ঝিনাইগাতীতে কাসাভা চাষে বাম্পার ফলন

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে চলতি মৌসুমে কাসাভা চাষে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা। কাসাভা মূলত ‘শিমলা আলু’ নামে এ উপজেলার স্থানীয়দের কাছে ব্যাপক ভাবে পরিচিত রয়েছে। তবে কাসাভা’র প্রতিটা গাছ উচ্চতায় ৪-৫ ফুট উঁচু হয়ে থাকে প্রত্যেক গাছের গোঁড়ার দিকে মাটির নীচে উৎপাদিত হয় কাসাভা।

চাষাবাদে এর খরচ কম হলেও অধিক লাভজনক হওয়ায় পরিত্যক্ত ও পাহাড়ের উঁচু নিচু জমিতেও কাসাভা আবাদ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। তাছাড়া বাজারে এর চাহিদাও বেশ ভালো। এটি আলু জাতীয় খাবারের পাশাপাশি পুষ্টি চাহিদা মেটায়। এতে প্রচুর শর্করা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানিতে চাহিদা থাকার ফলে দিন দিন ‘শিমলা আলু’চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেছে চাষীরা।

উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের ডেফলাই ব্লকের কৃষক আবু তালেব এবং উত্তর ভালুকা গ্রামের মিজানুর রহমান জানান,কাসাভা আবাদে সবমিলে প্রতি একর জমিতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয় এক একরে ২’শ মণ কাসাভা উত্তোলন করা যায় বলেও জানান তিনি৷ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে ৩০ টাকা কেজি হিসেবে, মণ প্রতি ১২’শ টাকা বিক্রি করা হয়। এতে প্রায় ২ লাখ টাকা লাভাংশ থাকতে পারে তারা জানান। আবাদে ভালো ফলন হওয়ায় বাণিজ্যিক ভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানিতেও উন্নতির সম্ভাবনা দেখছেন কাসাভা চাষীরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হুমায়ুন কবির জানান, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাসাভার কোন বিকল্প নেই। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায়,’কন্দাল ফসল উৎপাদন’ ৩০’টি প্রদর্শনী করা হয়।

কাসাভা একটি শিল্পজাত ফসল, অনাবাদি জমিতে চাষ করা যায়, এর স্টার্চের গুণগত মান খুবই ভালো। এ উপজেলায় ৩৫ হেক্টর জমিতে কাসাভা আবাদ হয়েছে বলেও জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির।

ডেইলিরুপান্তর/আবির

  • 15
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ