কুতুবদিয়ায় নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত হালিমের অবুঝ তিন শিশুর ভেজা চোখের অনিশ্চিত জীবন

কক্সবাজার জেলার ২টি পৌরসভা ও ৪টি উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের নির্বাচন গত ২০ সেপ্টেম্বর নানা অঘটন ঘটনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো। নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ গেলো ২ জন আওয়ামী লীগের নিবেদিত কর্মীর।

নিহতদের মধ্যে একজন দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হালিম। তাজা বুলেট তার তাজা বুক ঝাঁঝরা করে দিয়েছে। তার স্ত্রী ও অবুঝ তিন শিশু সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। স্ত্রী, তিন শিশুর ভেজা চোখের অনিশ্চিত জীবন এখন।

নিহত আবদুল হালিম সোমবার ওই ইউনিয়নের নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী আবুল কালামের এজেন্ট ছিলেন। দায়িত্বরত অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন হালিম।

এ ঘটনার পর দায়সারা মনোভাব নিয়ে ঘরে বসে থাকেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনিত কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। নিজেদের আদর্শিক অবস্থান থেকে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে যে মানুষটি নির্বাচনী এজেন্ট থাকা অবস্থায় বুকের তাজা রক্ত ঝরিয়ে গেলেন সেই মানুষটিকে শেষ বিদায় জানাতে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে দ্বীপে ছুটে যান জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক ও মহেশখালী পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র মকছুদ মিয়া, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনসহ নেতৃবৃন্দ।

নেতৃবৃন্দ তাদের প্রিয় নিবেদিত কর্মী আবদুল হালিমকে কখনো না ভুলার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। আওয়ামী লীগ তাকে কখনো ভুলবে না। এসময় হালিমের ছোট্ট অবুঝ শিশুগুলোকে সান্ত্বনা দেন মেয়র মুজিবুর রহমান। তারপরও কঠিন বাস্তবতায় শোকাহত পরিবারটিকে ব্যক্তিগতভাবে এবং দলের পক্ষে গভীর সমবেদনা জানান তারা।

তারা বলেন, নিহত আবদুল হালিম দলের জন্য যেভাবে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন তা কখনো ভুলবার নয়। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

এই শান্তনার বাণীতেই যুগযুগ কেটে যাবে তাদের। তবে বুকে ক্ষত রয়ে যাবে আমৃত্যু। এদিকে, অবুঝ শিশুরা এখনো জানেন না তার বাবা আর কোনদিন ফিরে আসবে না। বাবা ডাকটি চিরদিনের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলো, তাও তারা বুঝতে পারছে না। সংসারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি মারা যাওয়ায় ভেজা চোখের অনিশ্চিত জীবন তাদের। এদের দায়িত্ব কে নেবে। একজন পিতার শুন্যতা পূরণ করবে কে? জনমনে সেই প্রশ্নটা রয়ে গেল।

ডেইলিরুপান্তর/আবির

  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ