কক্সবাজারে ২ পৌরসভা ও ১৪ ইউপি নির্বাচন: মহেশখালীতে গোলাগুলি, আহত-৫

কক্সবাজার জেলার চকরিয়া ও মহেশখালী পৌরসভা এবং চার উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদে ১ম ধাপের নির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলছে। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষনীয়। সবখানে পুুুুরুষদের চেয়ে নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি।

কক্সবাজারের মহেশখালী ও টেকনাফ সাবরাংয়ে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। সকালে মহেশখালী কুতুবজোম নয়াপাড়া কেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। তিনটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে । এসময় ৫ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কুতুবজোম ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে ।

টেকনাফের হোয়াইক্ষ্যং কাটাখালী ভোটকেন্দ্রে সকাল পৌনে ৯টায় দেখা গেছে, একটি বুথে ৩১ ভোট কাস্ট হয়েছে। এই কেন্দ্রে ৪৩০২ ভোট। বুথ সংখ্যা ১১টি। পুরুষদের চেয়ে নারী ভোটারের উপস্থিতি বেশ লক্ষণীয়। সকাল থেকে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। মেম্বার পদপ্রার্থী শাহীন শাহ জানান, ভোটাররা সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট সে প্রয়োগ করছে। সবার মাঝে স্বতঃস্ফূর্ততা আছে। কোন ঝামেলা শেষ পর্যন্ত যাতে ভোটের পরিবেশ থাকে প্রশাসনের নিকট অনুরোধ।

প্রিজাইডিং অফিসার প্রমতোষ বড়ুয়া জানান, সকাল ৮ টায় যথা সময়ে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। কোন ঝামেলা হয়নি। টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নে ব্যালট পেপার ছেড়ার অভিযোগে ২ জনকে আটক করা হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা নির্বাচন অফিসারের দেওয়া তথ্য মতে, মহেশখালী পৌরসভায় ভোটার সংখ্যা ১৯,৪৮৪ এবং চকরিয়া পৌরসভায় ৪৮,৭২৪ জন। মহেশখালীতে ১০টি ভোটকেন্দ্রে বুথ সংখ্যা ৫৯টি এবং চকরিয়া পৌরসভায় ১৮টি ভোটকেন্দ্রে ১৩৯টি বুথ রয়েছে। ২ পৌরসভায় মেয়র পদে ৮ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সংরক্ষিত নারী সদস্য ২৫ এবং পুরুষ কাউন্সিলর পদে ৭৬ জন প্রার্থী রয়েছে। পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও টেকনাফ- এই চার উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষ ১১ হাজার ২৩৪জন। সেখানে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৫৯ হাজার ৯৯৫ এবং মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ৫১ হাজার ১২ জন। চার উপজেলার ১৪০টি ভোকেন্দ্রে ৭৮০টি স্থায়ী এবং ১১৩টি অস্থায়ী ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে।

১৪ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৯২ প্রার্থী রয়েছেন। সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১৯৯ এবং পুরুষ মেম্বার পদপ্রার্থী হিসেবে ৭৭৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উল্লেখ্য, ২ পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ৩৩ জন। তাদের ১১ জন বহিস্কৃত। টেকনাফের চার ইউনিয়নে ২৫ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর মধ্যে ১৫ জন মাদক কারবারি। সেখানে একজন আত্মস্বীকৃত, যিনি কারাগার থেকে বেরিয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন।

এবারের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত অংশ গ্রহণ না করলেও তাদের অনেক শীর্ষ নেতা ভোটযোদ্ধে রয়েছেন। এমনকি, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী টেকনাফের হোয়াইক্ষ্যং ইউপিতে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি ওই ইউনিয়নের গত তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান।

ডেইলিরুপান্তর/আবির

  • 16
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ