসুস্থ রোগী, শিশুরা ক্ষুধার্ত হয়ে যান। খাদ্য দ্রব্য কিনে খাওয়ার ইচ্ছে থাকলেও ভিআইপি (সরকারী কিংবা বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা) যাত্রীরা ছাড়া সাধারণ যাত্রীদপর পক্ষে খাদ্য দ্রব্য কেনা সম্ভব হয় না। এতে বিমান বন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তিরও শেষ নেই। বিমানবন্দর অভ্যন্তরে সব ধরনের যাত্রীদের জন্য আরও একটি কেন্টিন স্থাপন জরুরী হয়ে পড়েছে।

কক্সবাজার বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক গোলাম মোর্তজার মোবাইলে একাধিক বার রিং করা হলেও সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/এস.

  • 22
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ