এটা চাঁদা নয়- হাতির জন্য বকশিস

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল নেকমরদ বাসস্ট্যান্ডে গতকাল বুধবার থেমে থাকা যানবাহনের সামনে এসে দাঁড়াল বিশাল আকৃতির একটি হাতি। পিছু পিছু আরেকটি বাচ্চা হাতি। প্রচণ্ড শব্দে শুঁড় তুলে চালককে সালাম জানাল। মাহুত সালামি বাবদ কিছু দেওয়ার অনুরোধের পর চালক হাতির শুঁড়ে গুঁজে দিলেন কিছু টাকা। টাকা পেয়ে সরে দাঁড়াল হাতিটি।

শহরের সড়কে হাতি দিয়ে গাড়ি থামিয়ে আদায় করা হচ্ছে চাঁদা। হাতি দিয়ে চাঁদা নেওয়ায় পথচারী, যানবাহনের যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে এমন চিত্র দেখা যায়।

বাসচালক মো. ইব্রাহীম বলেন, ‘বাস নিয়ে বের হওয়ার সময় হাতিটি বাসটি আটকে দেয়। মাহুত সালামির জন্য আমাকে কিছু টাকা দিতে বলার পর উপায় না দেখে হাতির শুঁড়ে ২০ টাকা গুঁজে দিই। কিন্তু হাতিটি টাকা ছোড়ে ফেলে। পরে ৫০ টাকা দিয়ে ছাড়া পাই।’

সরেজমিন দেখা যায়, বড় একটি হাতি মহাসড়ক দিয়ে হেঁটে হেঁটে চাঁদা আদায় করছে। হাতির পিঠে বসে আছেন রাজু নামের ৩০ বছর বয়সী এক যুবক। তিনিই হাতিটির মালিক। পাকা সড়কের রাস্তার বিভিন্ন যানবাহনে থাকা যাত্রী ও পথচারীদের কাছ থেকে হাতির শুঁড় উঁচু করে যানবাহনের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে যাত্রী ও চালকের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছেন। টাকা না দেওয়া পর্যন্ত কোনো গাড়ি ও পথচারীকেই ছাড়ছে না হাতিটি। রাস্তায় হাতির এমন যানবাহন থামিয়ে দেওয়ায় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন মানুষজন।

হাতির মাহুত আবদুল বাতেন জানান, রানীশংকৈল দুটি হাতি নিয়ে পায়ে হেঁটে এসেছেন তাঁরা। পথে দোকানে দোকানে গিয়ে সালাম দেওয়ার পর লোকজন যা দেন তা নিয়ে নেন। তবে জোর করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

আরেক হাতির মালিক রাজুর কাছে পথচারীদের কাছ থেকে কেন চাঁদা নিচ্ছেন জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, সবাই খুশি হয়ে দিচ্ছে তাই কিছু খাওয়ার জন্য নিচ্ছি। এটাকে চাঁদাবাজি বলে না।

তবে হাতির মাহুত বলছেন, ‘এটা চাঁদা নয় হাতির জন্য বকশিস।’

কী কারণে এ বকশিস তা জানতে চাইলে তাারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

জানা গেছে, করোনাভাইরাসের প্রভাবের পরপরই শুরু হওয়া বন্যার কারণে সার্কাসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পোষা হাতি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন হাতির মালিকরা। সার্কাস পার্টিতে হাতি ভাড়া দিয়ে সংসার খরচ চালাতেন তারা। হাতির যাবতীয় খরচও বহনও করেন সার্কাস পার্টি। কিন্তু করোনা মহামারি ও বন্যার কারণে সার্কাস পার্টির শো বন্ধ দীর্ঘদিন ধরে। সার্কাস পার্টির সদস্যদের দুই বেলা খাবার না জোটায় তারা সড়কে হাতি দিয়ে টাকা উঠাচ্ছেন।

পথচারী খুরশিদ শাওন জানান, বাসা থেকে বের হয়ে বাজারের দিকে যাচ্ছিলাম। পথে হাতি সামনে এসে দাঁড়ায়। তারপর শুঁড় উঁচু করে টাকা চায়। টাকা না দিলে হাতি হুংকার শুরু করে এবং শুঁড় উঁচু করে সামনের দিকে তেড়ে আসে। পরে ১০ টাকা দিতে বাধ্য হই।

অটোরিকশার যাত্রী সোহেল বলেন, অটো নিয়ে সড়ক দিয়ে যেতেই গাড়ি দেখেই বড় একটি হাতি সামনে এসে দাঁড়ায়। হাতি শুঁড় দিয়ে চেপে ধরে গাড়িকে তাকে ১০ টাকার কম দিলে সে সেটা গ্রহণ করে না। হাতিটির পিঠে বসে থাকা মালিক শুঁড় উঁচিয়ে ধরে ১০ টাকার বেশি নিতে বাধ্য করায়।

এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন রাণীশংকৈল থানার ওসি এসএম জাহিদ ইকবাল।

ডেইলিরুপান্তর/আবির

  • 30
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ