মহড়া করে আ.লীগের ছয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা, আচরণবিধি লঙ্ঘন

রোববার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা সম্প্রসারিত কমপ্লেক্স ভবনের পাশে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে মহড়া করে মনোনয়নপত্র জমা দেন হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের মনোনীত ছয় প্রার্থী।

উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে অংশ নিতে আওয়ামী লীগের মনোনীত ছয় প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। রোববার দুপুরে উপজেলা পরিষদে নির্বাচন কার্যালয়ে তাঁরা মনোনয়নপত্র জমা দেন। দ্বিতীয় ধাপে রবিবার ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন।

নির্বাচনী আচরণবিধির ২০১৬ এর ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় মিছিল-সমাবেশ ও মহড়া করতে পারবেন না। সর্বোচ্চ পাঁচজনকে নিয়ে মনোনয়নপ্রার্থী নির্বাচন কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারবেন।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আজ বেলা ১১টার পর থেকে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন থেকে ট্রাক্টর, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ নানা যানবাহনে করে নেতা-কর্মী ও সমর্থক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা হরিপুর সদরের আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জড়ো হতে শুরু করেন। সব কটি ইউনিয়ন থেকে প্রার্থীরা জড়ো হওয়ার পর বেলা সোয়া ১টার দিকে সেখানে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া শেষে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নগেন কুমার পাল ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হাসানের নেতৃত্বে প্রার্থী, নেতা-কর্মী ও সমর্থক নিয়ে কার্যালয় থেকে নৌকা প্রতীক হাতে শোভাযাত্রা নিয়ে উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত ভবনে যান।

সেখানে জিয়াউল হাসান কর্মীদের নির্দেশনা দেন। সে সময় তিনি বলেন, ‘আপনারা (কর্মী-সমর্থক) ভবনের নিচে অপেক্ষা করবেন। আমরা পর্যায়ক্রমে দুটি করে ইউনিয়নের প্রার্থীদের ওপরে নিয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে আসব।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাফ্ফর আহমেদ বলেন, প্রথমে ৬ নম্বর ভাতুরিয়া ও ৫ নম্বর হরিপুর ইউনিয়নের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে। অন্য প্রার্থীরা নিচেই অবস্থান করবেন। নেতারা ওপরে উঠে গেলে নিচে কর্মী–সমর্থকেরা মাইকে ‘দে দে পাল তুলে দে…’ গানের সঙ্গে নাচতে থাকেন। মিনিট বিশেক পর মনোনয়নপত্র জমা শেষে বেরিয়ে আসেন নেতারা। এরপর তাঁরা কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শোভাযাত্রা করে আবার উপজেলা কার্যালয়ের দিকে ফিরে যান।

গেদুড়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবদুল হামিদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে আসছি। এবারও দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় কর্মী, সমর্থকেরা তো থাকবেই। আজ নয়, আগামীকাল থেকে আচরণবিধি মেনে চলব।’

বকুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু তাহের বলেন, ‘আমরা কর্মীদের এখানে আসতে বলিনি। তাঁরাই নিজ উদ্যোগে চলে এসেছে। তাঁদের নিষেধ করি কেমন করে।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাফ্ফর আহমেদ বলেন, নির্বাচন ঘিরে এলাকায় সব সময় উৎসব লেগে যায়। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় কর্মী-সমর্থকেরা প্রার্থীর পাশে থাকতে চান। চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যসহ সব প্রার্থীই শোভাযাত্রা-মহড়া করে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এটাই এলাকার রেওয়াজ।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা জানতে পেরে দলের সমর্থকদের আটকে রাখা যায়নি বলে জানালেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হাসান। তিনি বলেন, দু-চারজন করে সমর্থক জড়ো হতে হতে বিশাল আকার ধারণ করে। তবে জমা দেওয়ার সময় হাতে গোনা কয়েকজন মিলে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

এতে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল করিম বলেন, প্রায় সব প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। আজ মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন পর্যন্ত তাঁদের ছাড় দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল উপজেলার সব ইউনিয়নের প্রার্থীদের নিয়ে বসা হবে। তখন তাঁদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের শাস্তির দিকগুলো স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে। এরপর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/এ.

  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ