পিঁপড়ার ডিমে সংসার চলে তাদের!

ছবিঃ ঝিনাইগাতীর বাকাকুড়া গ্রামে পিঁপড়া পাড়ার দৃশ্য।

মাছ শিকারীদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহ করতে শেরপুরের ঝিনাইগাতীর সীমান্তে প্রায় শতাধিক আদিবাসী ও মুসলিম পরিবারের জীবিকার একমাত্র অবলম্ভন হয়ে দাড়িয়েছে পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করে তা বিক্রি করা। এ থেকে যা আয় হয়, তা দিয়েই কোন মতে চলে তাদের সংসার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার রাংটিয়া, নওকুচি, গান্ধিগাঁও, বাকাকুড়া ও গুরুচরণ দুধনই এলাকার আদিবাসী ও মুসলিম মিলে ১শ ৪৫ জন ব্যক্তি সরাসরি এ পেশার সাথে যুক্ত হয়েছেন।

৩/৪ জনের একটি দল করে সকালে গ্রামে- গন্জে, পাহাড়ে- জঙ্গলে পিঁপড়ের বাসা ও ডিম খোঁজার কাজে বেড়িয়ে পড়েন। কাজ করেন বিকেল পর্যন্ত। তাতে সারাদিনের কঠোর পরিশ্রমের ফলে ১ থেকে ২ কেজি ডিম সংগ্রহ করা যায়। ভাগ্য ভাল হলে আর অনুকুল পরিবেশ পেলে ২ থেকে ৪ কেজি পর্যন্ত ডিম পাওয়া যায়।

এ পেশায় নিয়োজিত বাকাকুড়া গ্রামের জুটন মারাক, রুপন সাংমা ও বিকিরণ মারাকের সাথে কথা হলে তারা এ প্রতিনিধিকে জানান, ঝিনাইগাতী উপজেলায় আমাদের সংগৃহীত  ডিমগুলো কেনার জন্য ৩ জন পাইকার আছেন। তারা হলেন, গান্ধিগাঁও গ্রামের নুর ইসলাম, বাকাকুড়া গ্রামের সিদ্দিক ও দিবেন সাংমা।

তারা জানান, উপযুক্ত মৌসুমে প্রতি কেজি ডিমের দাম পাওয়া যায় ৬ থেকে ৭শ টাকা। ডাল সিজনে ৩ থেকে ৪ শ টাকা। মহাজনরা তাদের কাছ থেকে ডিম ক্রয় করে শেরপুর, চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করেন। তবে কত টাকা কেজি দরে মহাজনরা বিক্রি করেন, তা তাদের জানা নেই।

ডিম সংগ্রহকারীদের ভাষ্যমতে বর্ষা কাল হচ্ছে মৌসুম আর শীতকাল হচ্ছে ডাল সিজন। দৈনিক ১ থেকে ৩ কেজি ডিম সংগ্রহ করে যে আয় হয় তা দিয়ে কি সংসার চালানো সম্ভব এমন প্রশ্নের জবাবে জুটন মারাক জানান, যখন করোনা আর লক-ডাউনের কারণে দেশের সার্বিক অবস্থা ভালনা। তখন আমরা সীমান্তবাসী কর্মহীন হয়ে মরে যাওয়ার চেয়ে বাধ্য হয়ে এ পেশা বেছে নিয়েছি। সামান্য যা আয় হয়, তা দিয়েই কোন মতে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছি। সরকার যদি সীমান্তবর্তী  এলাকায় কোন কর্মের ব্যাবস্থা করতেন, তাহলে আমাদের জন্য অনেক ভাল হতো।

অপরদিকে এলাকাবাসীরা সীমান্তবর্তী পাহাড়ী জনপদের কর্মহীন মানুষের জন্য প্রশাসনকে যে কোন উদ্যোগ গ্রহন করতে অনুরোধ করেছেন।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/এস.

  • 21
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ