কক্সবাজারে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত-২, অর্ধশত আহত : কেন্দ্র স্থগিত

কক্সবাজার জেলার চকরিয়া ও মহেশখালী পৌরসভা এবং চার উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদে ১ম ধাপের নির্বাচন ব্যাপক সহিংসতা, ব্যালট ছিনতাইসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। সহিংসতার ঘটনায় ২ জন নিহত ও অর্ধশত আহত হয়েছে। বেশ কয়কটি কেন্দ্র স্থগিত করা হয়েছে।

সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। জানা গেছে, কুতুবদিয়ায় নির্বাচনি সহিংসতায় আবু হালিম (৪০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় বড়ঘোপ ইউনিয়নের পিলটকাটা কেন্দ্রে এঘটনা ঘটে। তাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে কুতুবদিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আবু হালিম ওই কেন্দ্রে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী আবুল কালামের নির্বাচনি এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে জানা গেছে। এসময় বিভিন্ন কেন্দ্রে আহত হয়েছেন আরও ৪০ জন। নিহত আবদুল হালিম বড়ঘোপ ইউনিয়নের গোলদারপাড়া এলাকার মৃত মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে।

কুতুবদিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর হায়দার বলেন, কেন্দ্র দখলের ঘটনায় উভয়পক্ষের গোলাগুলিতে একজন নিহত হয়েছে।

রিটার্নিং অফিসার জামশেদুল ইসলাম সিকদার বলেন, ওই কেন্দ্রে আপাতত ভোট স্থগিত করা হয়েছে। এদিকে, মহেশখালীর কুতু্জোমে নৌকার প্রার্থী শেখ কামাল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোশারফ হোসেন খোকনের সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলিতে একজন নিহত হয়েছে। তার নাম আবুল কালাম। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী খোকনের সমর্থক বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় আরো পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ঘটনার পরপরই সেই ৫নং ওয়ার্ড কেন্দ্রের স্থগিত করা হয়েছে।

পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউপির নির্বাচনে নারী পুরুষ ভোটারের ব্যাপক উপস্থিতির মাঝেও নির্বাচনী সহিংসতায় রিদুয়ান নামে এক সমর্থক আহত হয়েছে। এছাড়াও জাল ভোট দেয়ার সময় মাহামুদুল করিম নামে একজনকে আটক করেছে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। টৈটং ইউপির ৩নং ওয়ার্ডের টৈটং উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সংঘর্ষের ঘটনায় আহতের ঘটনা ঘটে।

অপরদিকে, সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের উনছিপ্রাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও লম্বাবিল এমদাদিয়া মাদরাসা ভোটকেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নির্বাচন কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে উত্তেজিত জনতা। ঘটেছে সড়ক অবরোধ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে স্থানীয়রা।

খবর পেয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবু সুফিয়ান, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার পারভেজ চৌধুরী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইরফানুল হক চৌধুরী বেলা ১টার দিকে লম্বাবিল ভোটকেন্দ্রে পৌঁছেন। তারা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও এজেন্টদের অভিযোগ শোনেন। তাৎক্ষণিক দুই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত থাকবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার পারভেজ চৌধুরী। চকরিয়া পৌরসভা ও মহেশ খালী পৌরসভা নির্বাচনেও একাধিক কেন্দ্র সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/এস.

  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ