রাণীশংকৈলে নিয়ম না মেনে এলপিজি বিক্রি

সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় বিক্রি হচ্ছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডার। মুদির দোকান,কসমেটিক দোকান,মোবাইলের দোকান,ইলেক্ট্রনিক দোকান, চায়ের দোকান, সারের দোকান, এমনকি ভাঙারির দোকানেও বিক্রি হচ্ছে এ গ্যাসের সিলিন্ডার।

গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির স্থানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ও মূল্য তালিকা থাকার কথা থাকলেও তা কোনো দোকানে নেই। যে যার মতো দাম রাখছে গ্রাহকদের কাছে। বর্তমানে শুধু শহরের হাটবাজারগুলোতে নয় গ্রামের অলিগলিতেও বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার। অরক্ষিত স্থানে রেখে বেচাকেনা করা হচ্ছে সিলিন্ডার।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির স্থানে মেঝে পাকা, ফায়ার সার্ভিস কর্তৃক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ও আধা পাকা ঘর, বিস্ফোরক অধিদপ্তর কর্তৃক লাইসেন্স থাকার কথা থাকলেও অনেকে সেটি মানছেন না। অথচ এসবের একটি না থাকলে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করার কথা নয়।

সরেজমিনে জানা গেছে, প্রচণ্ড গরম ও হোটেলের গরম চুলার কাছে রেখে অনায়াসে বিক্রি বা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। এসব স্থানে রাখার ফলে যে কোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।

বিশেষজ্ঞরা জানান, দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি লাইসেন্স না নিয়ে এ ব্যবসা করে তাহলে তিনি তিন বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড করার বিধি আছে। এই বাইরেও দোকানের মালামাল বাজেয়াপ্ত করা যাবে।

রাণীশংকৈল পৌরসভার সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ফয়জুল ইসলাম জানান,আইন থাকলেও প্রয়োগ নেই। যে কারণে অলিগলিতে পাওয়া যাচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার। আবার অনেক ক্ষেত্রে মেয়াদ উত্তীর্ণ সিলিন্ডারে থাকছে তরল গ্যাস। সরকারিভাবে নেই কোনো তদারকি। মাস কিংবা বছরেও দেখা মিলছে না ভ্রাম্যমাণ আদালতের। ফলে ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

পৌরসভার কলেজপাড়ার বাসিন্দা সাবেক পুলিশের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন গ্যাস কোম্পানিগুলো নিয়ম মানছেন না। লাইসেন্স না দেখে শুধুমাত্র ব্যবসার জন্য এসব গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করছে। আর এলপি গ্যাসের দাম কমলেও কোনো কোনো সময় বাড়তি দামে বিক্রি করছে সিলিন্ডার। ফলে প্রতারিত হচ্ছে গ্রাহকেরা।

নেকমরদ হাটের উপহার সামগ্রী বিক্রেতা ওয়াহেদুল ইসলাম রেখেছেন গ্যাস সিলিন্ডার, আবার কসমেটিক বিক্রেতা করিমুলও রেখেছেন। তাঁরা বলেন, পানের দোকানিরা বিক্রি করলে আমরা কেন পারব না। আইনে আছে জানি কিন্তু সবাই মানছে না। সবাই বন্ধ করলে আমরা করব। ব্যবসা করলে নিয়ম মেনে ব্যবসা করব।

রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল সুলতান জুলকের নাইন কবির স্টিভ উপজেলায় বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তর কতজনকে এই সিলিন্ডারের লাইসেন্স দিয়েছে তা আমার জানা নেই। আর কেউ যদি নিয়ম না মেনে এসব এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিব।’

ডেইলিরুপান্তর/আবির

  • 9
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ