ইউপি নির্বাচনে খুলনায় ৭৩ চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে খুলনার পাঁচ উপজেলার ৩৪ ইউনিয়নের মধ্যে ৩৩টি ইউনিয়নের ৭৩ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন।

ঘোষিত ফলাফলের আট শতাংশের এক ভাগ ভোটও না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। তবে, এরমধ্যে কয়রা সদর ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ হওয়ায় ফলাফল স্থগিত রয়েছে।

উল্লেখিত ইউনিয়নগুলোতে ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপে ২০ সেপ্টেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খুলনার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এম মাজহারুল ইসলাম।

সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রত্যেক প্রার্থীকে সরকারি কোষাগারে ৫ হাজার টাকা করে জামানত জমা দিতে হয়। সেই জামানতের টাকা ফেরত পেতে ওই ইউনিয়নের সব ভোটকেন্দ্রে (কাস্টিং ভোট) পড়া মোট ভোটের ৮ ভাগের ১ ভাগ বা ১২.৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। যেসব প্রার্থী ওই পরিমাণ ভোট না পেয়েছেন তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।

নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বটিয়াঘাটার উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ১০ জন প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন। এরমধ্যে আমিরপুর ইউনিয়নের ৬ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জামানত হারাচ্ছেন। তারা হলেন— স্বতন্ত্র প্রার্থী ওবায়দুর রহমান (মোটর সাইকেল), স্বতন্ত্র প্রার্থী পার্থ সারথি দত্ত (ঘোড়া) ও ফুজ্জাত হোসেন (আনারস)।

গংগারামপুর ইউনিয়নের ৬ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জামানত হারাচ্ছেন। তারা হলেন— ইসলামী আন্দোলনের নাজিম উদ্দীন (হাতপাখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী রামপ্রসাদ রায় (ঘোড়া) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শিব পদ রায় (চশমা)।

বালিয়াডাংগা ইউনিয়নের ৭ প্রার্থীর মধ্যে চারজন জামানত হারাচ্ছেন। তারা হলেন— জাতীয় পার্টির আমিরুল ইসলাম সেখ সাদ্দাম (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী শিমুল শেখ (মোটরসাইকেল), স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুর রহমান (আনারস) ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শেখ মো. মাইনুর ইসলাম (হাতপাখা)।

দাকোপ উপজেলার ৮ ইউনিয়নের ১৫ জন প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন। এরমধ্যে বানিশান্তা ইউনিয়নের ৬ প্রার্থীর মধ্যে চারজন জামানত হারাচ্ছেন। তারা হলেন— স্বতন্ত্র প্রার্থী জগদীশ মৃধা (ঘোড়া), স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম (চশমা), ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শেখ জহিরুল ইসলাম (হাতপাখা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সত্যজিৎ গাইন (মোটরসাইকেল)।

বাজুয়া ইউনিয়নের তিনজন প্রার্থীর মধ্যে একজন জামানত হারাচ্ছেন। তিনি হলেন— স্বতন্ত্র প্রার্থী রুপালী ইসলাম মির্জা (ঘোড়া)।দাকোপ সদর ইউনিয়নের তিনজন প্রার্থীর মধ্যে একজন জামানত হারাচ্ছেন। তিনি হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী গৌতম সরকার (মোটরসাইকেল)।

কামারখোলা ইউনিয়নের তিনজনের মধ্যে কোনো প্রার্থীর জামানত হারানোর আশঙ্কা নেই। কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জামানত হারাচ্ছেন। তারা হলেন— বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টির গৌরাঙ্গ প্রসাদ রায় (হাতুড়ি), স্বতন্ত্র প্রার্থী চয়ন রায় (ঘোড়া) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মন্টু লাল রায় (মোটরসাইকেল)।

পানখালী ইউনিয়নের তিনজনের মধ্যে কোনো প্রার্থীর জামানত হারানোর আশঙ্কা নেই। সুতারখালী ইউনিয়নের ৬ প্রার্থীর মধ্যে চারজন জামানত হারাচ্ছেন। তারা হলেন— স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল ওহাব গাজী (মোটরসাইকেল), স্বতন্ত্র প্রার্থী দেবপ্রসাদ বৈদ্য (ঘোড়া), স্বতন্ত্র প্রার্থী লিয়াকত আলী সানা (আনারস) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাহাবুদ্দিন গাজী (চশমা)।

তিলডাংগা ইউনিয়নের ৪ প্রার্থীর মধ্যে দুইজন জামানত হারাচ্ছেন। তারা হলেন— স্বতন্ত্র প্রার্থী অরুন প্রকৃতি রায় (মোটরসাইকেল) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তরুন মণ্ডল (চশমা)। কয়রা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে কয়রা সদর ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে ভোট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যে কারণে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। বাকি ৬ ইউনিয়নের ১৫ জন প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন।

এরমধ্যে আমাদী ইউনিয়নের ৫ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জামানত হারাচ্ছেন। তারা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জালাল উদ্দীন আহমেদ (ঘোড়া), স্বতন্ত্র প্রার্থী রেবেকা সুলতানা (মোটরসাইকেল) ও সাজ্জাদুল ইসলাম (চশমা)।

বাগালী ইউনিয়নের ৬ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জামানত হারাচ্ছেন। তারা হলেন— স্বতন্ত্র প্রার্থী গাজী মকবুল হোসেন (আনারস), স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হাসান খান (চশমা) ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম (হাতপাখা)।

মহারাজপুর ইউনিয়নের ৬ প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনই জামানত হারাচ্ছেন। তারা হলেন— স্বতন্ত্র প্রার্থী আফজাল হোসাইন (চশমা), স্বতন্ত্র প্রার্থী উৎপল কুমার সানা (মোটরসাইকেল), স্বতন্ত্র প্রার্থী এম আনোয়ার হোসেন (ঘোড়া), স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু সাইদ (আনারস) ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোতলেব হোসেন (হাতপাখা)।

মহেশ্বরীপুরের ৪ প্রার্থীর মধ্যে একজন জামানত হারাচ্ছেন। তিনি হলেন— ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী রসুল সরদার (হাতপাখা)। উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের ৭ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জামানত হারাচ্ছেন। তারা হলেন— স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম (দুটি পাতা), স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ শাকিল আহমেদ (টেবিল ফ্যান) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী স ম নজরুল ইসলাম (মোটরসাইকেল)।

পাইকগাছা উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ১৯ জন প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন। এরমধ্যে চাঁদখালী ইউনিয়নের ৬ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জামানত হারাচ্ছেন। তারা হলেন— স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তা গাউছল হক (মোটরসাইকেল), স্বতন্ত্র প্রার্থী আহসান উল্লাহ (আনারস) ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম গাইন (হাতপাখা)।

দেলুটি ইউনিয়নের তিন প্রার্থীর মধ্যে একজন জামানত হারাচ্ছেন। তিনি হলেন— স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোলটন মণ্ডল (ঘোড়া)। গদাইপুর ইউনিয়নের ৫ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জামানত হারাচ্ছেন। তারা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী আব্দুস সালাম (আনারস), স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ জাকির হোসেন (ঘোড়া) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সোহরাওয়ার্দ্দী (মোটরসাইকেল)।

গড়ইখালী ইউনিয়নের ৬ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জামানত হারাচ্ছেন। তারা হলেন— স্বতন্ত্র প্রার্থী এবিএম এনামুল হক (মোটরসাইকেল), স্বতন্ত্র প্রার্থী গাজী মোস্তফা কামাল (ঘোড়া) ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ফারুক হোসেন মোড়ল (হাতপাখা)।

কপিলমুনি ইউনিয়নের ৬ প্রার্থীর মধ্যে চারজন জামানত হারাচ্ছেন। তারা হলেন— স্বতন্ত্র প্রার্থী আছাদুল বিশ্বাস (ঘোড়া), ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আব্দুর রব (হাতপাখা), জাকের পার্টির প্রার্থী শেখ ইফতেখার আল মামুন সুমন (গোলাপ ফুল) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ নাজমুল হোসেন (মোটরসাইকেল)।

লস্কর ইউনিয়নের চার প্রার্থীর মধ্যে একজন জামানত হারাচ্ছেন। তিনি হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ননী গোপাল মণ্ডল (ঘোড়া)। লতা ইউনিয়নের তিন প্রার্থীর মধ্যে একজন জামানত হারাচ্ছেন। তিনি হলেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী অলি সরদার (হাতপাখা)।

রাড়ুলী ইউনিয়নের তিন প্রার্থীর মধ্যে একজন জামানত হারাচ্ছেন। তিনি হলেন— স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মজিদ গোলদার (আনারস)।সোলাদানা ইউনিয়নের চার প্রার্থীর মধ্যে দুইজন জামানত হারাচ্ছেন। তারা হলেন— জাকের পার্টির প্রার্থী ইয়াসির আরাফাত (গোলাপ ফুল) ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী নুরুল ইসলাম গাজী (হাতপাখা)।

দিঘলিয়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ১৪ জন প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন। এরমধ্যে দিঘলিয়া সদর ইউনিয়নের ৬ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জামানত হারাচ্ছেন। তারা হলেন— ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আসাদুল্লাহ (হাত পাখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী রবিউল মোড়ল (আনারস) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রুকসানা পারভীন (রজনীগন্ধা)।

সেনহাটি ইউনিয়নের চার প্রার্থীর মধ্যে দুইজন জামানত হারাচ্ছেন। তারা হলেন— জাকের পার্টির প্রার্থী দেলোয়ার (গোলাপ ফুল) ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ফরিদ আহম্মদ হাওলাদার (হাতপাখা)।

গাজীরহাট ইউনিয়নের ৫ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জামানত হারাচ্ছেন। তারা হলেন— স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল ইসলাম পলাশ (ঘোড়া), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোল্লা আব্দুর রউফ (আনারস) ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী রিজাউল মোল্যা (হাতপাখা)।

বারাকপুর ইউনিয়নের ৫ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জামানত হারাচ্ছেন। তারা হলেন— স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস ছালাম শেখ (ঘোড়া), ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. হায়দার আলী (হাতপাখা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ইমামুল ইসলাম (আনারস)।

আড়ংঘাটা ইউনিয়নের তিনজনের মধ্যে কোনো প্রার্থীর জামানত হারানোর শঙ্কা নেই। যোগীপোল ইউনিয়নের ৫ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জামানত হারাচ্ছেন। তারা হলেন— ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মাসুম (হাতপাখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী ফয়সাল হোসেন (চশমা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল ইসলাম (আনারস)।

ডেইলিরুপান্তর/আবির

  • 12
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ