ওসি শেখ নাজিম উদ্দিন ও আগামীর সম্ভাবনা

কৃতী মানুষেরা তাদের কর্মগুণে বেঁচে থাকেন। তাদের জীবনের সার্থকতা পরিমাপ করা হয় কর্ম দিয়ে। নিজের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব সুচারুরূপে পালনের মাধ্যমেই তারা মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। মুহূর্তেই হয়ে ওঠেন মানুষের মধ্যমনি। নতুন প্রজম্নের কাছে তারা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকেন। কর্মক্ষেত্রে ও ক্যারিয়ার গড়তে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে তারাই হন প্রেরণার উৎস্য। এমনই এক কর্মশীল ব্যক্তি ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাজিম উদ্দিন। যার ন্যায়, নিষ্ঠা ও দায়িত্বজ্ঞানে অভিভূত গোটা উপজেলার মানুষ। ঐতিহ্য, নাম ডাক, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও বাণিজ্যিক কলকারখানার দিক দিয়ে সিলেট বিভাগের কোনো অংশেই কম নয় সুনামগঞ্জের ছাতক। তবুও যেনো এই ছাতককে ঘীরে রেখেছিল কিছু অসাধু চক্র। গ্রাস করেছিল থানার সুনাম। ছড়িয়ে দিয়েছিল তাদের অপরাধ নেটওয়ার্ক। জন্ম দিয়েছিল একের পর এক ন্যাক্কারজনক ঘটনার। ছাতক থানা যখন অপরাধ কর্মকান্ডে তুঙ্গে, তখন এসব অপরাধীদের স্বমূলে উৎপাটন করতেই ডাক পড়ে ওসি শেখ নাজিম উদ্দিনের।

তিনি ছাতক থানায় যোগদানের পর থেকেই অপরাধ নির্মুলে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করেন। ছাতকে চাঁদাবাজ, ছিন্তাই, ডাকাতি, অপহরণ, ধর্ষণ, নারী-শিশু নির্যাতনসহ মাদক বিরোধী অপরাধিদের ধরতে সাড়াশি অভিযান শুরু করেন। অপরাধীদের কেন্দ্রবিন্দু, অপরাধের নিল নকশা, অপরাধীদের মদদ দাতা ও তাদের মূল হোতা, অপরাধকান্ডে ব্যবহৃত সোর্সসহ সব ধরণের তথ্য সংগ্রহ করে একের পর এক অভিযান আর আটক/ গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ইতিপূর্বে অপরাধীদের আতঙ্কের কারণ হয়ে ওঠেন এই কর্মকর্তা। তার এমন সফল কর্মকান্ডে ইতিপূর্বে সুনামগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে পুরস্কার অর্জন করেছেন। এদিকে ওসি শেখ নাজিম উদ্দিনের ভয়ে এখন অনেকটা নির্বিকার দিন যাপন করছে অপরাধীরা। কেউ কেউ ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে শ্রীঘরে রয়েছেন, আবার কেউ কেউ গ্রেপ্তার আতঙ্কে পলাতক হয়ে ফেরারি জীবন পার করছেন। নব্য মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীরাও নাজিম উদ্দিনের নজরে রয়েছেন। কেউ আবার গ্রেপ্তারও হয়েছেন। বিভিন্ন মামলায় দীর্ঘদিন থেকে পলাতক আসামিদের তালিকা হালনাগাদ করে তাদের গ্রেপ্তার করে থানায় আদালতের মাধ্যমে হাজতে পুরে দিয়েছেন তিনি।

এমতাবস্থায় ওসি নাজিম উদ্দিনকে ঘিরে ছাতক উপজেলায় আগামীর নতুন সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা মনে করছেন, ওসি নাজিম উদ্দিনের এমন কর্মতৎপরতার ফলে ছাতক থানাকে সম্পূর্ণরূপে অপরাধমুক্ত করা সম্ভব। আর এমনটি হলে ছাতকের নতুন প্রজন্ম পাবে একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু থানা। সেই সাথে ছাতকবাসী ফিরে পাবে তাদের পূর্বেকার সব ইতিহাস ঐতিহ্য। পত্রিকার পাতায় এ অঞ্চলের কোনো দু:সংবাদের স্থলে স্থান পাবে ছাতকবাসীর অর্জন ও সফলতার খবর। জানা যায়, ছাতক থানার ওসি নাজিম উদ্দিন ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণের দিক নির্দেশনায় এবং এসআই/ এএসআইসহ সকলের দক্ষতায় গড়ে তুলেছেন একটি টিম ওয়ার্ক। ওই টিমের মাধ্যমে তিনি থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে থাকেন। টিমের চৌকস অফিসারদের সহযোগিতায় সব কয়টি অপারেশনে (অভিযানে) তিনি সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, চলতি বছরেই ছাতক থানায় বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটন, চাঁদাবাজ, ধর্ষণ, ছিন্তাই, নারী নির্যাতন, ডাকাতি, ধর্ষণ চেষ্টাসহ মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীকে কয়েকশ’ আসামি গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন তিনি। এসমস্ত কাজে তার দক্ষতাও প্রশংসনীয়। ফলে তাকে পুরষ্কৃত করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। সুনামগঞ্জের জেলার শ্রেষ্ঠ ঘোষণা করে তাকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

সূত্রমতে, থানার আলোচিত বিষয় নদী পথে চাঁদাবাজী বন্ধে টহল জোরদার করে নিয়ন্ত্রণ করা। আনাচে-কানাচে পুলিশ সদস্যরা কম্বিং অপারেশন চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের চলমান কারবার ও ঘাটিগুলো তছনছ করে দেওয়াসহ ছাতক থানা পুলিশের সাহসী ও দক্ষ অফিসার শেখ নাজিম উদ্দিন এসমস্ত হার্ডথ্রব অপারেশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে এসব কাজের কৃতিত্ব একাই নিতে চান না তিনি। সব কাজের সহযোগী হিসেবে নিজের সহকর্মীদেরও কাছে টানেন নাজিম। তার অন্যতম সহকর্মী পুলিশের উপ-পরিদর্শক ও অন্যান্য অফিসারগণ অটুট মনোবল নিয়ে তার পাশে আছেন বিধায় তিনি থানার প্রতিটি জনপদে চালাচ্ছেন অভিযান। অপরাধ নির্মুলে জিরো টলারেন্স আর ডেমকেয়ার নীতিতে চলছেন তার শক্তিশালী অপারেশন দলের জন্য। সুতরাং, এসব কাজে তারাও অংশীদার বলে দাবি করেন ওসি নাজিম উদ্দিন।

তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীর অহংকার সুনামগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বিপিএম মহোদয় আমাকে সাহস ও অনুপ্রেরণা না যোগালে সন্ত্রাসী আর মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অভিযান পরিচালনা করা আমার পক্ষে সম্ভব হতো না। তিনি বলেন, ছাতকের জনসাধারন, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক মহলের মতো সৎ ও সাহসী মানুষেরা আমাদের সহযোগিতায় করায় ও পাশে থাকায় এবং পুলিশের উধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে। এভাবে ভবিষ্যতেও সকলের সহযোগিতার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। ওসি নাজিম উদ্দিন বলেন, পুলিশ জনগণের বন্ধু, জনগণের জান মালের নিরাপত্তার দায়িত্ব পুলিশের। তবে অপরাধীদের নিকট পুলিশ কখনও ভাল হতে পারবে না। মাঝে মধ্যে সুনামের পাশাপাশি বদনামও হয়, কারণ পুলিশ মাঠ পর্যায়ে জনগণের সাথে কাজ করে আর অপরাধী যারা তারা পুলিশকে সমালোচনায় ফেলার জন্য অনেক সময় অমেক কৌশল করে বদনাম ছড়ায়। এসব বিষয়ে কান না দিয়ে যেকোনো আইনী সেবার জন্য সরাসরি থানায় যোগাযোগ করার জন্য ছাতকবাসির প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। এদিকে চৌকস বাহিনী নিয়ে অপরাধ নির্মূলে নিরলস কাজ করার ফলে ছাতক থানায় প্রশংসায় ভাসছেন ওসি নাজিম উদ্দিন। ইতিপূর্বে ক্লুলেস মামলাসহ কয়েকশ’ ক্রিমিনাল মামলায় তিনি সফলতা অর্জন করেছেন। তিনি গত ০৪/১০/২০২০ তারিখে ছাতক থানায় যোগদানের পর থেকে ক্লুলেস মামলা ও চাঁদাবাজি চুরি-ডাকাতি, ছিন্তাই, নারী নির্যাতন, অপহরণ, হত্যাসহ শতাধিক মামলার আসামি গ্রেপ্তার করে ছাতকবাসীর মনে স্থান করে নিয়েছেন।

ডেইলিরুপান্তর/আবির

  • 9
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ