২২ বছর পর হুইল চেয়ার পেল প্রতিবন্ধী শিখা

প্রতিবন্ধী শিখা আক্তার (২২) জন্মের ৫ বছর পর সংসার ছেড়ে অন্যত্র চলে যায় মা কমলা খাতুন। বাবা আব্দুর রাশিদ ও দুই ভাই বোন নিয়েই তাদের সংসার। অসহায় দরিদ্র পরিবারের জন্ম প্রতিবন্ধী শিখার। ছোটকাল থেকেই এক জায়গায় বসে যার দিন পার।

২২ বছর জীবনে অনেকের কাছে গিয়েছে কেউ সহযোগিতা করেনি পরিবারটিকে। মো. হারিসের মাধ্যমে একটি হুইল চেয়ারের আবদার জানান আজকের পত্রিকার নান্দাইল প্রতিনিধি কে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোষ্টে নজরে পড়ে নান্দাইল উপজেলা ব্লাড ডোনেট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মো.তাজুল ইসলাম মীরের। তাৎক্ষণিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধিকে হুইল চেয়ার দিবে বলে আশ্বাস দেন।

মঙ্গলবার বিকালে নান্দাইল উপজেলা ব্লাড ডোনেট সোসাইটির একটি টিম উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের ছালুয়াপাড়া গ্রামে প্রতিবন্ধী শিখা আক্তারের বাড়িতে হাজির হয় হুইল চেয়ার নিয়ে। চলার সম্ভব হুইল চেয়ার দেখে প্রথমে চমকে যায় শিখা। পরে হুইল চেয়ারে বসালে আনন্দে আত্নহারা হয়ে যায় সে।

প্রতিবন্ধী শিখার বাবা আ: রাশিদ বলেন, মেয়ের মা আমাদের ছেড়ে অন্যত্র চলে যায় ১৭ বছর আগে। প্রতিবন্ধী মেয়ের কথা ভেবে পরে আর বিয়ে করেনি। ২শতাংশ জায়গা আছে তাতেই একটি ছোট ঘর তুলে বসবাস করছি। একটা হুইল চেয়ার কিনে দিব তার সম্ভব ছিল না। নান্দাইল ব্লাড ডোনেট সোসাইটির প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

হুইল চেয়ার পেয়ে আনন্দে প্রতিবন্ধী শিখা বলেন, আমি খুব খুশি হয়েছি,আমি এখন চারপাশের পরিবেশ দেখতে পারবো। ২২ বছর ধরে বারান্দায় এক জায়গায় বসে থেকেছি। এখন পৃথিবীটাকে একটু দেখতে পারবো। যারা আমারে হুইল চেয়ার দিছে তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।

হুইল চেয়ার প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন, ব্লাড ডোনেট সোসাইটির মো.তাজুল ইসলাম মীর,কাওসার মাষ্টার,আতাউর রহমান সুমন, হিরা প্রমুখ।

ডেইলিরুপান্তর/আবির

  • 140
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ