কক্সবাজার লাইটহাউজ পাড়ায় ঢাকার বাড়ী কটেজ থেকে পতিতা খদ্দেরসহ আটক-১২

কক্সবাজার শহরের হোটেল মোটেল জোন লাইট হাউসপাড়া এলাকায় ঢাকা বাড়ী নামের একটি কটেজে বৃহস্পতিবার রাতে ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি টীম বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৭ জন দালাল, খদ্দের ও পতিতাসহ ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত ৫ জন যৌন কর্মী রয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের (কক্সবাজার রিজিয়ন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে এসআই প্রীতেশ তালুকদার ও নারী পুলিশ সদস্যরা এ অভিযান চালায়।

ট্যুরিস্ট পুলিশের (কক্সবাজার রিজিয়ন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহিউদ্দিন জানান, আবাসিক হোটেল ব্যবসার আড়ালে ঢাকার বাড়ী নামের ওই কটেজে নারী নিয়ে অনৈতিক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।

জানা গেছে, কটেজটি ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যৌনকর্মীদের দিয়ে পতিতাবৃত্তি ব্যবসা করে আসছে টেকনাফের আবদু রহিম নামের এক ব্যক্তি। এরআগেও জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবি পুলিশের একটি টীম অভিযান চালিয়ে পতিতা ও খদ্দেরসহ ২২ জনকে আটক করেছিল। আটককৃতদের বিরুদ্ধে থানায় মানবপাচার আইনে মামলাও হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) প্রীতেশ তালুকদার জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তাদেরকে কক্সবাজার সদর মডেল থানার সোপর্দ করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পর্যটন এলাকা হওয়ায় কক্সবাজারে সাধারণত তিন ধরনের যৌনকর্মী দেখা যায়: হোটেল ভিত্তিক, ফ্ল্যাট, বাসা বাড়ি ভিত্তিক এবং ভাসমান। যৌনকর্মীর মধ্যে বিপুল সংখ্যক শিশুও রয়েছে। অভিযোগ আছে-কলাতলী লাইট হাউস এলাকার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সংলগ্ন হোটেল-মোটেল জোন এলাকার কলাতলী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রর সামনে ঢাকার বাড়ি কটেজ, সি-টাউন কটেজ, সবুজ কটেজ, জাহান কটেজ, এসএস গেস্ট হাউস, সমুদ্র নিবাস, লাইট হাউজপাড়া এলাকায় নিউ ঢাকার বাড়ি, কমফোর্ট কটেজ, ঢাকার বাড়ী-২, আমির ড্রীম, সী ফ্লাওয়ার (বিয়াইর হোটেল নামে পরিচিত), শাহনুর কটেজ, সবুজ কটেজ, শারমীন কটেজ, আল-কাফি কটেজ, জাহান রিসোর্ট, দিমান কটেজ, আল জিয়া গেস্ট হাউস, ব্লু বে রিসোর্ট, মমস্ রিসোর্ট, হোটেল ব্ল্যাক টিউলিপ, হোসাইন রিসোর্ট, রমজান কটেজ, হিল ফ্ল্যাক্ট, এসএ গেস্ট ইন, বীচ গার্ডেন, জিএম গেস্ট হাউস, জয়নাল রিসোর্ট ও মিহা রিসোর্টসহ অধিকাংশ হোটেল ও কটেজে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে চলে যৌন ও ইয়াবা ব্যবসা। সিন্ডিকেট করে ভাড়ায় চালিত এসব কটেজ, রিসোর্টে ৫ থেকে ৩০ জন করে যৌনকর্মী মজুদ থাকে। এসব কটেজ, গেস্ট হাউসগুলো যেন এক একটি মিনি পতিতালয়।

সূত্রে জানা যায়, যৌন ব্যবসার পাশপাশি মাদকের হাট বসে এসব আবাসিকে। অপকর্মে নেতৃত্বে দিয়ে আসছে শহরের চিহ্নিত মাদক ও যৌন ব্যবসায়ীরা। আরও জানা যায়, বিভিন্ন দালালরা কক্সবাজার জেলা ছাড়াও ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটা অংকের টাকার লোভ দেখিয়ে উঠতি বয়সের তরুণীদের সংগ্রহ করে এসব কটেজ ও হোটেল নিয়ে আসে। এরপর তাদেরকে ঘণ্টা ও নাইট হিসেবে এ্যাপার্টম্যান্ট, তারকা মানের হোটেল মোটেলসহ আবাসিকে ভাড়া দিয়ে এসব রিসোর্ট, কটেজ ও গেস্ট হাউস মালিক এবং ম্যানেজার চক্র টাকা পাহাড় গড়ছেন। ফলে নষ্ট পথে হাঁটছে পুরো দেশের তরুণ ও যুব সমাজ। তাই হোটেল মোটেল জোনে মাদক, জুয়া, পতিতা, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দিনদিন।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/এস.

  • 10
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ