লাখাইয়ে বিল থেকে ধরা শামুক নৌকা থেকে নামাচ্ছেন জেলেরা

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বিভিন্ন হাওর থেকে অবাধে শামুক সংগ্রহ করে বিক্রি করা হচ্ছে এতে হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য চিংড়ির ঘের, হাঁস-মুরগি ও মাছের খামারে শামুকের কদর থাকায় স্থানীয় জেলেরা অবাধে শামুক সংগ্রহ করছেন। স্থানীয় পাইকারেরা সংগ্রহ করে বিক্রি করছেন দেশের বিভিন্ন জেলার খামারে। ২০১২ সালের ১০ জুলাই প্রকাশিত সরকারি প্রজ্ঞাপনে বিভিন্ন প্রজাতির শামুককে বন্যপ্রাণী হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। শামুক ধরা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ছাড়া শামুক বিকিকিনি বা আমদানি-রপ্তানি করা যাবে না। এ নিয়ম না মানলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়ার কথা। এ অপরাধের জন্য এক বছরের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার বিধান রয়েছে। কিন্তু জেলেরা তা উপেক্ষা করছেন।

গত মঙ্গলবার দুপুরে লাখাই উপজেলার বিভিন্ন হাওর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ছোট ছোট নৌকা চড়ে জেলেরা জাল ফেলে শামুক ধরছেন। জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোর রাত থেকে বিকেল পর্যন্ত শামুক ধরছেন তাঁরা। লাখাইয়ের চিকনিয়া গ্রামের সড়কের পাশে শামুক বোঝাই ১২টি নৌকা ভিড়ানো হয়। পাইকারেরা বসে আছেন গাড়ি নিয়ে। কোথাও দেখা গেছে, সড়কের পাশে শামুক ভর্তি বস্তার স্তূপ। উপজেলার ধলেশ্বরী নদী ঘেঁষা দশকামানিয়া বিল, বারগুনা বিল ও রইব্যার গুনা বিল থেকে প্রচুর শামুক ধরা হচ্ছে।

দশকামানিয়া বিল থেকে শামুক নিয়ে আসা এক জেলে বলেন, ‘আমরা ভাসা পানি থেকে মাছ ও শামুক ধরার জন্য মাস হিসেবে নৌকাপ্রতি ৪ হাজার টাকায় লিজ নিই। আমরা অভাবী মানুষ। তাই শামুক ধরে যা আয় হয়, তা দিয়েই সংসার চালাই
একই ঘাটে নৌকা ভিড়িয়েছেন আরও কয়েকজন জেলে তাঁরা বলেন, বর্ষা মৌসুমে মাছ কম থাকায়, তাঁরা এখন শামুক ধরে বিক্রি করছেন। মাছ ধরে তাঁদের সংসার চলে না।

আরেক জেলে বলেন, সারা দিন উপজেলার বিভিন্ন বিল থেকে ২০০ থেকে ৩০০ বস্তা শামুক ধরা হয়। এগুলো স্থানীয় পাইকারেরা বস্তাপ্রতি ৭০ টাকা দরে কিনে নেন ফরিদ মিয়া নামের স্থানীয় এক পাইকার বলেন, তিনি গাড়িতে করে বিভিন্ন স্থানে ব্যবসায়ীদের কাছে শামুক বিক্রি করেন।

প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও হবিগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘শামুক একটি বণ্যপ্রাণী। এগুলো ধরলে খাদ্যশৃঙ্খল নষ্ট হয়ে যায়। শামুক কোনো কাজে লাগে না বলে আমরা অনেকেই মনে করি। কিন্তু শামুক পানিতে ডুবে থাকে মাটি উর্বর করতে বিরাট ভূমিকা রাখে। তাই শামুক ধরে পরিবেশ নষ্ট করা যাবে না।’

জানতে চাইলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস মুজমদার বলেন, ‘আমি এ উপজেলায় নুতন যোগ দিয়েছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন শামুক প্রকৃতির উপকারী প্রাণী। তাই শামুক ধ্বংস করা অন্যায় এই প্রাণী পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে শামুক রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

ডেইলিরুপান্তর/আবির

  • 11
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ