নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অগ্র সৈনিক একজন রুবা জেবিন

নারীর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতিতে প্রশংসার ঝড় বিশ্বজুড়ে। ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরাম প্রকাশিত বৈশ্বিক লিঙ্গবিভাজন সূচক (গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ ইনডেক্স) ২০১৮ অনুযায়ী বিশ্বে লিঙ্গবৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষে বাংলাদেশের অবস্থান। এ সূচকে বিশ্বের ১৪৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৮তম। এ ঝড়ের আলোর দিশারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর বিচক্ষণতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বে নারী আজ এক অনন্য উচ্চতায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে পিছিয়ে পড়া নারীদের নিয়ে নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে দেশব্যাপী যে নারী নেত্রীগণ কাজ করছেন তাদের মধ্যে অন্যতম একজন নারী নেত্রী আমাতুজ জহুরা রওশন জেবিন রুবা।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যান্ত ঘনিষ্ট সহচর, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, মুজিব নগর সরকারের প্রশাসনিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, ৪ ও ৫ নং সেক্টরের বেসামরিক উপদেষ্টা, সাবেক মন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সাবেক অন্যতম সদস্য, বারবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম জননেতা দেওয়ান ফরিদ গাজী সাহেবের সুযোগ্য কনিষ্ঠ কন্যা, সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য, সিলেট জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা’র অত্যন্ত আস্থাভাজন সিলেট জেলা পরিষদের নির্বাচিত সংরক্ষিত সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান নারীনেত্রী আমাতুজ জহুরা রওশন জেবিন। তিনি রুবা নামেই ব্যাপকভাবে সমাদৃত। তাঁর স্বামী দেশের একজন প্রথিতযশা চিকিৎসক। সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী।

তাঁর পিতা মরহুম ফরিদ গাজী সাহেবের মতো তাঁরও রয়েছে মাটি ও মানুষের সাথে এক হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক। মরহুম ফরিদ গাজী সাহেবকে যেমন মানুষজন আপন করে নিয়েছিলো, তাঁর বেলায়ও এর কোন কমতি নেই। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের এক অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রের মানসকন্যা, মানবতার মা, দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশিত পথে নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গ্রামে-গঞ্জে, হাটে-মাঠে-ঘাটে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ক্লান্তি কখনই তাকে বশ করতে পারেনি। তিনি মরহুম ফরিদ গাজী সাহেবের মতোই আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা, কৃষক-শ্রমিক, মজুর, ছাত্র-যুবা ও নারী-পুরুষসহ সকল শ্রেণী- পেশার মানুষের সাথে বৈষম্যহীন সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন। তাঁর সহজ-সরল ও মার্জিত আচরণ খুব সহজেই সাধারণ মানুষকে কাছে টেনে নেয়। প্রচুর বিত্ত- বৈভবের মাঝে বেড়ে ওঠা রুবা সাবেক মন্ত্রী ও সাংসদ কন্যা থাকার পরও লোভ-লালসা কখনই তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। মানব সেবাই ইবাদতের অন্যতম মাধ্যম মনে করে নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সেবার মানসিকতা নিয়ে জীবনের বাকী সময়টুকুও মানুষের তরে বিলিয়ে দিতে চান। আমাতুজ জহুরা রওশন জেবিন রুবা’র একান্ত প্রচেষ্টায় অসহায়, দরিদ্র ও অসুস্থ মানুষের মাঝে ৩ মাস অন্তর অন্তর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তহবিল থেকে বরাদ্দকৃত প্রাপ্ত আর্থিক চেক বিতরণ করে মানবতার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন সকলের প্রিয় এ নারী নেত্রী।

বৃহত্তর সিলেট আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা, রাজনীতির প্রবাদ পুরুষ, বর্ষিয়ান জননেতা মরহুম দেওয়ান ফরিদ গাজী সাহেবের সুযোগ্য উত্তরসূরিগণ ৫ পুত্র ও ২ কন্যা। মরহুম জননেতা দেওয়ান ফরিদ গাজী সাহেব ছিলেন আদর্শিক রাজনীতির বাতিঘর। পিতার আদর্শ ও শিক্ষা-দীক্ষায় অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁরা প্রত্যকেই স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। পিতার আদর্শ থেকে তাঁরা একচুল পরিমাণ বিচ্যুত হননি। তাঁর বড়ভাই হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহবল) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজ মিলাদ মহোদয়ের সুযোগ্য পারিবারিক নেতৃত্বে তাঁরা প্রত্যকেই এক্যবদ্ধ। তাঁদের একান্নবর্তী পারিবারিক বন্ধন আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে এক উজ্জল দৃষ্টান্ত!

আমাতুজ জহুরা রওশন জেবিন রুবা তাঁর মেধা ও প্রতিভা দিয়ে নারী জাগরণ, নারী শিক্ষা ও নারী উদ্যোক্তাদের অগ্রগতি অর্জনে তাঁর ব্যক্তিত্ব আর প্রায়োগিক সামর্থ্যকে আরও ত্বরান্বিত করেন। তিনি সাধ্যনুযায়ী অসহায় ও অস্বচ্ছল নারীদের সেলাইমেশিন বিতরণ ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে কাজ করে যাচ্ছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সরকার সামাজিক নিরাপত্তা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে মেইনস্ট্রিমে নিয়ে আসার জন্য বহুমুখী প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। ভিজিএফ, ভিজিডি, দুস্থ নারী ভাতা, মাতৃত্বকালীন এবং দুগ্ধবতী মায়েদের জন্য ভাতা, অক্ষম মায়েদের ভাতা, তালাকপ্রাপ্তা ভাতা, এছাড়াও গ্রামীণ নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নারী নেত্রী রুবা জেবিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত বহুমুখী প্রকল্পের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সাধ্যনুযায়ী কাজ করছেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানে নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করে দিয়েছিলেন। আর সে পথেই চলেছেন তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই আজ বাংলার নারীরা পুরুষের পাশাপাশি নিজের অবস্থানকে করেছে সুদৃঢ়। প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়তা ও সাহসী পদক্ষেপে অনুপ্রাণিত হয়ে যে কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নারীরা আজ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁরই অনুপ্রেরণায় মুক্তচিন্তার অধিকারী নারী। এগিয়ে যাচ্ছে দেশ ও জাতি।

তাইতো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার ভালোবাসার ফেরিওয়ালা একজন রুবা জেবিন নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অগ্রদূত হিসেবে ফেরি করে বেড়াচ্ছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের সমগ্র কর্মযজ্ঞ।

লেখকঃ সাবেক ছাত্রনেতা, কবি ও সংগঠক।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/এম.

  • 40
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ