শ্রীবরদী গারো পাহাড়ে সরকারি জমি দখল করে অবাধে চলছে সবজি চাষ, ক্ষতবিক্ষত গারো পাহাড়

শেরপুরের শ্রীবরদীতে বনবিভাগের জমি দখল করে অবৈধভাবে অবাধে সবজি চাষের অভিযোগ উঠেছে। ময়মনসিংহ বনবিভাগের শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুরি ফরেস্ট রেঞ্জ এলাকায় বনবিভাগের শতশত একর জমিতে সবজির আবাদ করা হচ্ছে।

স্থানীয় ভুমিদস্যুরা শতশত একর পাহাড়ি বনের জমি দখল করে অবাধে সবজি চাষ করে চলেছে। পাহাড়ি টিলা কেটে অবাধে সবজি চাষ করায় পাহাড়ে  ভূমি ধ্বসের সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতবিক্ষত হয়ে পরেছে গারো পাহাড়। স্থানীয়দের মতে পাহাড়ের টিলা কেটে অবাধে সবজি চাষ করায় বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ের মাটি ধ্বসে কর্নঝোড়ার পাহাড়ি ডেউপা নদীটি ভরাট হয়ে গেছে।

এ ছাড়া পাহাড়ের টিলা কেটে অবাধে সবজি আবাদের কারনে গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য বিনষ্ট হচ্ছে। জানা গেছে, গারো পাহাড়ের জমি দখল করে অবৈধভাবে সবজি চাষের প্রথাটি বেশকিছু দিন থেকে শুরু হলেও বর্তমানে তা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা গেছে, শতশত কৃষক শতশত একর পাহাড়ি জমি দখল করে  অবাধে সবজি আবাদের প্রতিযোগীতায় মেতে উঠেছে। পাহাড়ের যে স্থানে রয়েছে একটু ফাঁকা জায়গা সেখানেই দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে সবজি আবাদ। পরিস্থিতি দেখে মনে হয় এসব দেখার যেন কেউ নেই। বন কর্মচারীরা নিরব ভূমিকা পালন করে আসছেন।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন সবজি চাষীদের সাথে কথা হলে জানা গেছে, তারা বলের জমিতে সবজির আবাদ করতে প্রতিটি সবজি মৌসুমে বন কর্মকর্তাদের দিতে হয় একর প্রতি ২ হাজার করে টাকা। তারা জানান, প্রতি বছর এসব পাহাড়ি জমিতে ৩টি করে সবজির আবাদ করা হয়। এ ভাবে শতশত একর পাহাড়ি জমিতে অবাধে সবজির আবাদ করা হচ্ছে। উদ্ধার তৎপরতা না থাকায় দিনে দিনে বেদখল হয়ে যাচ্ছে বনের।

তবে বনবিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সবজি চাষিদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার বিষয়টি ষড়যন্ত্র। তাদের মতে ভূমিদস্যুরা প্রভাবশালী হওয়ায় বন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা মানছেন না তাড়া। এতে বন কর্মকর্তারা এক প্রকার নিরব ভূমিকা পালন করে আসছেন। ফলে দিনে দিনে বনের শতশত একর পাহাড়ি জমি বেদখল হয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে সৌন্দর্য হাড়াচ্ছে গারো পাহাড়।

এ বিষয়ে বালিজুরি ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, লোকবলের অভাবে বনের বেদখলীয় জমি উদ্ধারে তাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া বনের বেদখলীয় জমি উদ্ধারে বনবিভাগের পক্ষ থেকে মাঠে নামলেই শুরু হয় ভূমিদস্যুদের ষড়যন্ত্র। এতে ব্যাহত হয় জমি উদ্ধার প্রক্রিয়া।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/এস.

  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ