কুতুবদিয়ায় কারচুপির মাধ্যমে নৌকার প্রার্থী রেজাউলকে পরাজিত করার অভিযোগ

"ভোটকেন্দ্রের বাইরে ঝোপঝাড়ে ‘নৌকা’ প্রতীকের সিলযুক্ত ব্যালেট পেপার"

কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশীখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ‘নৌকা প্রতীকের’ চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউল করিম রেজার পরাজয় নিশ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে।

এ নিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউল করিম রেজার অভিযোগ, নির্বাচনের দিন ২০ সেপ্টেম্বর রাতে ভোট গণণাকালে শুধুমাত্র ‘নৌকা প্রতীকে’ সিলমারা বেশকিছু ব্যালেট পেপার কয়েকটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে ঝোপঝাড়ে বিচ্ছিন্নভাবে পাওয়া গেছে। এ বিষয় নিয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বরাবর প্রার্থী রেজাউল করিম রেজা লিখিতভাবে অভিযোগ জানালেও কোন প্রতিকার পাননি।

নির্বাচনে লেমশীখালী ইউনিয়নের রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন স্বাক্ষরিত বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণার একটি নথিতে দেখা গেছে, নির্বাচনে ইউনিয়নটিতে ৭ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ‘চশমা প্রতীকের’ স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আকতার হোছাইনকে ২৯৯ ভোটে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। এতে তার প্রাপ্ত ভোট ৪ হাজার ৩৪১ ভোট। আর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি আওয়ামী লীগের মনোনীত মো. রেজাউল করিম ‘নৌকা প্রতীকের’ পেয়েছেন ৪ হাজার ৪২ ভোট।

বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া মো. আকতার হোছাইন লেমশীখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং কুতুবদিয়া উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতির দায়িত্বে আছেন। গত নির্বাচনেও তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এছাড়া, অপর পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে ‘দুইটি পাতা’ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু মজিদ আব্দুল্লাহ পেয়েছেন ১ ভোট, ‘আনারস’ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ওয়াকি মনি পেয়েছেন ২১৪ ভোট, ‘ডাব’ প্রতীকে বাংলাদেশ কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী ফিরোজ আহমেদ পেয়েছেন ১৩ ভোট, ‘ হাত পাখা’ প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ শরীফ পেয়েছেন ২৫০ ভোট এবং ‘ঘোড়া’ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সরওয়ার আলম পেয়েছেন ১০ ভোট।

ইউনিয়ন রিটানিং কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত নির্বাচনী ফলাফল নথিতে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা দেখানো ৯ হাজার ১৬৬ টি। এতে মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ৮৮৬৯ টি। আর বাতিল ভোট দেখানো হয়েছে ২৯৭ ভোট।

নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৭ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ৮ হাজার ৮৭১ টি। আর চেয়ারম্যান প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যার সাথে বাতিল ২৯৭ ভোট যোগ করলে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৯ হাজার ১৬৮ টি। এতে ইউনিয়ন রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত ফলাফলের প্রদত্ত মোট ভোটের সংখ্যার চাইতে ২ টি বেশী। এই দুইটি ভোট আর বাতিল ভোটের সংখ্যা যোগ করলে দাঁড়ায় ২৯৯ টি। যা বেসরকারিভাবে বিজয়ী ও পরাজিত ঘোষণা করা প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীদের ভোটের ব্যবধানের সমান রয়েছে।

এছাড়া ভোটকেন্দ্রের বাইরে যে ব্যালেট পেপারগুলো পাওয়া গেছে তাতে ইউনিয়নটিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারি ৭ জন প্রার্থীরই প্রতীকই রয়েছে। আর ব্যালেটগুলোতে শুধু ‘নৌকা’ প্রতীকেই সিলামারা রয়েছে।

এ নিয়ে বেসরকারিভাবে ঘোষিত নির্বাচনী ফলাফলে ভোটের সংখ্যা অমিলের পাশাপাশি কয়েকটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে বিচ্ছিন্নভাবে বেশকিছু নৌকা প্রতীকে সিলামারা ব্যালেট পেপার পাওয়ায় এবং লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কোন ধরণের ব্যবস্থা না নেওয়ায় নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত ‘নৌকা’ প্রতীকের প্রার্থী মো. রেজাউল করিম রেজা।

রেজাউল করিম দাবি করেন, নির্বাচনের দিন রাতে ভোট গণনাকালে লেমশীখালী ইউনিয়নের ৬ নাম্বার ওয়ার্ডের এম রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, ৩ নাম্বার ওয়ার্ডের সতরুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র এবং ৯ নাম্বার ওয়ার্ডের দক্ষিণ লেমশীখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি জায়গায় শুধুমাত্র ‘নৌকা’ প্রতীকে সিলমারা বেশকিছু ব্যালেট পেপার পাওয়া যায়। স্থানীয় লোকজন ব্যালেট পেপারগুলো ঝোপঝাড়ে ও মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে তাকে (রেজাউল ) খবর দেয়। পরে খবর পেয়ে এসব ব্যালেট পেপার সংগ্রহ করা হয়। “ শুধুমাত্র ‘নৌকা’ প্রতীকে সিলযুক্ত অন্তত ৭০ টি ব্যালেট পেপার আমার নিকট এবং আমার নির্বাচনী এজেন্টদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া এ ধরণের ব্যালেট পেপার স্থানীয় বিভিন্ন লোকজনের কাছেও রয়েছে বলে জানান তিনি। ”

‘নৌকা’ প্রতীকের এ প্রার্থী রেজাউল বলেন, “ শুধুমাত্র ‘নৌকা’ প্রতীকে সিলমারা ব্যালেট পেপার কেন্দ্রের বাইরে বিচ্ছিন্নভাবে কুড়িয়ে পাওয়ার পরপরই কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জামশেদুল ইসলামের বরাবরে লিখিত একটি অভিযোগ দায়ের করি। বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখার লিখিত আবেদনও জানাই। তবে এ ব্যাপারে কোন ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণের এখতিয়ার তার ( উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ) নেই বলে ওই সময় অবহিত করেন। ”

রেজাউল অভিযোগ করে বলেন, “ আমি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কোন ধরণের ব্যবস্থা না নেওয়া এবং অভিযোগের ব্যাপারে যাচাই-বাছাই না করে তড়িগড়ি ভোটের ফলাফল ঘোষণা করেছেন। মূলত কথিত বিজয়ী ঘোষণা করা ‘চশমা’ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো, আকতার হোছাইনের সঙ্গে যোগসাজশ করে নির্বাচনী ফলাফল পাল্টে দেয়া হয়েছে। ” “ কথিত বাতিল দেখানো ২৯৭ টি ভোটের সবক’টি ভোট ‘নৌকা’ প্রতীকে সিলমারা। ভোটকেন্দ্রের বাইরে যতটি ব্যালেট পেপার ফেলে দেওয়া হয়েছে ততটি ভোটে ‘নৌকা’ প্রতীকের কম ভোট দেখানো হয়েছে। ”
নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী অভিযোগে জানান, আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীকে হারানোর জন্য নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে আঁতাত করেছে অনিয়ম ও কারচুপির এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

এ নিয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে অভিযোগের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান রেজাউল করিম। এ ব্যাপারে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জামশেদুল ইসলাম বলেন, এ ধরণের অভিযোগের ব্যাপারে কোন ধরণের ব্যবস্থা নেয়ার এখতিয়ার আমার নেই। ঘটনার পরপরই যদি অভিযোগকারি প্রার্থী সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার বরাবরে অভিযোগ জানাতেন তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। তারপরও নির্বাচন সংক্রান্ত যদি কোন ধরণের অভিযোগ থাকে অভিযোগকারি চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের আশ্রয় নিতে পারেন।

ডেইলিরুপান্তর/আবির

  • 125
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ