রাণীশংকৈলে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল পৌরশহরের ভান্ডারা পাচঁপীর এলাকার একটি ধান খেত থেকে যুবকের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। গত শনিবার (০৯ অক্টোবর) দুপুরে আলিফ রহমান(২১) নামের ওই তরুণের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিন সন্ধ্যায় নিহতের মা এ মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

গতকাল রোববার রাতে মামলার তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) এস এম জাহিদ ইকবাল। তিনি জানান, মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। লাশের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা সঠিকভাবে বলা সম্ভব হচ্ছে না।

প্রসঙ্গত-দুদিন ধরে নিখোঁজের পর আলিফের লাশ ধানখেতে পাওয়া গেছে। শনিবার (০৯ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা সদরের ভান্ডারা পাঁচপীর কবরস্থানের দক্ষিণ পাশের একটি ধানখেত থেকে ওই তরুণের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত আলিফ ভান্ডারা এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে। আলিফ পৌর এলাকার একটি ইলেকট্রনিক সামগ্রীর দোকানে চাকরি করতেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আলিফ আর বাসায় ফেরেননি। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে পাননি। শনিবার দুপুরে স্থানীয় একদল শ্রমিক ধান কাটতে গেলে দুর্গন্ধ পান। দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে শ্রমিকেরা খেতে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পরিবারের লোকজন লাশটি আলিফের বলে শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলিফ মাদকাসক্ত ছিলেন। সম্প্রতি রাণীশংকৈল থানা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। কারাগার থেকে বের হওয়ার পর রাণীশংকৈল পৌর মেয়র আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান গত ২৭ মার্চ রংপুরের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে তাঁকে চিকিংসার জন্য পাঠান। তিন মাস সেখানে থাকার পর আলিফের মা-বাবা তাঁকে সেখান থেকে নিয়ে আসেন। এরপর তাঁকে পৌর শহরের একটি ইলেকট্রনিক দোকানে কাজ পাইয়ে দেন তাঁরা।

আলিফের বাবা শহিদুল ইসলামের দাবি, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হন আলিফ। এরপর আর বাসায় ফেরেননি। তাঁর ছেলেকে হত্যা করে কেউ ধানখেতে লাশ ফেলে রেখে গেছেন।

ডেইলিরুপান্তর/আবির

  • 53
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ