সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপর হামলার প্রতিবাদে জবি শিক্ষক সমিতির প্রতিবাদ সমাবেশ

দেশের বিভিন্ন স্থানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় ভাংচুর ও তাদের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (জবিশিস)।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতিত্বে করেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. নূরে আলম আব্দুল্লাহ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

মানববন্ধনে সঞ্চালনায় ছিলেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. শামীমা বেগম।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হক বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি সারাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলা চালাচ্ছে। যখনই দেশে এমন কোন ঘটনা ঘটে তখনই বলা হয় এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কিন্তু আমি মনে করি এটা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা না। যারা এদেশকে কখনো চায়নি, এখনও চায় না, তারা কিন্তু চুপ করে বসে নেই। তারা নানা ভাবে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। এখন দেশে যে ধরনের ঘটনা ঘটছে এসব তাদেরই পরিকল্পনা। আমাদের দেশে হাজার বছর ধরে অসাম্প্রদায়িকতার ঐতিহ্য নিয়ে আমরা বসবাস করি। এখানে হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান যারা আছি সবাই একই পরিবারের মতো আমরা বসবাস করি। এভাবেই আমরা চলে আসছি শতশত বছর ধরে। এখানে হঠাৎ করে কি ঘটনা ঘটলো যে এমন হচ্ছে। এটা পরিকল্পিত ঘটনা। সরকার সবসময় চায়, দেশ শান্তিপূর্ণ থাকুক। দেশ শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকুক, মানুষ শান্তিতে থাকুক। আমাদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে এসব প্রতিহত করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ বলেন, দেশের চলমান পরিস্থিতি স্বাধীনতাবিরোধীদের পরিকল্পিত। তারা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করার পায়তারা করছে। আমাদের সবাইকে একত্রিত হয়ে এসব প্রতিহত করতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সচেতনার মাধ্যমে আমাদের প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সবসময়ই এসব সাম্প্রদায়িক হামলার বিরুদ্ধে অবস্থান করবে।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নুরে আলম বলেন, আমাদের প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাইদের মনে যে ভয় শঙ্কা দেখা দিয়েছে তা বের করে আনা। আমরা এই মানববন্ধন থেকে তাদের উদ্দেশ্যে এই বাণী শোনাতে চাই আমরা সকলে আপনাদের পাশে আছি।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকে যে সাম্প্রদায়িকতার যে বীজ বপণ করা হয়েছে তার থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। পাঠ্যপুস্তকে কেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, মুসলিম এই বিভাজন থাকবে। পাঠ্যপুস্তকে বিভাজনের নীতি নয় পাঠ্যপুস্তক হবে মানবতার নীতি, একতার নীতি।

সাম্প্রতিক ঘটনার বিষয়ে তিনি গোয়েন্দা সংস্থাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনাদেরকে আরও তৎপর হয়ে এ ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তাদের তালিকা বের করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দিয়ে অবিলম্বে অপরাধীদেরকে আইনের আওতায় এনে কঠোর বিচারের সম্মুখীন করতে হবে।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/এইচ.

  • 26
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ