রাণীশংকৈলে দলীয় মনোনয়ন পেতে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করার আগ থেকে আগাম প্রস্তুতি নেন নেতারা। তফসিল ঘোষণার পর স্ব স্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীক নৌকা পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ আরো বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেকেই ঢাকায় গিয়ে দলের হাইকমান্ড ও সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তদবির-সুপারিশ শুরু করেছেন।

এদিকে দলীয় প্রার্থীর বাইরে অন্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা গোপনে প্রচার চালাচ্ছেন।

নিকট অতীতের নির্বাচন অভিজ্ঞতা থেকে অনেকেই মনে করছেন, দলীয় হাইকমান্ডের কাছে সমর্থন আদায় করতে পারলে নৌকা প্রতীক নিয়ে ও অন্যান্য পদে দলীয় আনুকূল্য পেলে বিজয় সুনিশ্চিত। তাই এ দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সুকৌশলে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ঊর্ধ্বতন নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে নিজ নিজ পক্ষে শক্তিশালী সমর্থক বলয় তৈরি করে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে ব্যস্ত রয়েছেন। এছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করতে না পারলেও অনুষ্ঠান, সামাজিক আচার অনুষ্ঠারে অনুদান দিয়ে জনগণের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করছেন।

আবার অনেকেই মনোনয়ন কিনতে মোটা অংকের টাকা জোগাড়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তারা মনে করেন, মোটা অংকের টাকা দিয়ে মনোনয়ন ক্রয় করে নৌকার টিকিট বাগিয়ে নিতে পারলেই বিজয় সুনিশ্চিত। এমন ভাবনা থেকেই তারা টাকার জোগাড়ে ব্যস্ত হয়ে গেছেন।

তবে একটি নিরপেক্ষ ভোট পর্যবেক্ষণ সূত্র মতে, উপজেলার নেকমরদ সহ অন্যান্য ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে জেতার জন্য কেবল নৌকা প্রতীক নির্ভরতা যথেষ্ট নয়। প্রার্থীর ন্যূনতম গ্রহণযোগ্যতা, অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যক্তি ইমেজের ভোট ব্যাংক ফ্যাক্টর হবে।

রাণীশংকৈল উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে এর আগে ৩টি ইউনিয়ন বাদে সবগুলোতে নৌকার প্রার্থী জয় পেয়েছেন। তাই নৌকার প্রতি সবার আগ্রহ বেশি। পুরো উপজেলার বিভিন্ন বাজারে-চায়ের দোকানে জমে উঠেছে ভোটারদের মাঝে নির্বাচনী আলোচনা। কে মনোনয়ন পাচ্ছেন কে পাচ্ছেন না, এসব নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।

এবার আ’লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে রাণীশংকৈলের ৫টি ইউনিয়নের ৩০ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী আবেদন ফরম সংগ্রহ করেছেন ।

শনিবার বিকালে উপজেলা আ’লীগের এক বর্ধিত সভায় ৩০ জন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী তাদের দলীয় ফরম জমা করেন।

প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় ধাপে তফসীল ঘোষনার পরের দিন থেকে শনিবার বিকাল পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আবেদন ফরম বিতরণ করা হয় এবং শনিবার বিকেলে বর্ধিত সভায় নেকমরদ ইউনিয়নের ৫ জন, রাতোর ইউনিয়নে ৪ জন, লেহেম্বা ইউনিয়নে ৯ জন, ধর্মগড় ইউনিয়নে ৮ জন ও কাশিপুর ইউনিয়নে ৪ জন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তাদের দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদন ফরম জমা করেন।

ডেইলিরুপান্তর/আবির

  • 45
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ