টেকনাফ নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে অপহরণকারী চক্রের কবল থেকে ৩ জন উদ্ধার

কক্সবাজার জেলার টেকনাফ নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির সংলগ্ন পাহাড় থেকে সংঘবদ্ধ পুতিয়া গ্রুপের কবল থেকে ৩ জন বাংলাদেশীকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে কক্সবাজার র‌্যাব-১৫।

র‌্যাব-১৫ সুত্র জানায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর (শনিবার) দুপুর ১টার দিকে অভিযোগের ভিত্তিতে কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর চৌকষ একটি আভিযানিক দল নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের আই ব্লক সংলগ্ন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে অপহৃত তিনজন বাংলাদেশীকে উদ্ধার করেন।

তারা হলেন, নোয়াখালী হাতিয়ার আফাজিয়া এলাকার মৃত হুমায়নের ছেলে আজিজুল ইসলাম (২৪), ঢাকা নারায়নগঞ্জের আড়াই হাজারের লাকুপোড়া গ্রামের মৃত আশকর আলী সিকদারের ছেলে আল আমিন (৪০) ও বি-বাড়িয়া সরাইল থানার নোয়াগাও গ্রামের মৃত আব্দুল মোতালেব মৃধার ছেলে মোঃ মোক্তার হোসেন মৃধা (২৭)।

তাদের উদ্ধার করতে গেলে অপহরণকারী চক্রের সদস্য আই ব্লকের পুতিয়া গ্রুপের প্রধান ছৈয়দ হোছন প্রকাশ পুতিয়া (২২), এহসান (২৬), আলম (২৪), গুরা মিয়ার ছেলে জুবায়ের (২৫), মিন্টু মিয়া (২৮), সোলতান আহমদের ছেলে হাসান আহমদ (২৮), নুরুল ইসলাম মাঝি, সাইদুল ইসলাম প্রকাশ জালিয়া (২৮), মোঃ শফির ছেলে হামিদ হোসেন প্রকাশ ভুতরা (৩৫), নাগুর ছেলে মো. সালাম প্রকাশ চাকমারা (৪২), আবু সোলতানের ছেলে মো. ইসমাঈল (৩০), আবুল কালামের ছেলে নুর কামাল (২৫), নুর হোসাইনের ছেলে মো. রাসেল (২৭), মো.হোসাইনের ছেলে মোঃ ইউছুফ (২১), পাতলার ছেলে করিম (২০), মো. ছায়েদ আহমদের ছেলে মো. ইউনুছ (৩৫), জকির আহমদের ছেলে জাবের হোসেন (২২) ও মো. হাশেম (৩০) পালিয়ে যায়। এরপর ভিকটিমদের উদ্ধার করে চিকিৎসা সহায়তার পর পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

কক্সবাজার র‌্যাব আরও জানান, অপহরণকারী সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা গত ২৩ সেপ্টেম্বর কনস্ট্রাকশনের কাজ দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে আনা হয় তিনজনকে।

এরপর কৌশলে তারা তিনজনকে পাহাড়ে নিয়ে ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। ভিকটিম আজিজুল ইসলামের ভাই সায়েম এই ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে এবং অপহৃতদের উদ্ধারে র‌্যাবের সহায়তা কামনা করেন। পরে র‌্যাব-১৫ এর সদস্যরা তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারী চক্রের অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া এন্ড অপারেশন্স) সিনিয়র এএসপি আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী জানান, এব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানায় একটি মামলা থাকায় উদ্ধারকৃত ভিকটিমদের চিকিৎসার পর পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে এবং অপহরণকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলিরুপান্তর/আবির

  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ