‘তিনি কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে এখন কাকস্য পরিবেদনার মধ্যে আছেন’

জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন রুহুল কবির রিজভী।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেছেন, রাতে ব্যালটে সিলমারা অটোভোটের বিতর্কিত এ প্রতিমন্ত্রী কুৎসা গাইছেন। ভোটডাকাতদের মুখেই এ ধরনের কথা মানায়। ক্ষমতার সুখে কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে এখন ‘কাকস্য পরিবেদনা’র মধ্যে রয়েছেন।

শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, তথ্য প্রতিমন্ত্রীর এ বক্তব্য যারা শুনেছেন, তারা হতবাক হয়ে গেছেন। এটি কি কোনো সভ্য দেশের মন্ত্রীর মুখের ভাষা হতে পারে?

রিজভী বলেন, একজন মন্ত্রীর কথাবার্তায় শালীনতা থাকা বাঞ্ছনীয়। কারণ রাতের আঁধারে তারা ভোট চুরি করে হোক আর লুট করে হোক মন্ত্রী হয়ে গেছেন। তাদের কাছে নতুন প্রজন্মের নাগরিকরা শালীন ও শিষ্টাচার, উদাহরণমূলক আচরণ, কথাবার্তা শুনতে চায় এবং দেখতে চায়। কিন্তু তাদের এ কেমন আচরণ, কথাবার্তা!

তিনি বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী এর আগে ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী। কিন্তু পাঁচ মাসও টিকতে পারেননি সেখানে। চিকিৎসকদের নিয়ে অসংলগ্ন, অশোভন ও বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে তাদের দলীয় স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএম) আন্দোলনের মুখে তার পলায়নপর অবস্থার সৃষ্টি হয়।

রিজভী বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের ফুল মন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তার লাগামহীন, মাত্রাহীন বাক্যদূষণে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ। তাকে টেক্কা দেওয়ার জন্য তিনি এখন খিস্তিখেউড় আর হুংকার কালচার চর্চা করছেন। বেহুদা কথাবার্তায় এতদিন ওবায়দুল কাদের এবং হাছান মাহমুদের প্রতিযোগিতা চললেও এ তালিকায় শীর্ষে উঠতে যা মনে আসে, তাই বলছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মুরোদ জনগণের জানা আছে। পুলিশ প্রশাসন দলীয় গুণ্ডাপাণ্ডা দিয়ে রাতের অন্ধকারে ব্যালটে সিল মেরে ভোটডাকাতি করে অটো পাসের মতো এমপি মন্ত্রী হওয়া যায়। কিন্তু জনগণের ভোট দেওয়ার সুযোগ অবারিত থাকলে এই লোকটি নিজের এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হতে পারবে কিনা সন্দেহ।

বিএনপির এ নেতা বলেন, সরকারকে বলব— এসব গালাগাল মিথ্যাচার খিস্তিখেউর হুমকি-ধমকি রেখে আগামী দিনের কথা চিন্তা করুন। আজ হোক আর কাল হোক জনগণের মুখোমুখি হতেই হবে। দুর্নীতি লুটপাটে দেশ ও জনগণকে পথে বসিয়ে দিয়েছেন। অর্থনীতি ফোকলা করে ফেলেছেন। এই করোনা মহামারীতে মানুষ নিঃস্ব হয়ে গেছে। এর মধ্যে ই-কমার্সের নামে ডজন ডজন প্রতিষ্ঠান, নানা নামে, নানা রঙে-ঢঙে কোন আইনের ভিত্তিতে জনগণের পকেট থেকে কোটি কোটি টাকা লোপাট করল-সেই হিসাব করুন। কেন দেশের একটি প্রতিষ্ঠানও দুর্নীতিমুক্ত থাকতে পারেনি? নিশিরাতের সরকারের আমলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই কেন দুর্নীতিকেই নীতি মনে করে,সেই হিসাব বের করুন।

ডেইলিরুপান্তর/আবির

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ