মাধবপুরে মাদকের ট্রানজিট রুট

হবিগঞ্জের মাধবপুর ভারতসীমান্ত ঘেষা পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল পাহাড় ও চা বাগান এখন মাদকের ট্রানজিট রুট। সারাদেশ ব্যাপী সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স ঘোষণা করলে চোরকারবারীরা নির্জন পাহাড় ও চা বাগানকে মাদকের নিরাপদ রুট হিসেবে বেছে নিয়েছে ধর্মঘর, হরষপুর, শিয়ালউড়ি, মালঞ্চপুর, চৈতন্যপুর, চৌমুহনী ও শ্রীধরপুর, তেলিয়াপাড়া চা বাগান, ২০নং সুরমা চা বাগান সীমান্ত এলাকায় তারকাটা বেড়া ভেদ করে বিশেষ কৌশলে গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল ঢুকছে এব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তৎপর থাকলেও থামাতে পারছেন না মাদক পাচার। মাঝে মধ্যে কিছু অভিযান পরিচালিত হলে মাদক বহনকারীরা গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতারা থাকে ধরাছোয়ার বাইরে।

১২ আগস্ট মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন এর নেতৃত্বে সীমান্তে পাহাড় ও চা বাগান এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালিত হয়। ইতোমধ্যে মাদক পাচারে ধরা পড়েছে মাধবপুর থানা পুলিশ সদস্য। ধর্মঘর থেকে বাঘাসুরা পর্যন্ত এ চক্রের শতাধিক সদস্য এ পেশায় সক্রিয় রয়েছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সীমিত লোকবল, পরিবহন সমস্যা ও দুর্ঘম পাহাড়ের কারণে অবৈধ চোরাচালান ব্যবসা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। মাদক চোরাচালান ব্যবসা করলেও চলাফেরা বেশভূষা দেখে বুঝার উপায় নেই তাদের নেতৃত্বে এ সীমান্তে হচ্ছে বড় ধরনের চোরা চালানের ব্যবসা। তারা নিজেকে রাখে সব সময় ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

মাদক দ্রব্যের তালিকায় গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ রয়েছে। এসব মাদকের কারণে এলাকায় সুস্থ মানুষদের জীবন অসহনীয় হয়ে উঠেছে। স্কুল, কলেজ পড়ুয়া সন্তানরা অভিভাবকদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে আড়ালে আবডালে থেকে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। প্রতিদিন শত শত উঠতি বয়সের যুবক মাদক সেবনের জন্য সীমান্তবর্তী এলাকায় মোটরসাইকেল, কার, মাইক্রোবাস করে চলে আসে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক অভিভাবক জানান, মাদকের থাবা থেকে তাদের উত্তরাধিকারীদের রক্ষা করতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আইন প্রয়োগকারী বাহিনীকে আরও সোচ্চার হওবার কথা জানান অনেক সময় উঠতি বয়সের যুবকদের টাকার লোভ দেখিয়ে মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্ণেল সামিউন্নবী চৌধুরী সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মাদক প্রসঙ্গে বলেন, সীমান্তে বিজিবি সদস্যদের টহল জোরদার রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে বিজিবির অবস্থান জিরো ট্রলারেন্স। মাদকের বিরুদ্ধে বিজিবি পাশাপাশি প্রত্যেকটি পরিবারের কর্তাকে মুখ্য ভুমিকা পালন করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিজিবি সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরীর মত কাজ করছে।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে কোন মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না গত মাসে আমরা মাদকের ১০৫ টি মামলা দিয়েছি।

ডেইলিরুপান্তর/আবির

  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ