শেরপুরে নীতিমালার বেড়াজালে ঝুলে আছে দরিদ্র প্রতিবন্ধী শিশু জোনাকীর ভাগ্য!

জোনাকীরা সব সময় অন্ধকারেই আলো ছাড়ায়। কিন্তু শেরপুরের শ্রীবর্দী উপজেলার হত দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী শিশু জোনাকী দিনের আলোতেও অন্ধকার দেখছে। সাড়ে ৩ বছর বয়সের এ শিশু যখন হাত-পা ছুড়ে ছুটতে শিখবে আর মা-বাবা বলে ডাকতে শিখবে, ঠিক তখনই তার সব কিছুই বন্ধ হয়ে আছে, জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধীর কারণে। সার্বক্ষনিক সে তার মা’র কোলে থাকে। বিছানায় শুইয়ে দিলে পুরো শরীর নিথর হয়ে থাকে, শুধু মাত্র চোখ ছাড়া। জোনাকীর টলমল করা দু’চোখে তার অন্যসব শিশুর মতো স্বাভাবিক জীবনে বাঁচার স্বপ্ন ঝিলমিল করছে। কিন্তু কেবলমাত্র নীতিমালার বেড়াজালে পড়ে এ অসহায় ও দরিদ্র শিশুটি তার প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেনা। অর্থাৎ সরকারী নীতিমালায় রয়েছে ৬ বছর বযস পূর্ন না হলে সে প্রতিবন্ধী শিশুকে ভাতার আওতায় আনা যাবে না।

জোনাকীর বাবা জহুরুল একজন দিন মজুর। গ্রামের বাড়ী জেলার শ্রীবর্দী উপজেলার গড় জরিপা ইউনিয়নের ঘোরজান গ্রামে। অভাবের সংসারে স্ত্রী সাইদা, মা রহিমন, ৭ বছর বয়সের এক পুত্র সন্তান সজিব এবং সাড়ে তিন বছর বয়সের শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু কন্যা জোনাকীকে নিয়ে তার সংসার চলে এক বেলা-দু’বেলা খেয়ে না খেয়ে। জন্ম থেকে প্রতিবন্ধী এ শিশুকে নিয়ে অনেক চিকিৎসা করে অবশেষে অর্থের কাছে হেরে যায় তারা। এদিকে দিন মজুর জহুরুলের একার রোজগারে সংসার না চলায় মা-স্ত্রী ও প্রতিবন্ধী ওই শিশু কন্যাকে নিয়ে ভিক্ষের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন সাইদা।

প্রতিবন্ধী জোনাকীর মা সাইদা জানায়, কয়েক দিন আগে গ্রামের মামুন মেম্বার এর সহায়তায় মেয়েটাকে নিয়ে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে শ্রীবর্দী উপজেলা অফিসে যায়। ওখানে গিয়ে প্রতিবন্ধী কার্ডের জন্য রক্ত পরীক্ষা ও ছবি তোলাসহ অন্যান্য কাজ শেষ করে স্থানীয় সমাজ সেবা অফিসে গিয়ে জানতে পারে সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী কোন প্রতিবন্ধী শিশুর বয়স ৬ মাস পূর্ন না হলে তাকে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় নেয়া যাবে না। অবশেষে সাইদা ভগ্ন হৃদয়ে ফিরে আসে বাড়িতে। এরপর থেকে চিকিৎসা তো দূরের কথা পেটের ভাত জোগাতেই ভিক্ষের পথ বেছে নিয়েছে সাইদা ও তার শ্বাশুরি।

এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম জানায়, সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী ৬ বছর বয়স না হলে তাকে প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদানের কোন সুযোগ নাই। তাই এ বিষয়ে আমার কিছু করার নাই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সমাজসেবার অন্য একজন কর্মকর্তা জানায়, ৬ বছর বয়সের নিচে প্রতিবন্ধী শিশুর ভাতা প্রদান করার নীতিমালা না থাকলেও অন্য একটি সরকারী গ্যাজেটে দেশের সকল প্রতিবন্ধীকে ভাতার আওতায় আনা হবে বলা আছে। এখানে বয়সের কোন কথা নেই। সে হিসেবে শুন্য থেকে ৬ বছর বয়সের প্রতিবন্ধী শিশুর ভাতা দেয়া যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ওই কর্মকর্তা।

এদিকে স্থানীয় নাগরিক প্লাটফরম ‘জন উদ্যোগ’ এর সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জানায়, দেশে শুন্য থেকে ৬ বছর বয়সের হাজার হাজার শিশু রয়েছে যারা জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। কিন্তু আইনের বেড়াজালে হত দরিদ্র হলেও তারা প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছে না। অথচ প্রত্যেক মা-বাবার শিশু লালন-পালনের কষ্টকর সময়ই হচ্ছে শুন্য থেকে ৬ বছর। আর যদি হয় সে দরিদ্র পরিবারের তবে তার কষ্টের সীমা থাকে না। তাই সরকারের কাছে দাবী জানাই যেন সকল বয়সের প্রতিবন্ধীর ভাতা উন্মুক্ত করা হোক।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/এস.

  • 19
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ