বাবা-মা’র প্রতি শ্রদ্ধা ও কর্তব্য পালনে মহাদেবপুরে অনুষ্ঠিত হলো সনাতন ধর্মালম্বীদের ‘মাতৃপূজা’

শারর্দীয় শ্রীশ্রী দূর্গা পূজায় মহালয়া উপলক্ষে নওগাঁর মহাদেবপুরে দ্বিতীয় বারের মতো সনাতনধর্মালম্বীদের ‘মাতৃপূজা’। বাবা-মা’র প্রতি শ্রদ্ধা ও কর্তব্য পালনে সচেতন করতে ও শারর্দীয়

দূর্গা পূজা উপলক্ষে মহাদেবপুর উপজেলায় শ্রীশ্রী রঘুনাথ জিউক রাধা-গোবিন্দ মন্দির প্রাঙ্গনে মাতৃপূজার আয়োজন করা হয়। সনাতন বিদ্যাপাঠ মহাদেবপুর উপজেলা শাখা এই ‘মাতৃপূজা’র আয়োজন করে। ‘মাতৃপূজা’য় জেলার ১১টি উপজেলার ৩শ’ মা তার সন্তানদের নিয়ে আসেন। মাতৃপূজায় সারাদেশে আরো বেশি করে আয়োজনে সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন স্থানীয় সাংসদ সদস্য।

সনাতন বিদ্যাপাঠ মহাদেবপুর উপজেলা শাখার প্রতিষ্ঠা ও পরিচালক অমিত কুমার মন্ডল জয় জানান, দশ মাস গর্ভে ধারন করে সন্তানদের জন্ম দেন ‘মা’। এরপর সময়ের অভাবে পারিবারিক ও ধর্মীয় শিক্ষার অভাবে বিপথগামী হয়ে যায় সন্তানরা। ফলে বৃদ্ধকালে বাবা-মায়ের স্থান হয় বৃদ্ধশ্রমে। এই অমানবিক ঘটনা অনেকের জীবনে ঘটে যায়। এই অমানবিক কারো জীবনে নেমে না আসুক এই লক্ষে জীবিত অবস্থায় বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানদের সচেতন ও কর্তব্যয়ান করতে এই ‘মাতৃপূজা’র আয়োজন করা হয়েছে।

পোরশা গাঙ্গুরিয়া ডিগ্রী কলেজের পদার্থ বিজ্ঞানের বিভাগীয় প্রধান ও সনাতন বিদ্যাপাঠের সেবক প্রণয় চন্দ্র মন্ডল জানান, মাতৃপূজার অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল  শ্রীমদভগবতগীতা পাঠ, চন্ডীপাঠ, শ্রীরামের অকাল দেবী দূর্গার পূজা। সনাতনধর্ম অনুসারে দুই ভাবে ভগবান সারাকার ও নিরাকার। সারাকার অনুসারন করে যেমন মূর্তী পূজা করা হয়। তেমনি জীবন্ত মা’কে সন্তানরা মন্ত্র পাঠ করে ‘মাতৃপূজা’ করেন।

মাতৃপূজা অংশ নেওয়া সন্তান চিন্ময় কুমার জানান, গত বছরও এই পূজায় মা’কে পূজা করেছেন। এই বছরও তার মা’কে নিয়ে এসে পূজা করেছেন। আগামিতেও এই পূজায় অংশগ্রহণ করবেন।

চিন্ময় কুমারের মা ভারতী রাণী জানান, তার সন্তানকে চেষ্টা করেছেন মানুষ কিভাবে অন্যদের সাথে ব্যবহার করতে হবে। তার এই শিক্ষা অনেক প্রতিবেশিরা তার সন্তানদের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চেষ্টা করছেন। অবিভাবক সুনিল চন্দ্র রায় জানান, বাবা-মা সন্তানদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশিদেরও মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সারাদেশে ছোট ছোট করে আরো বেশি করে এই ধরনের সরকারি পৃষ্টপোশকতায় আয়োজন করা প্রয়োজন। তাহলে আগামিতে নতুন এক বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

রাজশাহী বিভাগীয় হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি তপন কুমান সেন জানান, সনাতনধর্মী সৃষ্টির শুরু থেকে পরিচালত হচ্ছে মাতৃকেন্দ্রীক। প্রাচীনকাল থেকেই ‘মাতৃপূজা’ করে আসছে সনাতনধর্মে। এই মাতৃপূজা এক অনন্য দৃশ্য। মহাদেবপুর পূজা উৎযাপন কমিটির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা অজিত কুমার মন্ডল সনাতন বিদ্যাপাঠ মহাদেবপুর উপজেলা শাখার ব্যক্তিগত উদ্যোগে জেলার ১১টি উপজেলার ৩শ’ মা তার সন্তানদের নিয়ে আসে মাতৃপূজায় অংশগ্রহণ করেন।

নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দিন তরফদার সেলিম জানান, মাতৃপূজা পালন করতে অনেক খরচ হলেও সরকারি ভাবে কোন অর্থ বরাদ্দ নেই। আগামীতে এই মহতী পূজায় সরকারি ভাবে বরাদ্দে সংসদের মাধ্যমে প্রদানের আশ্বাস দেন। মহাদেবপুর পূজা উৎযাপন কমিটির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা অজিত কুমার ম-লের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি তপন কুমান সেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দিন তরফদার। শ্রীশ্রী রঘুনাথ জিউক রাধা-গোবিন্দ মন্দির প্রাঙ্গনে শুক্রবার দুপূরে অনুষ্ঠিত ‘মাতৃপূজা’য় প্রায় ৩ হাজার লোকের পদচারণায় মূখরীত হয়ে উঠে ছিল।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/কে.

  • 26
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ