পালিয়ে বিয়ে করায়, রাণীশংকৈলে যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতন

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার বাঁচোর ইউপির ভাংবাড়ী গ্রামে মধ্যযুগীয় কায়দায় গাছে বেঁধে এক যুবককে বর্বর নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। বর্বর নির্যাতনের ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে রাণীশংকৈল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আকাশ ভিডিওটি তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে আপলোড দিয়ে এ ঘটনার ধিক্কার জানিয়ে সঠিক বিচারের দাবী জানান। এর পরে মুহুর্তে কয়েক’শ শেয়ার ও কমেন্টে প্রতিবাদের ঝড় উঠে সেই ভিডিও’তে।

নির্যাতনের শিকার যুবক ঐ গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে নাসিরুল ইসলাম(২৬)। সে ও তার ভাই কুদ্দুস বর্তমানে দিনাজপুর আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজে গুরুত্বর অবস্হায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয়রা জানায়, খলিলুর রহমানের ছেলের সাথে একই এলাকার করিমুলের মেয়ের প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উঠে। প্রেম থেকে তারা পরিবারের অগোচরে বিয়ে করে গত ৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ের হলফনামা গ্রহণ করে। পরে তারা দুজুনে ঢাকায় চলে যান। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ছেলে ও মেয়ের পরিবারের সম্মতিতে স্থানীয়ভাবে সমাধানের কথা বলে ছেলে মেয়েকে বাড়ীতে আসার ব্যবস্থা করা হয়। নাসিরুলের চাচা দবিরুল বলেন, আমি সহ ছেলে ও মেয়েকে ঢাকা থেকে নিয়ে আসি। কিন্তু ঢাকা থেকে রাণীশংকৈল নেকমরদ আসার পথেই মেয়ের আত্নীয় স্বজনরা মেয়েটিকে ঢাকা থেকে আসা যাত্রীবাহী পরিবহন থেকে জোর করে নামিয়ে নেয়। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের লক্ষে অপেক্ষা করা হয়।

ছেলের চাচা দবিরুল আরো জানায়, ঘটনার দিন গত সোমবার (২০সেপ্টেম্বর) আমার ভাতিজা নাসিরুল মেয়েটির বাড়ীর পার্শ্বের একটি দোকানে তার এক বন্ধুকে নিয়ে চা খেতে যায়। এ সময় মেয়েটির মা সেলিনা বাবা করিমুল চাচা রাব্বুল অতর্কিতভাবে নাসিরুলের উপর হামলা করে। চা দোকানের খু্টিতে প্রথমে হাত পা বেঁধে মারপিট করা হয়। বেদড়ক মারপিট করে মাটিতে লুটিয়ে দেয়।

স্থানীয় রুবেল নামে একজন প্রত্যক্ষদশী বলে,তাকে দোকানের মধ্যে বেদড়ক মারপিটের পর ভাংবাড়ী স্কুলের একটি কাঠাঁল গাছের সাথে বেধে বেদড়ক মারপিটসহ শারীরিক বর্বর নির্যাতন করা হয়। মারপিট থামাতে যারাই গেয়েছেন তারাই মেয়ের পরিবারের আক্রমণের শিকার হয়েছেন। খবর পেয়ে ছেলের বড় ভাই কুদ্দুস গেলে তাকেও তারা মারপিট করে। পরবর্তীতে পুলিশের ৯৯৯ ফোন নাম্বারে কল দিলে পুলিশ গিয়ে নাসিরুলকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে।

সেখানে অবস্থার বেগতিক দেখে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিক্যালে স্থানতর করা হয়। এদিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে মেয়েটির বাড়ীতে সাংবাদিকরা গেলে মেয়েটির মা সেলিনা সাংবাদিকদের কোন মন্তব্য দিতে প্রথমে রাজি হননি । পরে অজ্ঞাত কোন ব্যক্তির সাথে মুঠোফোনে কথা বলে সেলিনা সাংবাদিকদের বলেন, আমার মেয়েকে সে পালিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। পরে আমার মেয়ে বাসায় আসলে তাকে আমরা বাসা থেকে সরিয়ে দেয়। ঘটনার দিন সোমবার ছেলেটি আমাদের বাসায় ঘুর ঘুর করছিলো। কেন সে ঘুরবে এ জন্যই তাকে মারপিট করা হয়েছে।তিনি গাছে বেধেঁ মারপিট দেওয়ার কথাও শিকার করেন। মেয়ের মা সেলিনা বলেন, ছেলেটির সাথে আমার মেয়ের বিয়ে আমরা দিবো না তাও সে ঘুরে। বিয়ে হয়েছে প্রশ্নে মেয়ের মা সেলিনা বলেন, আমাদের কাগজপত্র দেখায় নি।

থানা পরির্দশক এস এম জাহিদ ইকবাল শুক্রবার সকালে বলেন, থানায় এ বিষয়ে কোন এজাহার দেওয়া হয়নি। তবে বিষয়টি আমরা গুরত্ব সহকারে দেখছি।

ডেইলিরুপান্তর/আবির

  • 226
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ