জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর অসম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনে বদ্ধ পরিকর: জেলা প্রশাসক

সামাজিক বনায়নকে ঘিরে বাঙালি উপকারভোগী ও খাসিয়াদের মধ্যে সৃষ্ট চলমান বিরোধের নিষ্পত্তিতে জেলার সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে এক সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউপি মুরইছড়া বনবিট এলাকায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী চলা সমাবেশে বাঙালি-খাসিয়াদের সতর্ক করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হবে এমন কিছু করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন তারা। সাথে সামাজিক বনায়ন সঠিকভাবে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসক ৭ সদস্যের একটি কমিটিও ঘোষণা করেন।

সমাবেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহ্সান। হামলা পাল্টা হামলা, মামলা পাল্টা মামলার নিন্দা জানিয়ে জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। জাতির জনকের অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনে আমরা বদ্ধ পরিকর। উপজেলা প্রশাসন রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করে এদের সিদ্ধান্ত আপনাদের মানবে হবে।

চলমান দ্বন্দ্ব নিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, লংলা পাহাড়ে ১০৫নং দাগের মোট ২৮৬ একর জায়গার ১৪৫ একর নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। চলমান জায়গা নিয়ে কোনো কথা নেই। বাকী ১৪১ একর জায়গার ছোট কালাইগিরি ১০ হেক্টর (২৫ একর) জায়গায় উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে সামাজিক বনায়ন চলবে স্থানীয় খাসি ও বাঙালিদের নিয়ে। এতে খাসিয়ারা কোনো বাধা দিতে পারবে না। আর খাসিয়ারা সমতলে আসার পথে বাঙালিরা বাধা দিতে পারবে না। এমন কিছু হলে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সামাজিক বনায়ন চলবে। সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী বাছাইয়ে বন বিভাগের কড়া সর্তক করেন জেলা প্রশাসক।

জেলা প্রশাসক বলেন, কুলাউড়ার ইউএনও, সার্কেল এসপি, ওসি, স্থানীয় চেয়ারম্যান, রেঞ্জার, আদিবাসী প্রতিনিধি বাবলী তালাং, সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের প্রতিনিধি একজন সামাজিক বনায়নের ভালো মন্দ সিদ্ধান্ত দিবেন।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, এই বন রাষ্ট্রের, এই বন বন বিভাগের। বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, মালিকানা দেওয়া হয় নাই। আমরা রাষ্ট্রের বিধির আলোকেই দায়িত্ব পালন করব। অতি উপকারভোগী হয়ে খাসিয়াদের ওপর হামলা সহ্য করা হবে না।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ টি এম ফরহাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য দেন কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাদেক কাওছার দস্তগীর। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম সফি আহমদ সলমান, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রফিকুল ইসলাম রেনু, কুলাউড়া থানার ওসি বিনয় ভূষণ রায়, কর্মধা ইউপি চেয়ারম্যান এম এ রহমান আতিক, পৃথিমপাশা ইউপি চেয়ারম্যান নবাব আলী বাকর খান, বনবিভাগের পক্ষে রেঞ্জ অফিসার রিয়াজ উদ্দিন, খাসিয়াদের পক্ষে ফ্লোরা বাবলী তালাং ও উপকারভোগীদের পক্ষে হারিছ আলী।

সমাবেশে বনবিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়, কুলাউড়া উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে আগে বাঁশ ছিল। সেই বাঁশের পরিবর্তে এখন আছে পান। এখন আর বাঁশ নেই। মহালও নেই। ৪টি বাঁশ মহাল বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সামাজিক বনায়নেও আসছে বাঁধা। তবে সরকার ‘সিলেট বনবিভাগে পুন:বনায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন’ নামে প্রকল্প গ্রহণ করেছে। যার কার্যক্রম শুরু হবে।

খাসিয়া জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বলা হয়, বংশপরম্পরায় পান চাষ করে খাসি জনগোষ্ঠী জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। বন বিভাগ সামাজিক বনায়ন করুক, এটা আমরাও চাই। পাহাড়ের জমি বনভূমির হলেও আদিকাল থেকে বসবাস করা জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদ করা যায় না। এটি জাতিসংঘ সনদ ও আইএলও কনভেনশনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক এসব আইন এবং দেশের সংবিধান উপেক্ষা করে সামাজিক বনায়নের নামে পাহাড়ে বসবাসরত জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদ চালিয়ে যাচ্ছে বন বিভাগ। আমরা যেখানে বসবাস করছি, প্রাকৃতিক বনকে ধ্বংস করে সামাজিক বনায়নের নামে আদিবাসীদের উচ্ছেদের পাঁয়তারা বন্ধ, মিথ্যা ও হুয়রানিমূলক মামলার নিষ্পত্তি ও খাসিদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয় কতৃপক্ষের নিকট।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/টি.

  • 10
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ