ঝিনাইগাতীতে রাস্তা বিহীন ইউনিয়ন পরিষদ, পরিদর্শনে তদন্ত কমিটি

শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলায় রাস্তা বিহীন হাতীবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন।  যাতায়াতের পথে বিল্ডিং নির্মাণ, খড়ের পাল্লা, ল্যাট্রিনের পাইপ ব্যবহার করায় চরম দুভোগে ইউনিয়নবাসী। পরিদর্শনে তদন্ত কমিটি।

ইউনিয়ন পরিষদ সুত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি  নির্মাণ করা হয়। পরিষদের ভবনটি নির্মাণের আগে পরিষদে যাতায়াতের রাস্তার জন্য ১৯৯৬সালে উপজেলার ঘাগড়া লস্করপাড়া গ্রামের মৃত রহিজ উদ্দিনের ছেলে মো.আব্দুর রহিম ও আব্দুর রাজ্জাক সাবকবলা দলিলমুলে ২৫ শতাংশ জমির মধ্যাংশে থেকে ৪শতক জমি দান করেন। একই ভাবে মৃত ইসরাফিল খানের ৫ছেলে মো. বেলাল হোসেন খান গংরা ২ শতাংশ জমি লিখে দেন। কিন্তু তাদের দলিলে জমির স্থান উল্লেখ করা হয়নি। এনিয়ে ঝামেলায় পড়ে ইউনিয়ন পরিষদ।

স্থানীয়ারা জানায়, বিগত নির্বাচনে জমি দাতা বেলাল হোসেন ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন। এসময় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন শামছুল হক। তারা উভয়েই দায়িত্ব পাওয়ার পর পরিষদের রাস্তাটি নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্পও বরাদ্দ করান। জমিদাতা হিসাবে  ইউপি সদস্য বেলাল হোসেনের দাবী রাস্তা নির্মাণ কাজটি তিনিই করবেন। কিন্তু ইউপি চেয়াররম্যান শামছুল হক কাজটি বেলালকে না দিয়ে তিনি নিজেই কাজ শুরু করেন এবং ইউনিয়ন পরিষদের ভবনের সন্মুখ থেকে সোজাসুজি ভাবে মাটি ভরাটের কাজ করেন। রাস্তাটির বেশির ভাগ জায়গাতে মাটি ভরাটের পর বাঁধ সাজেন বেলাল মেম্বার ও তার অন্যান্য ভাইয়েরা। এতে ভেস্তে যায় ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তা নির্মাণ কাজ। বেলালগংরা রাস্তার সামনে ওই জমির উপর বিল্ডিং নির্মাণসহ যাতায়াতের পথে খড়ের পালা দিয়ে রাস্তাটি বন্ধ করে রেখেছেন। অপরদিকে আব্দুর রাজ্জাক গংদের বাড়ীর ভীতর দিয়ে লোকজন যাতায়াত করায় মহিলাদের সমস্যায় হওয়ায় তাদের পারিবারিক রাস্তাটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে রাস্তার অভাবে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে লোকজন যাতায়াত করতে পারছেন না। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পুরো ইউনিয়নবাসীকে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন থেকে জেলা প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করা হলে ২৩সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা কমিশনার (ভুমি) জয়নাল আবেদিনের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত দল আসেন ইউনিয়ন পরিষদে। দলের অন্য ২ সদস্যরা ছিলেন, উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান।

উক্ত তদন্ত কমিটির সন্মুখে ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তা নিমার্ণের দাবীতে বক্তব্য রাখেন, হাতীবান্ধা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলী আকবর, জেলা পরিষদের সদস্য ও উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক আয়শা সিদ্দিকা রুপালী, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন, হাতীবান্ধা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ফছিউর রহমান, সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কাশেম, হযরত আলী, এলাকাবাসীদের পক্ষে জয়নাল আবেদিন ও আলমগীর হোসেন মাষ্টার।

তদন্ত কমিটির সদস্যরা জমি দাতাদের  দু’পক্ষের কাগজ পত্র দেখেন এবং তাদের মতামত জানার পর  তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা কমিশনার (ভুমি) জয়নাল আবেদিন উভয় পক্ষকে আগামী তিন দিনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তা নিমার্ণ বিষয়ে প্রশাসনকে সিদ্ধান্ত জানাতে অনুরোধ করেন। অন্যথায় প্রশাসন ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তা নিমার্ণ বিষয়ে প্রশাসনিক ভাবে উদ্যোগ নিবেন বলে জানা গেছে।

উপজেলা নিবার্হী অফিসার (ইউএনও) ফারুক আল মাসুদ জানান, জমি দাতারা ইউনিয়ন পরিষদে রাস্তা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহনে ব্যর্থ হলে প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে রাস্তা বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/এস.

  • 15
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ