দেড় বছর পর খুলছে স্কুল কলেজ, কি ভাবছেন সিলেটের শিক্ষার্থীরা

দেশে করোনা ভাইরাসের ( কোভিত-১৯) সংক্রমণ শুরুর পর গত বছর ১৭ মার্চ থেকে বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। তারপর দফায় দফায় বেড়েছে বন্ধের মেয়াদ। বিভিন্ন সময়ে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খোলার, পরীক্ষা নেওয়ার নানা পরিকল্পনা করা হলেও করোনার দাপটে কোনোটাই বাস্তবায়ন করা যায়নি। ক্লাস তো নয়ই, এই সময়ে কোনো পরীক্ষাও হয়নি। কেউ অটো পাস করে ওপরের ক্লাসে উঠে গেছে। ওপরের ক্লাসে উঠলেও ক্লাসরুমের দেখা পাননি।

তবে সেই দিনগুলোর অবসান ঘটতে যাচ্ছে খুব শীগ্রই। শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুর সদর উপজেলার মহামায়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের উদ্বোধন শেষে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দিপু মনি জানিয়েছেন, ‘‘১২ সেপ্টম্বর থেকেই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে পারবো৷ স্কুল-কলেজগুলো খোলার জন্য আমরা আগেই প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি৷

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলার খবরে সারাদেশের ন্যায় কৌতুহলের শেষ নেই সিলেটের শিক্ষার্থীদের মাঝেও। আমরা জানার চেষ্টা করবো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিমত।

সিলেটের উইমেন্স মডেল কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাইশা তারান্নুম নেওয়াজ ডেইলি রুপান্তর-কে বলেন, দেশের সকল প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হবে জেনে আমি এতো বেশি উল্লাসিত যে ১২ তারিখের অপেক্ষায় যেন তর সইছে না। আসলে আমাদের শিক্ষা জীবনে সুদীর্ঘ অবকাশ কিংবা ঘরোয়া পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের পূর্ব কোনো অভিজ্ঞতা না থাকায় নিজেদের অভ্যস্ত করে নিতে বেশ কষ্ট হয়েছে। মহামারীকালিন এ পরিবেশে আমাদের যেন দম বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছিলো। জানি না কবে পুরোপুরি সুস্থতা অর্জন করবে পৃথিবী, আমরা শুধু এটুকুতেই খুশি যে আস্তে আস্তে আমরা আবারো নিজেদের মেলে ধরার সুযোগটা পাচ্ছি; এখন শুধু অপেক্ষা ডানা ঝাপটে উড়াল দেবার।

সিলেটের সরকারি অগ্রগামী বালিকায় অধ্যায়নরত আরেক শিক্ষার্থী মাইশা ফারজানা রাইসা ভাবছেন ভিন্ন কথা তিনি বলেন, আমি মনে করি এই মুহূর্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খোলাই উত্তম। কারণ দেশের বর্তমান করোনা সংক্রমণ মোটেই নিয়ন্ত্রণে নয়। প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন মৃত্যুর মিছিল ও থাকছে না। তাই আমার মতে,করোনা পরিস্থিতিটা আরও একটু স্বাভাবিক হওয়ার পরে যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয় তাহলে ভালো হয়। বাহিরের অনেক দেশে,যেমন : আমেরিকা,জাপান তাদের দেশের করোনা পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হওয়ার পর তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দিয়েছে। কিন্তু আমরা সেই পরিস্থিতির মধ্যে এখন নেই।

সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সৈয়দ আফজাল সিয়াম বলেন,
প্রতিষ্ঠান খুলছে এতে আমাদের আনন্দের শেষ নাই। আমরা আবার সেই চিরচেনা জগৎ-এ ফিরে যাবো। আমরা আমাদের ক্লাসরুমের আড্ডা খুব মিস করি তবে এই কষ্টের দিনগুলো, বাসায় বসে দমবন্ধ হওয়ার দিনগুলোর অবসান ঘটতে যাচ্ছে আগামী ১২ তারিখে। আমি শিক্ষামন্ত্রী ডাঃদিপু মনি ম্যামকে ধন্যবাদ জানাই।

এবিষয়ে গোলাপগঞ্জ স্টুডেন্ট’স ফোরামের সভাপতি সাইফুর রহমান বলেন, এই সিদ্ধান্ত কে স্বাগত জানাই। তবে আমি মনে করি ১৫ বছরের উপরের শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন দিয়ে প্রতিষ্ঠানে ফিরলে আরও ভালা হত। কারণ ইতিমধ্যে অনেক দেশ প্রতিষ্ঠান খুলে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আবার বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।আমাদের সেই অবস্থা যেন না হয়। আর আমাদের সিলেট তো রয়েছে রেড জোনে । আমি আশা করি শাহজালালের পূণ্যভূমিতে প্রতিষ্ঠান খুল্লেও আমাদের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ থাকবেন।

এই মুহূর্তে প্রতিষ্ঠান খুলার প্রস্তুতি সম্পর্কে জানান জন্য সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড.রমা বিজয় সরকারের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।

ডেইলিরুপান্তর/আবির

  • 56
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ