আদিতমারী উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

কাজ শুরুর আগেই জামানতের টাকা ফেরত

লালমনিরহাট জেলা আদিতমারী উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল রানা ঠিকাদারের কার্যাদেশ পাওয়ার পর পরই উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে যোগসাজশে সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার কৌশলে জামানতের সমুদয় টাকা উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে আদিতমারী উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল রানা এ জন্য জেলা অফিসকে দায়ী করছেন। ফলে অনিশ্চিত দেখা দিয়েছে ৩টি বিদ্যালয়ের ভবণ নির্মাণ কাজ। ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাটে জেলার আদিতমারী উপজেলার ইঞ্জিনিয়ার অফিসে ।

জানা গেছে, লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের আওতায় উপজেলার কমলাবাড়ী ইউনিয়নের চন্দনপাঠ বুড়িরদিঘী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুর্গাপুর ইউনিয়নের ছাবেরা খাতুন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুরাকুটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবণ নির্মাণের জন্য সরকারীভাবে বরাদ্দ দেয়া হয়। এর আগে লটারীতে ওই ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাজ পান রংপুরের মিলন কনস্ট্রাকশন নামের একজন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। বরাদ্দ অনুযাযী চন্দনপাঠ বুড়িরদিঘী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যলয়ের চুক্তিমূল্য ৬৭ লক্ষ ৬২ হাজার ৪৮৯ টাকা, ছাবেরা খাতুন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চুক্তিমূল্য ৫৮ লক্ষ ৮শ ২৩ টাকা ও দুরাকুটি কলোনী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ৫৯ লক্ষ ৪৪ হাজার ৭শ ৫৬ টাকা। এসব কাজের জন্য ঠিকাদারকে শতকরা ২৫ টাকা হারে প্রকৌশল অধিদপ্তরের নিকট জামানত রাখতে হয়। নিয়ম অনুযায়ী চুড়ান্ত কাজ শেষে ভবণ হস্তান্তর করে এসব টাকা উত্তোলন করতে পারেন ঠিকাদার। তবে এর ব্যতিক্রম ঘটেছে এ ৩টি বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ শুরুর আগেই। কাজ শুরুর আগেই মিলন কনস্ট্রাকশন নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল রানাকে ম্যানেজ করে ৩টি বিদ্যালয়ের জামানতকৃত ৪৬ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে ৩টি বিদ্যালয়ের নতুন ভবণ নির্মাণের কাজ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার দাবী করে বলেন, উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রতিটি কাজের জন্য কমিশন দিতে হয়। আবার আমাদের কাজ শেষ পর্যায় হলেও জামানতের টাকা ফেরত দেন না। তারা দাবী করেন, উপজেলা প্রকৌশলী মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এধরনের কাজটি তিনি করেছেন।

মিলন কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মিলন আহমেদ এর মোবাইল ফোনে সোমবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে কথা হয় এ প্রতিনিধির সাথে। এসময় তিনি বলেন, উপজেলা প্রকৌশলীর অনুমতি ছাড়া জামানতের টাকা উত্তোলন করা কখনও সম্ভব নয় বলে তিনি দাবী করেন। তিনি আরো বলেন, আদিতমারী-কালীগঞ্জ এলাকায় স্থানীয় ঠিকাদার ইকবাল হোসেন দাউদ এসব কাজ করে থাকেন। তার সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন এ ঠিকাদার। স্থানীয় ঠিকাদার ইকবাল হোসেন দাউদের মোবাইল ফোনে একাধিকার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

আদিতমারী উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফজলুল হক বলেন, নিয়ম অনু্যায়ী কাজের শেষে জামানতের টাকা ফেরত দেয়া হয় ঠিকাদারদের। কি কারণে কাজ শুরুর আগে জামানতের টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে? এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। আদিতমারী উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল রানা ৩টি বিদ্যালয়ের জামানতের টাকা উত্তোলনের বিষয়টি অকপটে স্বীকার করে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ কাজটি করার জন্য তিনি জেলা অফিসকে দায়ী করেছেন। তবে দ্রুত এ বিষয়টি সমাধান হবে বলে তিনি দাবী করেন।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দিলশাদ জাহান বলেন, আমার স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে কিনা? বিষয়টি তিনি দেখবেন বলে জানান।লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফ আলী খানের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/জি.

  • 85
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ